Showing posts with label সাফল্যগাঁথা. Show all posts
Showing posts with label সাফল্যগাঁথা. Show all posts
কৃষক মোখলেছুর রহমান স্ট্রবেরী চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্ববলম্বী হয়ে উঠেছে
স্ট্রবেরী চাষ এখন লাভ জনক ফসল। শুধু স্ট্রবেরী চাষ করেই অনেক ক্ষুদ্র কৃষক তাদের
ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন। অর্থনৈতিকভাবে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পল্লীতে ভিনদেশি
সুস্বাদু স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন
অনেকেই। লাল টুকটুকে স্ট্রবেরী প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ২শ ৮০ টাকা থেকে ৩শ টাকা দরে।
এসব এলাকায় লাগানো স্ট্রবেরি ক্ষেত পরিদর্শনে আসছেন বিভিন্ন প্রান্তরের মানুষ। এই স্ট্রবেরী
চাষ করে অতি সহজেই লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক। তারা বাজরে এ স্ট্রবেরী বিক্রি করে অনেক
অর্থ উপার্জন করছে। এটি এখন অনেকেরে প্রধান আয়ের ব্যবস্থা।
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ঈদুলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের মোখলেছুর
রহমান প্রধান বিপ্লব এমনই একজন সাধারন কৃষক। ৩ বিঘা জমি নিয়ে স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেন
তিনি। এতে ধান-পাটের চেয়ে স্ট্রবেরী চাষ করে তিনি অনেক লাভবান হয়েছেন। এতে তিনি স্ট্রবেরী
চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। এক একর জমিতে স্ট্রবেরী রোপন থেকে উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত কৃষকের
ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। উৎপাদিত স্ট্রবেরী প্রতি কেজি ২শ ৮০ টাকা থেকে ৩শ টাকায়
বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে একর প্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা স্ট্রবেরী বিক্রি করছে কৃষক
মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব। তিনি বিশাল স্ট্রবেরী খামার গড়ে তুলেছেন। পরিবারের সবাই
তার খামারের পরিচর্যা করে থাকেন। এছাড়া এলাকার ১৬ জন কৃষিশ্রমিক তার জমিতে উৎপাদিত
স্ট্রবেরী চাষে কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারী শ্রমিকরাও কাজে সুযোগ পেয়েছে।
এসব কৃষিশ্রমিকরা খামারের স্ট্রবেরী তোলার পর তারা প্যাকেট করে গাইবান্ধা জেলা শহর
সহ রাজধানী ঢাকাতেও বিক্রি করছেন। এছাড়া ক্ষেতের স্ট্রবেরী তুলে নেওয়ার পর স্ট্রবেরী
চারাবীজ বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করে থাকেন। স্ট্রবেরী চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন
করছেন মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ¬ব। ধান- পাটের চেয়ে স্ট্রবেরী চাষে
অধিক লাভ বান হওয়া যায়। বিশেষ করে ফ্যাসটিবল, ডারবি ও রবি-৩, স্বাদ ও সুস্বাদু গুন
গত মান পুষ্টি সম্দ্ধ হওয়ায় বাজারে চাহিদা ও কদরবেশি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমের
শুরুতে অক্টোবরÑ নভেম্বর মাসে স্ট্রবেরী চাষের সহায়তার জন্য বিভিন্ন
প্রদশনী খামারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষন সহ নতুন নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে ধারনা প্রদান
করা হয়ে থাকে।
কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্ট্রবেরী
চাষে কৃষকদের উন্নত জাতের চাষ পদ্ধতি সর্ম্পকে প্রশিক্ষন প্রদান, প্রদর্শনী প্রকল্পের
আওতায় কৃষকদের পুর্নবাসনে চারা বীজ ও সার সরবারহ করা হয়েছে।
মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব জানান, ১ লাখেরও বেশি চারা বিক্রি হবে
হলে আশা করছেন। এই ক্ষেত থেকে তার প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে এবং স্ট্রবেরি উৎপাদনের
খরচ শুধুমাত্র চারা বিক্রি করে উঠে আসবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনূকুলে
থাকলে এই ক্ষেত থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে। বর্তমানে অনেক দোকানদার ও বাইরের লোকজন তার
উৎপাদিত স্ট্রবেরী কিনে নিচ্ছেন। আগামীতে আরো জমি নিয়ে স্ট্রবেরী চাষে ও মার্কেটিং
এ নামবেন বলে মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব আশাব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য স্ট্রবেরি বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় ফল। পৃথিবীতে যত রকম সুস্বাদু
ও পুষ্টিকর ফল আছে তার মধ্যে স্ট্রবেরী অন্যতম। আমেরিকার ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিঞ্জানীরা দেখেছেন, স্ট্রবেরীতে জীবন রক্ষাকারী নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে আছে
ভিটামিন এসি ইকেবি-সিক্স, ওমেগা-৩ এবং ফলিক এসিড, মেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, পলিফেনল।
এলাজিক ফেরালিক এবং কুমারিক এসিড, কুয়ের মিটিন, জ্যান্থোমাইসিডিন এবং ফাই টোস্টেরল।
এর মধ্যে এলার্জিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধী পৌঢ়ত্ব প্রতিরোধী। এমন কি এইডস রোগ প্রতিরোধী
হিসেবেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্ট্রবেরী খেলে মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
পায়। এটি শরীরের উচ্চ রক্ত চাপ কমায়। যার ফলে হ্নদরোগের সম্ভবনা কমে যায়। নিয়মিত খেলে
পাকস্থলী, অন্ত্রে ও চর্ম রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি শরীরের কোলেস্টেরল কমায়। স্ট্রবেরী
খেলে মনে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গেটে বাত, ফোড়া থেকেও শরীরকে রক্ষা করে বলে জানা
গেছে।
ঈশ্বরদীর আকমল পোল্ট্রি খামার করে আজ স্বাবলম্বী
ঈশ্বরদী
উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত আনার আলী
প্রামানিকের প্রথম পুত্র মোঃ
আকমল হোসেন বেকারত্বের সাথে
লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে পোল্ট্রি খামার
করে আজ তিনি একজন
সফল পোল্ট্রি খামারী। বাবা
মারা যাওয়ার পর চোখে
তিনি শরসে ফুল দেখতে
পান। দুই
ভাই এক বোনের মধ্যে
আকমল সবার বড় হওয়াতে
পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তার
উপর এসে বর্তায়।
কি করবেন ভেবে পান
না। উচ্চ
মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় বাবা
মারা যাওয়াতে তিনি আর লেখা
পড়া করতে পারেননি।
নিজ বসতবাড়ির পাশেই পোল্ট্রি খামার
করে তার সংসারের অর্থের
যোগান দেন আকমল।
আকমল নিজে পোল্ট্রি খামার
করে এলাকার অন্যান্য বেকার
যুবকদেরও পোল্ট্রি খামারে উদ্বুদ্ধও করেছেন।
আকমল জানান, বাবা একজন
ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি মারা
যাওয়াতে অর্থের সংকট হওয়াতে
এলাকার এক বড় ভাইয়ের
পরামর্শে যুব উন্নয়ন থেকে
পোল্ট্রি, গবাদী পশু ও
মাছের উপর তিন মাসের
প্রশিক্ষন নেন। প্রশিক্ষন
নিয়ে এসে নিজ বাড়িতেই
সোনালী জাতের ৫০টি মুরগী
পালন শুরু করেন।
সেই থেকে আর থেমে
থাকেননি আকমল। মুরগী
পালন করে তিনি গোটা
বছরের পারিবারিক ডিমের ও মুরগীর
চাহিদা মিটানোর পর ডিম ও
মুরগী বিক্রি করে বাড়তি
কিছু আয়ও করতে থাকেন। এরপর
থেকে তিনি তার খামারকে
করতে থাকেন।
বর্তমানে তার খামারে ৩
হাজার ২ শত মুরগী
রয়েছে। প্রতিদিন
তিনি ১০ থেকে ১২
হাজার টাকার ডিম বিক্রি
করে থাকেন। আকমল
বলেন, ডিম বিক্রির টাকা
থেকে যে মূনাফা পেয়েছি
তা দিয়ে ছয় বিঘা
জমি ক্রয় করেছি।
একটি পাকা বিল্ডিংও দিয়েছি।
প্রসারিত
এ আর এস পোল্ট্রি
খামারের স্বত্ত্বাধিকারী আকমল আরও বলেন,
মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে পরিবেশ
বান্ধব একটি বড় মাপের
বায়োগ্যাস প্লান্ট করেছি এতে নিজের
পরিবারের রান্নার কাজ শেষ করে
অন্য আরও দুইটি পরিবারে
সাপ্লাই দিতে পেরেছি।
এতে কিছুটা হলেও রান্নার
কাজে দেশের গাছ, কাঠ
বেঁচে যাচ্ছে। তিনি
বলেন, আমার আর্থিক অবস্থা
এবং পোল্টি খামার দেখে
অনেক বেকার ছেলে পোল্টি
ও গবাদী পশুর খামার
করে তারাও আর্থিক ভাবে
স্বাবলম্বী হয়েছে। আকমল
বলেন, আগামীতে একটি পোল্টি ও
পশু ক্লিনিক স্থাপন এবং খামারটি
আরও বেশি প্রসারিত করতে
চাই। একই
সাথে এলাকার বেকার ছেলেদের
আত্ম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আকমল
বলেন, আমার খামারের পাশের
রাস্তা খারাপ হওয়াতে ডিম,
মুরগী বাজারে আনা নেয়াতে
নানা সমস্যা হয়।
অনেক সময় ডিম ভেঙ্গে
যায় এতে আমার আর্থিক
ক্ষতি হয়। তিনি
তার খামারের রাস্তাটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, চাকরী
নামের সোনার হরিণের পেছনে
না ঘুরে পোল্টি খামার
করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
এতে বেকারত্ব ঘুচবে এবং আর্থিক
ভাবে লাভবান হওয়া যায়। তিনি
শিক্ষিত বেকার যুবকদের পোল্টি
খামার করার জন্য আহ্বান
জানান।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণী সম্পদ
কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলেন,
আকমল হোসেন পোল্ট্রি খামার
করে সে এখন ঈশ্বরদীর
একজন মডেল খামারী হিসেবে
পরিচিতি লাভ করেছেন।
দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত আনার আলী
প্রামানিকের প্রথম পুত্র মোঃ
আকমল হোসেন বেকারত্বের সাথে
লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে পোল্ট্রি খামার
করে আজ তিনি একজন
সফল পোল্ট্রি খামারী। আকমল
পোল্ট্রি খামার করে কিছুটা
হলেও দেশের মুরগী ও
ডিমের চাহিদা পূরণ করছে। সেই
সঙ্গে পুষ্টির যোগানও দিচ্ছেন।
আকমল সঠিক পদ্ধতিতে পোল্ট্রি
খামার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন। আকমলের
দেখা দেখি ওই এলাকার
যুবকদের মধ্যে পোল্ট্রি খামারের
প্রতিযোগিতা চলে এসেছে।
আকমল এভাবে তার পোল্ট্রি
খামারের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে
আগামীতে আরও ভালো করবে
বলে আশা পোষণ করছি।
বেকার যুবক উজ্জল এখন স্বাবলম্বী স্ট্রবেরি চাষ করে
নওগাঁয়
স্ট্রবিরি চাষ করে সফলতা
অর্জন করেছেন এক শিক্ষিত
বেকার যুবক সালাউদ্দিন উজ্জল। তাই
সরকারি বা বেসরকারি চাকরির
প্রত্যাশা করেন না তিনি। স্ট্রবেরি
আর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান আঙ্গুর
চাষ করে তিনি জীবনের
স্বপ্নপূরন করতে চান।
সালাউদ্দিন উজ্জল (৩৫) নওগাঁ
শহরের কোমাইগাড়ী মহল্লার সৈয়দ আলীর পুত্র। বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে সর্বচ্চো ডিগ্রী লাভ করার
পর চাকরির প্রত্যাশায় ঘুরে
ঘুরে কুলকিনারা না পেয়ে অবশেষে
স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় কাজ খুঁজে
ফিরতে থাকেন। এক
পর্যায়ে তিনি কৃষি উৎপাদনের
মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে
স্বাবলম্বিতা অর্জনের পথ খুঁজে নেন।
চট করেই অন্যদের থেকে
আলাদা করা যায় খেতটি। মাঠজুড়ে
সারি সারি বেড।
বাগানের সারি সারি বেডের
ওপর শোভা পাচ্ছে লাল
টসটসে চোখ জুড়ানো স্ট্রবেরি। মাঠের
মাঝখানে বসে ফল তুলছেন
এক চাষি। ফল
তোলার আনন্দ তাঁর চোখেমুখে। শহরের
জেলখানার পশ্চিম পার্শ্বে এলাকায়
এই দৃশ্য চোখে পড়ে। স্ট্রবিরি
চাষ করে সফলতা অর্জন
করেছেন উজ্জল। অথচ
তিনি আগে কখনো চাষবাস
করেননি। ছিলেন
শিক্ষিত বেকার যুবক।
প্রথমে যখন চাষ শুরু
করেন অনেকে নিরুৎসাহিত করেছেন। লোকসানের
ভয় দেখিয়েছেন। তার
পরও দমে যাননি।
এগিয়েই গেছেন।
উজ্জল
জানান, একদিন টেলিভিশনে কৃষিবিষয়ক
অনুষ্ঠানে স্ট্রবেরি চাষের ওপর অনুষ্ঠান
দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন
এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
পরিকল্পনামতে
তিনি শহরের জেলখানার পশ্চিম
পার্শ্বে ৩ বিঘা জমি
লিজ নেন। বার্ষিক
প্রতি বিঘা জমি ১০
হাজার টাকা করে মোট
৩০ হাজার টাকা প্রদানে
চুক্তিবদ্ধ হন। সে
জমিতে গত ২ বছর
ধরে স্ট্রবেরি ও আঙ্গুর চাষ
শুরু করছেন। গত
বছরের সফলতা সফলতা প্রাপ্তির
ফলে এ বছরও তিনি
ওই ৩ বিঘা জমিতে
স্ট্রবেরি চাষ করেছেন।
অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে
চারা রোপণ করেন।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্ট্রবেরি উঠতে
শুরু করে। এপ্রিলের
মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন হবে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় তার বাগান
থেকে স্ট্রবেরি সরবরাহ করা হচ্ছে।
আবার
সরাসরি ফসলের ক্ষেত থেকেও
পাইকারি কিনা নিয়ে যাচ্ছেন
ব্যবসায়ী
রা। তার
এই ক্ষেতের স্ট্রবেরির চাহিদা রয়েছে, একথা
জানা উজ্জল। তিনি
আশা করছেন এ বছর
প্রতি বিঘা জমি থেকে
৩ হাজার ২শ কেজি
স্ট্রবেরি উৎপাদন হবে।
সেই হিসেবে ৩ বিঘায়
উৎপাদিত হবে ৯ হাজার
৬শ কেজি। বর্তমান
বাজার মূল্য অনুযায়ী তিনি
পাইকারি বিক্রি করছেন প্রতি
কেজি স্ট্রবেরি ২শ টাকা হারে। এ
হিসেবে উৎপাদিত স্ট্রবেরির বিক্রি মূল্য ১৯
লাখ ২০ হাজার টাকা।জমি লিজ, চারা, সার, ফসফেট, কীটনাশক, লেবার খরচ বাবদ বাদ দিয়ে কেবলমাত্র স্ট্রবেরি উৎপাদন করে এ বছর তার নিট মুনাফার পরিমাণ কমপক্ষে ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়াও আঙ্গুরের মৌসুম থেকেও তিনি আয় করবেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। স্ট্রবেরি চাষ করে কেবল তিনি নিজেই লাভবান হয়েছেন তাই নয়। অন্যদেরও স্ট্রবেরি চাষে প্রত্যক্ষ সহযোগীতা দিয়ে উৎপাদিত করছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগীতা ও পরামর্শে গাজীপুর, গাইবান্ধা, খুলনা, নাটোর, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২২টি স্ট্রবেরি বাগান তৈরি করে দিয়েছেন। উজ্জল জানান, আমার সুদিন শুরু হয়েছে। আগামী বছর চাষ আরও বাড়াব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম
নুরুজ্জামান মন্ডল উজ্জলের স্ট্রবেরি
ক্ষেত সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন।
তিনি জানান, কয়েক বছর
ধরে নওগাঁ জেলায় বিভিন্ন
এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ শুরু হয়েছে
এবং যারা চাষ করেছেন
তারা লাভবান হচ্ছেন।
বর্তমানে স্ট্রবেরি চাষ খুবই লাভজনক
বলেও তিনি জানান।
মেহেরপুরের কৃষকরা আগাম কপি চাষ করে সফল
পাতাকপি-ফুলকপি এখন আর
শুধু শীতের সবজি নয়। সারা
বছরই বাজারে মেলে এই
কপি। মৌসুম
না হলে দাম একটু
বেশি হাঁকায় বিক্রেতারা।
তবে দাম যা হোক
ক্রেতারা অসময়ে শীতের সবজি
পেয়ে খুশি মনেই কেনে। অবশ্য
আগাম এ কপির স্বাদ
ও গন্ধ অনেকটাই আলাদা। এর
পরও চাহিদা থাকায় কৃষকরাও
ঝুঁকেছে শীতের আগাম কপির
চাষে।
কয়েক বছর ধরে মেহেরপুরে
বেড়েছে অসময়ে কপির চাষ। কৃষকরা
মনে করে শীতকালে কৃষকদের
কপিচাষে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই
যায়। আগাম
কপিচাষ করতে পারলে এবং
কপি ভালো হলে লোকসানের
ভয় থাকে না।
কৃষকরাও বলছে তাদের বাস্তব
অভিজ্ঞতা দিয়ে আগাম কপির
চাষ করতে পারলে লোকসান
হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই কম।
মেহেরপুরের
গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের ফুলকপির চাষি আকবর আলী
জানান, শীতকালের ফুলকপি বৃষ্টি সহ্য
করতে পারে না।
তাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
হয়। কিন্তু
আগাম চাষ করা ফুলক
পি
এ ধরনের নয়।
সাধারণত একটু উঁচু জমিতেই
ফুলকপির চাষ করা হয়। চারার
গোড়ায় পানি দাঁড়িয়ে না
গেলে কপির ক্ষতির আশঙ্কা
থাকে না। সে
কারণেই তিনি কপির চাষ
করে আসছেন চার বছর
ধরে। প্রতিবিঘা
কপির চাষ করতে সর্বোচ্চ
২৫ হাজার টাকা খরচ
হয়। এক
বিঘা জমিতে ছয় হাজার
কপি চাষ করা যায়। প্রতিটি
কপি ১০ টাকা করে
বিক্রি করলেও ৬০ হাজার
টাকা পাওয়া যায়।
প্রতিবিঘা কপিতে লাভ দাঁড়ায়
৩৫ হাজার টাকা।
দাম আরো একটু বেশি
হলে লাভ অনেক বেড়ে
যায়। কপির
চাষ করে মাত্র ৯০
দিনের মধ্যে তা বাজারজাত
করা যায়।
একই গ্রামের কপিচাষি রমজান আলী জানান,
শীতে কপির চাষ করে
তিন বছর ধরে শুধু
লোকসান গুনতে হয়েছে।
দুই বছর ধরে আগাম
পাতাকপি চাষ করে তিনি
লাভবান হচ্ছেন। মেহেরপুর
সদর উপজেলার কপিচাষি ডাবলু হোসেন জানান,
গতানুগতিক ফুলকপি ও পাতাকপি
চাষে অনেক লোকসান হয়। কিন্তু
গ্রীষ্মকালীন কপির চাষ করে
ক্ষতি তেমন নেই।
লাভের পাল্লা ভারী থাকে
সব সময়। তিনি
এক যুগ ধরে টেংগার
মাঠ গ্রামে ৫০ বিঘা
করে পাতাকপি ও ফুলকপি চাষ
করেন। গত
বছর ভালো লাভ হয়। এবারও
তিনি উৎপাদন খরচ তুলে
ফেলেছেন। এখন
২০ বিঘা কপি আছে। যার
সবই লাভ। তবে
আগাম কপিচাষ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। লাগাতার
বৃষ্টি লেগে থাকলে কপি
বাঁচিয়ে রাখা যায় না।
মেহেরপুর
জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের
উপপরিচালক চৈতন্য কুমার দাস
জানান, এবার শীতের আগাম
কপিচাষ হয়েছে দুই হাজার
২০০ হেক্টর জমিতে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার
কপিচাষিরা লাভের মুখ দেখছে।
ফেইজবুকে আমরা
-
তেলাপিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের মৎস্য চাষে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে । স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও এর উচ্চ বাজার ...
-
স্বাদু জলের পুকুরে গলদা চিংড়ি চাষ: লাভজনক চাষের পূর্ণাঙ্গ গাইড (একক ও মিশ্রচাষ) আমিষভোজী মানুষের প্রিয় খাদ্য মাছ—আর মাছের পাশাপাশি চিংড়িও...
-
আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় দুধের উৎপাদন কম । ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে আপনিও পারেন এ খাত থেকে আয় করতে । ডেইরি ...
-
পাউলোনিয়া পরিচিতি পাউলোনিয়া Paulowneaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী একটি অতি দ্রুতবর্ধনশীল কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ। এর পাতা খুবই বড়...
-
ডা. মনোজিৎ কুমার সরকার অদ্ভুত এক জলচর পাখি হাঁস , পৃথিবীর সব হাঁস এসেছে বুনোপাখি ম্যালরড থেকে , আর পৃথিবীর সব উন্নত জাতের হাঁসের সৃষ্ট...













