এই পদ্ধতিতে হাঁসের মল দিন-রাত পুকুরে পড়ায় পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য (প্ল্যাংকটন, বটম ফুড) বৃদ্ধি পায়। ফলে মাছের খাদ্য খরচ কমে, মাছ দ্রুত বাড়ে, আর একই সঙ্গে ডিম + হাঁস + মাছ—তিন দিক থেকেই আয় হয়।
(ক) ভাসমান হাঁসের ঘর: ডিজাইন ও নির্মাণ
১) ভাসমান বেস (ড্রাম প্ল্যাটফর্ম)
ঘরটি দুটি ভাসমান ড্রাম (প্লাস্টিক/ফাইবার) এর উপর বসালে ভালো হয়।
ঘরটি পুকুরের যে কোনো স্থানে ভাসতে পারবে।
পাড়ে শক্ত খুঁটি/এংকর দিয়ে দড়ি বেঁধে রাখবেন যাতে
ঘরকে কাছে-দূরে আনা যায়
ঝড়/স্রোতে ভেসে না যায়
✅ সেফটি টিপস (আধুনিক আপগ্রেড)
ড্রামের সঙ্গে আড়াআড়ি বাঁশ/এঙ্গল-ফ্রেম শক্ত করে বাঁধুন (তরঙ্গেও দুলবে কম)
দড়ি ২ দিক থেকে বাঁধলে ঘর “ঘুরে” জট বাঁধবে না
ভারসাম্য ঠিক রাখতে ড্রামের দুপাশে সমান ওজন বণ্টন জরুরি
২) ঘরের জায়গা (স্পেস রুল)
প্রতিটি হাঁসের জন্য ২ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে।
উদাহরণ: ৬৬ হাঁস হলে ন্যূনতম ১৩২ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস দরকার।
৩) দরজা ও চলাচল
দরজা এত বড় হবে যাতে হাঁস মাথা উঁচু রেখে ঢুকতে পারে।
দরজার সামনে ছোট বারান্দা/র্যাম্প রাখলে হাঁস ওঠানামা সহজ হয়।
৪) আলো/ফাঁক-ফোকর
আপনার কথাটা ঠিকই:
ঘরের দেয়াল/ছাদে ফাঁক থাকবে না যাতে আলো ঢুকে হাঁস অস্থির না হয় এবং রাতে ডিম দিতে সমস্যা না হয়।
✅ তবে “আধুনিকভাবে” একটা ব্যালান্স রাখা ভালো:
আলো বন্ধ থাকবে, কিন্তু হাওয়াচলাচলের জন্য উপরের দিকে ছোট ভেন্ট (জালি/নেট দিয়ে ঢাকা) রাখা উত্তম—না হলে গরমে ভেতরে গ্যাস/গন্ধ জমে হাঁস অসুস্থ হতে পারে।
(ভেন্ট এমন হবে যাতে শেয়াল/বেজি/ইঁদুর ঢুকতে না পারে)
৫) মেঝে (ড্রপিংস ম্যানেজমেন্ট)
মেঝে বাঁশের চটা পাশাপাশি আটকে বানাবেন
চটার মাঝখানে সামান্য ফাঁক থাকবে যাতে তরল মল পানিতে পড়ে যায়
কিন্তু ফাঁক বেশি বড় হলে হাঁসের পা আটকে যেতে পারে—এটা খেয়াল রাখতে হবে।
৬) লিটার/খড় বিছানো
মেঝেতে ৬ ইঞ্চি পুরু খড় বিছিয়ে দেবেন
এতে হাঁস রাতে আরাম পাবে এবং ডিম পাড়ার জন্য উপযোগী পরিবেশ হবে।
✅ পরিচ্ছন্নতা রুটিন (ব্যবহারিক)
ভিজে গেলে খড় বদলাবেন
দুর্গন্ধ/আঠালো লিটার থাকলে রোগ বাড়ে, ডিম উৎপাদন কমে
৭) রাতের নিরাপত্তা (Predator control)
সন্ধ্যার পর দরজা ভালোভাবে আটকে
ঘর পুকুরের মাঝখানে ঠেলে দেবেন যাতে শেয়াল/কুকুর/বেজি/মানুষের উপদ্রব কমে।
এটা আপনার খুব ভালো পয়েন্ট।
(খ) হাঁস সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা (৬৬ শতকের জন্য)
১) কত হাঁস রাখবেন
৬৬ শতক পুকুরে ৬৬টি হাঁস রাখা যাবে
এর মধ্যে ৭টি পুরুষ হাঁস (ড্রেক) রাখা হবে
নোট: আপনি ডিম উৎপাদনের কথা ধরেছেন—ডিমের জন্য সাধারণভাবে পুরুষ হাঁস কম লাগলেও (কম রেশিও), আপনি যেভাবে দিয়েছেন সেটা আপনার মডেল অনুযায়ী রাখা যায়।
২) হাঁসের বয়স
৩–৪ মাস বয়সের হাঁস দিয়ে শুরু করা ভালো
হাঁস আনার পর পশুসম্পদ অফিস থেকে ভ্যাকসিন করিয়ে নেবেন
৩) ডিম শুরু ও উৎপাদন
১৭–১৮ সপ্তাহে ডিম দেওয়া শুরু
প্রতিটি মাদী হাঁস বছরে ১৮০–৩০০টি ডিম দিতে পারে (জাত/খাদ্য/পরিচর্যা ভেদে)
১ বছরে প্রতিটি হাঁসের ওজন প্রায় ২ কেজি হতে পারে
(গ) মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনা (৬৬ শতকের জন্য)
আপনার দেয়া স্টকিং প্ল্যানটা সাজিয়ে দিলাম:
১) পোনা সংখ্যা (প্রতি পোনার ওজন ১০০ গ্রাম ধরেছেন)
কাতলা: ৫২৮টি
রুই: ৫২৮টি
মৃগেল: ২৬৪টি
কমন কার্প: ২৬৪টি
➡️ মোট পোনা = ১৫৮৪টি
২) কখন মাছ ধরবেন
প্রতিটি ১ কেজি সাইজ হলে অথবা ১ বছর পর মাছ ধরবেন
৩) সম্ভাব্য উৎপাদন
১ বছর পরে ধরলে আনুমানিক ১০৫০ কেজি মাছ পাওয়া যেতে পারে
৪) মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনা
মাছের খাবারের প্রায় ৬০% আসবে হাঁসের মল থেকে
বাকি ৪০% দিতে হবে সম্পূরক খাদ্য দিয়ে
✅ আধুনিক টিপস (খুব কাজে লাগে)
যদি পানি খুব গাঢ় সবুজ/দুর্গন্ধ হয়, বুঝবেন জৈব লোড বেশি—তখন খাবার কমিয়ে পানি বাড়ানো/নতুন পানি/এ্যারেশন টাইপ ব্যবস্থা দরকার।
ভোরে মাছ “হাঁসফাঁস” করলে তা জরুরি সতর্কতা।
(ঘ) হাঁসের জাত ও দৈনিক খাবার
১) জাত নির্বাচন
খাঁকী ক্যাম্পবেল: লাভজনক (ডিম ভালো)
ইন্ডিয়ান রানার: মাছের সাথে সমন্বিত চাষে উপযোগী (আপনার কথামতো)
২) প্রতিদিনের খাবার (আপনার ফর্মুলা)
প্রতিটি হাঁসকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১০০ গ্রাম খাবার
মিশ্রণ:
চাউলের কুঁড়া ৫০%
পোল্ট্রি ফিড ৫০%
ঘরের সামনের বারান্দায় পাত্রে দিয়ে খাওয়াতে হবে
✅ ব্যবহারিক টিপস
ভেজা করে দিলে হাঁস ভালো খায় ও অপচয় কমে
তবে বেশি ভেজা করে রেখে দিলে টক/ফাঙ্গাস হতে পারে—খাবার টাটকা দিন
(ঙ) হাঁস/বাচ্চা সংগ্রহের উৎস
পশুসম্পদ বিভাগের আঞ্চলিক হাঁস খামার আছে (আপনার উল্লেখ):
খুলনা, কিশোরগঞ্জ
প্রতিটি জেলায় সরকারি পোল্ট্রি ফার্ম আছে
প্রশিকা, ব্র্যাক এর সাথেও যোগাযোগ করা যেতে পারে
দেশের বড় বড় পোল্ট্রি হ্যাচারিগুলোতেও হাঁসের বাচ্চা পাওয়া যায়
শেষ কথা: এই মডেল কেন “যুগোপযোগী”
এই ভাসমান ঘর মডেলে—
হাঁস নিরাপদ (শেয়াল/চোর কম)
মল সরাসরি পানিতে গিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য বাড়ায়
একই পুকুর থেকে মাছ + ডিম + হাঁস—ত্রিমুখী আয়










0 comments:
মন্তব্য করুন