Showing posts with label ফসল. Show all posts
Showing posts with label ফসল. Show all posts

মূল্যবান জিরা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়

জিরা একটি মূল্যবান মশলা। বিশ্বে গুটি কতেক দেশে এর চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে আছে ইরান, ভারত, মিসর ইত্যাদি। বাংলাদেশে পরীক্ষামুলকভাবে বিভিন্ন জেলায় এর শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া জিরা চাষের জন্য খুবই অনুকুল।

এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জিরার চাষ করে সফল হয়েছেন  ভোলার চাষি উৎপল চন্দ্র দাস, মোছলেহউদ্দিন, বাবুল, রায়হান, বেলায়েত, মনির, আঃ লতিফ, মোঃ আকবর হোসেন, মোঃ হানিফ প্রমুখ।
জিরার বীজ: জানা যায়, বাজারে যে জিরা পাওয়া যায় সেই জিরা বীজই শুকনা অবস্থায় বপন করে এই জিরা চাষ করা সম্ভব। অথবা পাশের দেশ ভারত থেকেও উন্নতমানের জিরা বীজ সংগ্রহ করা যায়।

জিরা চাষ: জিরা ভিজানো যাবে না এবং পরিমিত জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে মাটি ভালোভাবে গুঁড়া করে জিরা বুনতে হয়। প্রতি ১ শতাংশ জমিতে টিএসপি ৬শ গ্রাম, এমওপি ৩শ গ্রাম এবং জৈব সার ৩শ গ্রাম দিতে হবে। জিরার বীজ বুনার পর মাটি ভালভাবে সমান করে মিশিয়ে দিতে হয়। বীজ বুনার পর চারার বয়স ১৫/২০ দিন হলে ১ বার ও ফুল আসার পর ১ বার পানি দিতে হবে। বীজ বোনার ২৫-৩০ দিন পর জমির আগাছা তুলে ফেলতে হয় এবং মাটি আলগা করে দিতে হয়। ১০ থেকে ১৫ টন জৈব সার ব্যবহার করতে হয় জ
মিতে। বৃষ্টি হওয়ার পর হেক্টরপ্রতি ২০ কেজি নাইট্রোজেন এবং ২০ কেজি ফসফরাস সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি চাষের জন্য মাঠে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। তবে লক্ষ রাখতে হবে, পানিতে যাতে চারা উপড়ে না যায়। জিরার বীজ সাধারণত বপন করার ৯ থেকে ১২ দিনের মধ্যে অঙ্কুরোদ্গম হয়। মাটির আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে জমিতে পানি জমে না থাকে। ১০০/১২০ দিনের মধ্যে কৃষক জিরার ফসল ঘরে তুলতে পারবে। গাছ কেটে অথবা মূলসহ উৎপাটন করে দুই দিনের মধ্যে শস্য আলাদা করে রোদে শুকাতে হয়।

ফলন: ভালভাবে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ কেজি ফলন পাওয়া যায়।

রোগবালাই: জিরায় সাধারণত শুয়াপোকা, জাবপোকা, সাদা গুঁড়ো রোগ, ধসা রোগ, ঝিমিয়ে পড়া রোগ ইত্যাদি রোগবালাই দেখা দেয়।

ভোলার মনপুরার উপজেলার ১০টি স্পটে পরীক্ষামূলকভাবে জিরার চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মনপুরা ইউনিয়নে ২টি, হাজির হাট ইউনিয়নে ৪টি, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে ২টি ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ২টি স্থানে জিরার চাষ করা হয়েছে। সাদা জিরা, মিষ্টি জিরা (মৌরি), কালিজিরা, মোতি, ধনিয়া, পোস্তদানা (রাস্কুনী) সব ফসলই উপকূলের এই দ্বীপে চাষ হচ্ছে।

চাষি উৎপল চন্দ্র দাস জানান, বাজার থেকে ১শ গ্রাম সাদা জিরা এনে ২ শতাংশ জমিতে বপন করেন তিনি। কোন রোগ-বালাই ছাড়াই যেভাবে জিরার গাছ বেড়ে উঠছে এবং ফুল দেখা যাচ্ছে তাতে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজার দর ও লাভ: জিরা চাষে স্বল্প ব্যয়ে অধিক আয়ের পাশাপাশি রোগ-বালাইয়ের প্রকোপও কম। এর দাম বেশি। তাই লাভের সম্ভাবনাও বেশি। ১ শতাংশ জমিতে জিরা চাষ করতে ২শ টাকা খরচ হয়েছে। আর ১ শতাংশ জমিতে জিরা উৎপাদন করা যাবে ২ থেকে আড়াই কেজি। যার বাজার মূল্য হবে ১ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাহবুবার রহমান বলেন, জিরা চাষ করে অনেক চাষি স্বাবলম্বী হয়েছেন। জিরা চাষিদের কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করছে।

নওগাঁর পত্নীতলায় একটি বেসরকারি কৃষি খামারে জিরা চাষের সফলতা দেখে এলাকার চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া গ্রামে ব্রাদার্স এগ্রো নামের একটি প্রাইভেট কৃষি খামারে প্রথমবারের মতো জিরা চাষ শুরু হয়। ওই গ্রামের তিনভাই দীপক চক্রবর্তী, পুলক চক্রবর্তী এবং অশক চক্রবর্তীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা ব্রাদার্স এগ্রো কৃষি খামারের ২২ শতক জমিতে ভারত থেকে পাটনা জাতের জিরার বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো জিরা চাষ শুরু করা হয়। পুলক চক্রবর্তী জানান, প্রথমবার তাদের খামারের ওই পরিমাণ জমিতে হালচাষসহ সার, বীজ ও পরিচর্যায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পরিমাণ টাকা খরচের মাধ্যমে চাষাবাদকৃত ২২ শতক জমি থেকে ৪ মাসের মাথায় ৮৫ কেজি জিরা উৎপাদন হয়। তিনি জানান, যশোর সদর, টাঙ্গাইল সদর, শেরপুর সদর, দিনাজপুরের মিঠাপুকুর ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কয়েকজন বীজ ব্যবসায়ীর কাছে ৮০ কেজি জিরা বীজ হিসেবে বিক্রি হয় ৪০ হাজার টাকায়। জিরা চাষে সফলতা পেয়ে এ প্রাইভেট কৃষি খামারে এ বছর ৫০ শতক জমিতে জিরা চাষ শুরু করা হয়েছে।

ফরিদপুরের জনৈক চাষী মোঃ আমিনুজ্জামান এর চাষ করেছেন সম্প্রতি। তার এ চাষ এটাই প্রমাণ করলো যে, আমাদের দেশেও সহজে এর চাষ করা যায়। তিনি মাস কয়েক আগে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে সামান্য পরিমাণে জিরার বীজ সংগ্রহ করেন। সেই বীজ প্রায় আট শতাংশ জমিতে লাগিয়ে জিরা উৎপাদনে সক্ষম হন প্রায় ২০ কেজি। তিনি এক সময় বিদেশে ছিলেন। শিক্ষিতও। বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাল বেতনে চাকরি করার সুযোগ হয়নি। ব্যবসায়ও তেমন সফল হতে পারিনি। আমিনুজ্জামানের এক আত্মীয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে চাকরি করেন। তিনি আমিনুজ্জামানকে চাষাবাদ করার পরামর্শ দেন। বলেন, তোমার তো পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে প্রায় ১৫ একর জমি আছে। এই জমিতে বছর জুড়েই নানা ধরনের ফসল চাষ করা যায়। তাতে আর্থিক কষ্টও দূর হবে। তার পরামর্শে আমিনুজ্জামান বছর কয়েক আগে আলু, ধনিয়া, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি চাষ করেন। এগুলো চাষ করে তিনি ভালই লাভ পান।

আমিনুজ্জামান পত্রিকায় জিরা চাষ নিয়ে লেখা একটি প্রতিবেদন পড়েছেন। এটি পড়ার পর থেকে তিনি মনে করেন তিনিও এর চাষ করবেন। যেমন প্রতিজ্ঞা তেমনি তার বাস্তবায়ন। যে প্রতিবেদনটি তিনি পড়েছিলেন সেটি লেখেছেন গাজীপুর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এক ব্যক্তি। আমিনুজ্জামান উক্ত গবেষণা কেন্দ্রের এক লোক মারফত ৫০০ টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াইশ গ্রাম জিরার বীজ আনান বিদেশ থেকে। তবে বীজ পেতে একটু দেরি হয়ে যায়। সময়মত এ বীজ হাতে পেলে আরো ভাল ফল পেতেন বলে তিনি জানান।


জমিতে সেচ দিয়ে তা রোপন করা হয় গত ১ ডিসেম্বর। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার এ সাফল্য দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছেন জেলা মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ফরিদপুর জিরা উৎপাদনের জন্য অতি সম্ভাবনাময় একটি স্থান। কারণ এখানে এর চাষে প্রায় সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এ অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগাতে পারলে এর চাষ করা হবে দেশের অন্যান্য স্থানেও। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা আরো বলেন, বাণিজ্যিকভাবে জিরা চাষের ক্ষেত্রে ফরিদপুর হতে পারে একটা মডেল। শুধু-ফরিদপুর নয় বরং গোটা দেশই এক সময় এর চাষের মডেল হতে পারবে।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা সদরের অশোক চক্রবর্তী। তিনি তার নিজের ৮ শতাংশ জমিতে জিরা চাষ করে বীজ হিসেবে বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। অশোক চক্রবর্তী মনে করেন তিনি বাংলাদেশে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জিরা চাষ করেছেন।নওগাঁ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এস এম নুরুজ্জামান জানান, আমাদের দেশে জিরা চাষের ব্যাপকতা নেই। তবে তিনি মনে করেন এ দেশে জিরা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে জিরা চাষ করলে দেশে জিরা আমদানির ওপর চাপ কমে যাবে। ফলে বাজারে এর দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা গ্রামের জিয়াউর রহমান নামে এক কৃষক কৌতুহলবশত ৬ শতক জমিতে জিরার চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মিশর থেকে একশগ্রাম বীজ এনে বপণ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। আর ফসল ওঠার আগেই তার ক্ষেতের জিরার দাম হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা। জিরা চাষের এমন খবর শুনে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জিয়াউর রহমানের জিরার ক্ষেতে ভিড় করছেন এবং বীজ সংগ্রহ করে চাষের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।



কৃষক মোখলেছুর রহমান স্ট্রবেরী চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্ববলম্বী হয়ে উঠেছে

স্ট্রবেরী চাষ এখন লাভ জনক ফসল। শুধু স্ট্রবেরী চাষ করেই অনেক ক্ষুদ্র কৃষক তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেছেন। অর্থনৈতিকভাবে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পল্লীতে ভিনদেশি সুস্বাদু স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। লাল টুকটুকে স্ট্রবেরী প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ২শ ৮০ টাকা থেকে ৩শ টাকা দরে। এসব এলাকায় লাগানো স্ট্রবেরি ক্ষেত পরিদর্শনে আসছেন বিভিন্ন প্রান্তরের মানুষ। এই স্ট্রবেরী চাষ করে অতি সহজেই লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক। তারা বাজরে এ স্ট্রবেরী বিক্রি করে অনেক অর্থ উপার্জন করছে। এটি এখন অনেকেরে প্রধান আয়ের ব্যবস্থা।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ঈদুলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব এমনই একজন সাধারন কৃষক। ৩ বিঘা জমি নিয়ে স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেন তিনি। এতে ধান-পাটের চেয়ে স্ট্রবেরী চাষ করে তিনি অনেক লাভবান হয়েছেন। এতে তিনি স্ট্রবেরী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। এক একর জমিতে স্ট্রবেরী রোপন থেকে উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত কৃষকের ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। উৎপাদিত স্ট্রবেরী প্রতি কেজি ২শ ৮০ টাকা থেকে ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে একর প্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা স্ট্রবেরী বিক্রি করছে কৃষক মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব। তিনি বিশাল স্ট্রবেরী খামার গড়ে তুলেছেন। পরিবারের সবাই তার খামারের পরিচর্যা করে থাকেন। এছাড়া এলাকার ১৬ জন কৃষিশ্রমিক তার জমিতে উৎপাদিত স্ট্রবেরী চাষে কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে নারী শ্রমিকরাও কাজে সুযোগ পেয়েছে। এসব কৃষিশ্রমিকরা খামারের স্ট্রবেরী তোলার পর তারা প্যাকেট করে গাইবান্ধা জেলা শহর সহ রাজধানী ঢাকাতেও বিক্রি করছেন। এছাড়া ক্ষেতের স্ট্রবেরী তুলে নেওয়ার পর স্ট্রবেরী চারাবীজ বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করে থাকেন। স্ট্রবেরী চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছেন মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ¬ব। ধান- পাটের চেয়ে স্ট্রবেরী চাষে অধিক লাভ বান হওয়া যায়। বিশেষ করে ফ্যাসটিবল, ডারবি ও রবি-৩, স্বাদ ও সুস্বাদু গুন গত মান পুষ্টি সম্দ্ধ হওয়ায় বাজারে চাহিদা ও কদরবেশি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতে অক্টোবরÑ নভেম্বর মাসে স্ট্রবেরী চাষের সহায়তার জন্য বিভিন্ন প্রদশনী খামারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষন সহ নতুন নতুন প্রযুক্তি বিষয়ে ধারনা প্রদান করা হয়ে থাকে।

কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্ট্রবেরী চাষে কৃষকদের উন্নত জাতের চাষ পদ্ধতি সর্ম্পকে প্রশিক্ষন প্রদান, প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের পুর্নবাসনে চারা বীজ ও সার সরবারহ করা হয়েছে।

মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব জানান, ১ লাখেরও বেশি চারা বিক্রি হবে হলে আশা করছেন। এই ক্ষেত থেকে তার প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে এবং স্ট্রবেরি উৎপাদনের খরচ শুধুমাত্র চারা বিক্রি করে উঠে আসবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে এই ক্ষেত থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে। বর্তমানে অনেক দোকানদার ও বাইরের লোকজন তার উৎপাদিত স্ট্রবেরী কিনে নিচ্ছেন। আগামীতে আরো জমি নিয়ে স্ট্রবেরী চাষে ও মার্কেটিং এ নামবেন বলে মোখলেছুর রহমান প্রধান বিপ্লব আশাব্যক্ত করেছেন।


উল্লেখ্য স্ট্রবেরি বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় ফল। পৃথিবীতে যত রকম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল আছে তার মধ্যে স্ট্রবেরী অন্যতম। আমেরিকার ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিঞ্জানীরা দেখেছেন, স্ট্রবেরীতে জীবন রক্ষাকারী নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এতে আছে ভিটামিন এসি ইকেবি-সিক্স, ওমেগা-৩ এবং ফলিক এসিড, মেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, পলিফেনল। এলাজিক ফেরালিক এবং কুমারিক এসিড, কুয়ের মিটিন, জ্যান্থোমাইসিডিন এবং ফাই টোস্টেরল। এর মধ্যে এলার্জিক এসিড ক্যান্সার প্রতিরোধী পৌঢ়ত্ব প্রতিরোধী। এমন কি এইডস রোগ প্রতিরোধী হিসেবেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্ট্রবেরী খেলে মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরের উচ্চ রক্ত চাপ কমায়। যার ফলে হ্নদরোগের সম্ভবনা কমে যায়। নিয়মিত খেলে পাকস্থলী, অন্ত্রে ও চর্ম রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি শরীরের কোলেস্টেরল কমায়। স্ট্রবেরী খেলে মনে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গেটে বাত, ফোড়া থেকেও শরীরকে রক্ষা করে বলে জানা গেছে।

টবে ফলুন করুন ১০০ পাউন্ড আলু

শখের বশে আমরা অনেকেই টবে বা ছাদে কাঁচামরিচ,ধনেপাতা, টমেটো, পুদিনা ইত্যাদি ছোট সবজি লাগাই। কিন্তু শখের বশে আলু লাগানোর শখ অনেকেই করি না। কাজটিকে আমি ঠিক সাহস বলবো না, তবে পণ্ডশ্রম হবে ভেবে কিংবা বাগানে মাটিতে লাগানোর মত আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে না এই ভেবে অনেকেই টবে আলু চাষ করতে চান না। তাদের জন্য আছে কনটেইনারে বা ব্যারেলে ( আমাদের দেশে ব্যারেল বা কাঠের পিপা পাওয়া কঠিন এই ক্ষেত্রে আপনি রঙের খালি কনটেইনার ব্যাবহার করতে পারেন) বাগান পদ্ধতি। কনটেইনারে একটু বড় পরিসরে বাগান করা যায়। এতে সৌখিন বাগানিদের শখের খোরাক এবং আশানুরুপ ফলন দুই ই মিলবে।

সুবিধা
কনটেইনারে বাগান করা অনেক সহজ। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাগান করে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যায়। সারের অপচয় হয় না। আগাছা , ছত্রাক এবং পোকা মাকড় থেকে দূরে থাকা যায়। ছাদে, বারান্দায় বা যে কোন জায়গায় স্থাপন করা যায়।কনটেইনারে আলু চাষ করলে তা আহরণ করা যায় খুবই সহজে। গর্ত করে বা কোদাল দিয়ে খনন করে ফসল নষ্ট হবে না । শুধুমাত্র কনটেইনারে উপুড় করে ফেললেই হল।

টব

কনটেইনার নির্বাচন ও প্রস্ততি
৪০-৫০ লিটার বা ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার যে কোন রঙের, পানির কনটেইনার, পানির বালতি বা যে কোন ফুড গ্রেডের কনটেইনার বাগান করার জন্য ব্যাবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত পানি নির্গমনের জন্য প্রতিটি কনটেইনারে নিচে ৩/৪ ইঞ্চি সাইজের ৫ -৬ টি ছিদ্র করে নিতে হবে। কনটেইনারে আলু চাষের জন্য ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা থাকা খুবই জরুরি। তারপর কনটেইনার টি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

আলুর চাষ
বীজ সংগ্রহ ও চারা রোপণ
আলুর বীজ দুইভাবে সংগ্রহ করা যেতে পারে। বীজ থেকে এবং আলুর কাটিং থেকে। বীজের চারা সরাসরি নার্সারি থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে আর কাটিং চারা পেতে পারেন বিগত বছরের আলু থেকে। পুরনো আলু থেকে ছোট ছোট অঙ্কুর বের হয়। সেই অঙ্কুর গুলোকে আলু সমেত ১-২ ইঞ্চি কিউব করে কেটে অঙ্কুরটি ঊর্ধ্ব মুখী করে একটি ডিমের কেসে রাখতে হবে। । অঙ্কুর গুলোকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
এবার কন্টেইনারের নিচের দিকে আনুমানিক ৬ ইঞ্চি পরিমাণ স্থান ঝুরঝুরে কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরতে হবে, আপনি চাইলে কয়লা,নারকেলের ছোবড়া বা কচুরিপানা ব্যাবহার করতে পারেন। এতে করে মাটিতে আদ্রতা বজায় থাকবে এবং মাটি থাকবে ঝুরঝুরে। অঙ্কুর গুলো নিরাপদ দূরত্বে রেখে রোপণ করুন। অঙ্কুরের নিচের অংশটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। আর বীজ থেকে গাছ উৎপাদন করলে বীজ গুলোকে মাটির উপর ছিটিয়ে দিন। মাটিগুলো একটু ভেজা রাখা ভালো তবে খেয়াল রাখবেন আলুগুলো যেন পচে না যায়।

আলু গাছ
অতিরিক্ত মাটি যোগ করুন
গাছগুলো ৬-৮ ইঞ্চি পর্যন্ত দীর্ঘ হলে গাছ গুলোর ৩ ভাগের ২ অংশ আরো এক লেয়ার কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে কন্টেইনারের উপর পর্যন্ত গাছগুলোকে ধাপে ধাপে কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়ে পর্যাপ্ত পানি সেচন করতে হবে ( মানে গাছ যত বড় হবে, মাটির লেয়ারও তত উঁচুতে উঠবে) ।


ফসল তোলার পালা
প্রায় ১০ সপ্তাহ পর আলু গাছের ফুলগুলো হলুদ হওয়া শুরু করলে আলু তোলার জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়ে পড়বে। প্রথমে উপরের আলুগুলো সাবধানে বের করে আনতে হবে, এরপর পুরো উলটে ফেলে সমস্ত মাটি বের করে ফেলতে হবে। মাটি থেকে আলুগুলো আলাদা করে ফেলতে হবে।

ব্যারেল বা কনটেইনারে আলু চাষের আরো কিছু টিপস
প্রথম বছর ফসল তোলার পর কিছু আলু বীজ হিসেবে পরবর্তী বছরের জন্য রেখে দেয়া যেতে পারে। শিম গাছের ঝোপ আলু চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
মাটির পরিবর্তে কাঠের গুড়া ব্যাবহার করতে পারেন। এই টিপস গুলোতে সফল না হলে অন্য কনটেইনারে বীজে উৎপাদিত গাছ লাগিয়েও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
সূত্র: সৌখিনবিডিডটকম


পাওলোনিয়া গাছ থেকে ৭ বছরের ১৫ লাখ টাকা আয় করা যায়

পাউলোনিয়া পরিচিতি
পাউলোনিয়া Paulowneaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী একটি অতি দ্রুতবর্ধনশীল কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ। এর পাতা খুবই বড় (১৫-৪০ সে.মি.) আকৃতির, দেখতে অনেকটা হৃদপিন্ডের ন্যায়। এ বৃক্ষে সাদা, বেগুনী সহ নানা রং এর ফুল ফোটে। পাউলোনিয়া বৃক্ষ এত দ্রুত বৃদ্ধি পায় যে, চারা লাগানোর প্রথম বছরেই ১৮-২০ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ৬-৮ বছরে ৬০-৭০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আর ৬-৮ বছরে এ বৃক্ষের কাঠের পরিপক্কতা আসে এবং এ সময়ে গড়ে প্রতিটি গাছ ১০-১২ সি.এফটি. কাঠ উৎপাদনে সক্ষম। এই বৃক্ষের কাঠের রং হালকা, উচ্চগুণ সম্পন্ন এবং যে কোন ধরনের পালিশ করা যায়। এছাড়া এ বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে। পাউলোনিয়া কাঠ একুশ শতকে কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ হিসাবে সারা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

উৎপত্তি
পাউলোনিয়ার আদি বাসস্থান চীন দেশে যা আমেরিকায় সৌন্দর্য বর্ধণকারী বৃক্ষ হিসাবে পরিচিত। নেদারল্যান্ডের রাণী Anna Paulona (১৭৯৫-১৮৬৫) এর সম্মানে এ বৃক্ষের নামকরণ করা হয়েছে। তাই এটি প্রিন্সেস ফিনিক্স বা রয়েল এমপ্রেস বৃক্ষ হিসাবে পরিচিত। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াতে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই বৃক্ষের জনপ্রিয়তা কাঠ জাতীয় বৃক্ষের সবার উপরে।

বৃক্ষের ও কাঠের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
১. পাউলোনিয়া বৃক্ষ অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল। একটি গাছ থেকে ৬-৮ বছরে প্রায় ৮০-১০০ বোর্ড ফিট (১’’ x ১২ x ১২) কাঠ পাওয়া যায়।
২. এই বৃক্ষের পাতা অনেক বড় আকৃতির জন্য ছায়াদানকারী বৃক্ষ এবং নানারকম ফুলের জন্য সৌন্দর্য বর্ধণকারী বৃক্ষ হিসাবে পরিচিত।
৩. অন্যান্য বৃক্ষের তুলনায় পাউলোনিয়া বৃক্ষের কাঠ কয়েক গুণ বেশী শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী ও গিটমুক্ত।
৪. এই কাঠের ফাইবার খুব সোজা, মসৃণ ও হালকা তাই এই কাঠ উন্নতমানের এবং খুব চাহিদা সম্পন্ন।
৫. উচ্চতাপ সহনশীল, তাই সহজে আগুনে পুড়ে না এবং এই কাঠে সহজে পোকা ও ঘুন ধরে না।
৬. এই গাছের পাতা উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ পশুখাদ্য।
৭. এই গাছের ফুল থেকে উৎকৃষ্ট মানের মধু তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিক রোগীরাও খেতে পারবে।
৮. মসৃণ আসবাবপত্র, গহনার বক্স, মিউজিক্যাল যন্ত্রপাতি, বাসের কাঠামো, দরজা, জানালা, নৌকা, স্পীড বোড, খেলাধুলার সামগ্রী, রেলগাড়ির আসবাব, কফিন সহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়।
৯. একবছরে ১২-১৮ ফুট, প্রথম তিনমাসে গড়ে ১ ইঞ্চি হারে বৃদ্ধি পায়।


পাউলোনিয়ার পরিবেশগত প্রভাব
০১. পাউলোনিয়ার গাছ পরিবেশ বান্ধব এর পাতা বড় হওয়ায় প্রচুর কার্বন-ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন মুক্ত করে।
০২. মাটির ক্ষয়রোধ করে এবং লবনাক্ততা কমায়।
০৩. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ হিসাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য চীনের  Yellow River জরাবৎ এবং Yangtse এ প্রায় ৩০.১৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে পাউলোনিয়ার বনায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী, স্পেন, পর্তুগাল, আমেরিকা, পানামা, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে এই বৃক্ষের বনায়ন দেখা যায়।

পাউলোনিয়ার চারা তৈরি
ক। বীজঃ পাউলোনিয়ার বীজ ক্ষুদ্র এবং বীজ থেকে চারা উৎপাদন বেশ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য এবং অঙ্কুরোদ্গমের হারও কম (৭%)।
খ। রুট কাটিং: পাউলোনিয়ার রুট কাটিং এর মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয় কিন্তু রুট নির্বাচন এবং একসাথে অল্পসময়ে অনেক চারা তৈরি করার জন্য আমাদের দেশে এ পদ্ধতি উপযোগী নয়।
গ। টিস্যু কালচারঃ
০১. টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে রোগমুক্ত চারা পাওয়া যায়।
০২. এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
০৩. মাতৃ উদ্ভিদের গুনাগুন বজায় থাকে।
০৪. এক সঙ্গে অল্প সময়ে কম খরচে অধিক চারা উৎপাদন সম্ভব।
০৫. সারাবছর চারা উৎপাদন করা যায়।

চারা রোপনের সময়
সারা বছরই পাউলোনিয়া চারা রোপন করা যায়। তবে জানুয়ারি-নভেম্বর চারা রোপনের জন্য ভালো সময়।

রোপন পদ্ধতি
পাউলোনিয়ার টিস্যু কালচারের চারা রোপনের জন্য প্রথমে  ৯ x দূরত্বে ১ x x গর্ত করে নিতে হবে। অত:পর এতে জৈব সার/ ভারমি কম্পোস্ট (কেঁচোসার) প্রয়োগ করতে হবে। তার পর প্লাস্টিকের পট কেটে মাটিসহ গাছটি লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে পট এর মাটি ও গর্তের মাটির লেবেল সমান থাকে।
অন্যান্য বৃক্ষের মত এর পরিচর্যা একই তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় পানি না জমে, পানি জমলে যে কোন বয়সের গাছ মারা যেতে পারে। বৃদ্ধি পর্যায়ে এ গাছের পার্শ্ব শাখা কেটে দিতে হবে। গাছের উচ্চতা ৩০-৩৫ ফিটের পর পার্শ্ব শাখা ছাটা বন্ধ করতে হবে।

পরিচর্যা ও রোগবালাই
  • চারা অবস্থায় গাছের গোড়ায় পানি জমতে পারবে না।
  • যেকোন ধরণের আগাছা কিংবা ঘাস গাছের গোড়ায় জমতে দেওয়া যাবেনা।
  • শীতকালীন সময় জুড়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করতে হবে।
  • পাউলোনিয়া চারা গাছের পাতাকে লিফ স্পট ও লিফ ব্লাইট নামক ছত্রাক এবং শেকড়কে মাটিস্থ ছত্রাক থেকে মুক্ত রাখতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
  • গ্রীষ্মকালে চারাগাছগুলো শোষণকারী কীটপতঙ্গ এবং বর্ষায় মথ দ্বারা আক্রান্ত হয়।
  • সাধারণত তিনবছর পর্যন্ত পরিচর্যা স্থায়ী রাখতে হয়।


সার প্রয়োগ
গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম সার ২০০ গ্রাম: ১০০গ্রাম: ১০০গ্রাম অনুপাতে প্রয়োগ করতে হবে।

আয় ও ব্যায়
এক বিঘা জমির জন্য চারাসহ অন্যান্য খরচ। এক বিঘাতে চারা লাগবে ১৫০ টি।

আয়
৬-৮ বছরের মধ্যে গাছ কাটার উপযুক্ত হয়। একটি গাছের মুল্য যদি ১০,০০০ হাজার টাকা হয় তাহলে ১৫০ টি গাছের মূল্য হয়- ১৫০ x ১০,০০০ = ১৫,০০,০০০/-

ব্যয়
প্রথম বছরের ব্যয়:
চারা বাবদ (১৫০টি) : ১০০*১৫০ = ১৫,০০০ টাকা
লেবার: ১,০০০ টাকা
সার: ১,৫০০ টাকা
অন্যান্য: ৫,০০০ টাকা
বাকী ৬-৭ বছরের ব্যয়: ৩,০০০ টাকা
সর্বমোট: = ২৫,৫০০ টাকা

নীট আয়: 

১৫,০০,০০০টাকা - ২৫,৫০০টাকা = ১৪,৭৪,৫০০ টাকা


১০টি পাউলোনিয়া চারা রোপন করে দুই বছরেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব
মাত্র ১০টি পাউলোনিয়া গাছের চারা রোপন করে একজন ব্যক্তি দুই বছরেই স্বাবলম্বী হতে পারেন। দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র পাউলোনিয়া চারা উৎপাদক যশোর রাজগঞ্জ চন্ডিপুরের কৃষক ফারুক হোসেন এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি আসন্ন মৌসুমে কাটিং কালচার পদ্ধতিতে ব্যাপক ভাবে পাউলোনিয়া চারা উৎপাদন করেছেন। তার সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামার থেকেই এই চারা বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রতিটি চারা মাত্র ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মাত্র আট মাসেই তারা প্রতিটি পাউলোনিয়া চারা ১০ফুট দীর্ঘ অতিক্রম করেছে। তিনি টিস্যু কালচারে চারা সংগ্রহ করে নিজে কাটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করেছেন।

কৃষক ফারুক হোসেন বলেন চলতি মৌসুমে তিনি অন্তত ১০হাজার পাউলোনিয়া চারা সরবরাহ করবেন। এটি তার আশা। তিনি ধারনা করছেন পাঁচ বছর পরেই তার রোপিত পাউলোনিয়া বৃক্ষ বিক্রি করতে পারবেন। তিনি স্বাভাবিক ভাবে প্রতিটি ৪০ফুট লম্বা লগ পাওয়ার আশা করছেন। স্ট্রবেরি চাষের সফলতার পরে তিনি এবার পাউলোনিয়ায় নজর দিচ্ছেন।

কৃষক ফারুক হোসেন বলেন একজন দরিদ্র ব্যক্তি তার আঙিনায় মাত্র ১০টি পাউলোনিয়া চারা রোপন করে পরের বছরে কাটিং পদ্ধতিতে হাজার হাজার চারা উৎপাদন করতে পারবেন। আর মাত্র পাঁচ বছরেই তিনি ঐ ১০টি গাছ থেকে অন্তত ১০লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। এটি শুধু কাঠ বিক্রির হিসাব। চারা বিক্রির আলাদা হিসাব। চারা বিক্রি করে একজন প্রতিবছর ৫-১০লাখ টাকা আয় করতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা গাছের মধ্যেও পাউলোনিয়া রোপন করা যায়। শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেন পানি না জমে।




চারার জন্য যোগাযোগ করুন নিচের ঠিকানায়:
www.productplanet.org
Email: info@productplanet.org
productplanetorg@gmail.com
Mobile: + 880 1818725783
+ 880 1676146752

+ 880 1670618212
........................................................
রয়েল পাউলোনিয়া ট্রি নার্সারি,
শুভপুর নতুন বাজার, ছাগলনাইয়া, ফেনী
০১৭১১-৮৬৩২১৭, ০১৮২১-৩২৭২৬৩
(দেশের যেকোন স্থান থেকে সংগ্রহ করা যাবে)

ধান উৎপাদনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সফটওয়্যার উদ্ভাবন

বাংলাদেশের মাটি গবেষণা করে দীর্ঘ ৫ বছরের চেষ্টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউট ধান উৎপাদনে বিশেষ একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছে। সফটওয়্যারই বলে দেবে কৃষিজমিতে কোনো সার কী পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। এখন অনলাইন ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন সিস্টেম (ওএফআর) সফটওয়্যার ব্যবহার করে মাটির পুষ্টিমানের তথ্য, ফসলের পুষ্টি চাহিদা ও সারে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে সার প্রয়োগের নির্দেশিকা পাবেন কৃষকরা। মঙ্গলবার দেশব্যাপী এই ওএফআর সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে কৃষকের কাছে সার সুপারিশ সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০টি উপজেলায় এর কার্যক্রম চালু করা হয়। ওই সময় গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক টেলিকম সংস্থার সহযোগিতায় মোবাইল ফোন ও সিআইসির মাধ্যমে এই সেবা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কৃষি তথ্য সেবাকেন্দ্র তাদের সেবা বিতরণ প্রক্রিয়ায় এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে এ সেবা প্রদান শুরু করে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কাজটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। সবশেষে ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) এ সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০১১ সালে এই সেবা কার্যক্রম ২০০টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে জমির অবস্থান (জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন) ভূমি শ্রেণী ও ফসল নির্বাচন করে নির্বাচিত ফসলের জন্য সারের যাবতীয় তথ্য জানা যাবে। 

সফটওয়্যারটি ব্যবহারের উপকারিতা হিসেবে গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে ফসল ভেদে শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ ফলন বাড়বে
, গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ফলে রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ কম হবে, উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এছাড়া উৎপাদিত ফসলের মানও ভালো হয়। মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে মাটির নমুনা পরীক্ষা করে অনলাইনের মাধ্যমে সার প্রয়োগের নির্দেশিকা বিশ্বে মাইলফলক হয়ে থাকবে। কয়েক বছরের গবেষণার ফল এটি। কৃষির উন্নয়নের এই সফটওয়্যারটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড অনুসারে সার্ভারে রাখা মাটির তথ্য ভাণ্ডার থেকে নির্বাচিত এলাকার মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে ওই সফটওয়্যার তাৎক্ষণিকভাবে সারের সুপারিশ বা নির্দেশিকা দেবে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই সেবা কার্যক্রম কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া। সবাইকে জানানো। 

প্রসঙ্গত, এ সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে http://www.frs-bd.com, http://www.srdi.gov.bd অথবা http://www.katalyst.com.bd সাইটে জানতে পারবেন। এছাড়া ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র, বেসরকারি টেলিকম সংস্থা ৭৬৭৬ নম্বরে ফোন করে অথবা গ্রামীণফোনের সিআইসি থেকেও যে কেউ এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।


ভেজাল সার চেনার উপায়

অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। কৃষকভাইয়েরা একটু সতর্ক হলেই আসল সার ও ভেজাল সারের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এখানে কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আসল বা ভেজাল সার শনাক্ত করার উপায় সম্পর্কে জানানো হলো: 

ইউরিয়া সার চেনার উপায়: 
আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। তাই কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান কিনা। ইউরিয়া সারে কাঁচের গুড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসাবে যোগ করা হয়। চা চামচে অল্প পরিমান ইউরিয়া সার নিয়ে তাপ দিলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হয়ে সারটি গলে যাবে। যদি ঝাঁঝালো গন্ধ সহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

টিএসপি সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না। আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।

ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমান ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ হয়ে তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরুপে ভেজাল। আর যদি আংশিকভাবে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমান ভেজাল আছে। এছাড়াও কিছু পরিমান ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশালে সার গলে যাবে। তবে ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।

জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমান পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।

ক্যাকটাস রোপন ও ব্যবস্থাপনা

ফনিমনসা আমাদের দেশে একটি পরিচিত নাম। আমাদের অনেকেই ক্যাকটাস বুঝেন না আসলে ফনিমনসাই এক ধরনের ক্যাকটাস। ক্যাকটাস নানা বর্ণের নানা বৈচিত্রের হয়ে থাকে। কোনটা অল্প কাঁটা, কোনোটা বেশি কাঁটা, এতে বিভিন্ন রংয়ের ফুল ফোটে।

 

সব ক্যাকটাস প্রচুর সূর্যালোক পছন্দ করে তবে সকালের সূর্যালোকই ক্যাকটাস এর জন্য বেশী ভালো, আর তাই সব ক্যাকটাসই কাঁচের বা পলিব্যাগের ছাউনীর নিচে চাষ করতে হয়। এদিকে ছায়াতে জন্মানো ক্যাকটাসে ফুল হয় না। আর প্রচুর পরিমাণে ভালো মানের ক্যাকটাস ফুল ও গাছ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস দরকার, সেজন্য কাঁচের বা পলিব্যাগের ছাউনীর চারপাশে খোলা রাখতে হয়।


প্রয়োজনীয় পাত্র:-

পাস্টিকের পাত্র বা ধাতব থেকে মাটির পাত্রই ভালো ক্যাকটাস চাষের জন্য কারণ মাটির পাত্রে পানি ও বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত অতি সুক্ষ্য সুক্ষ্য ছিদ্র থাকে। পাত্রকে পরিস্কার ও জীবাণু মুক্ত করে শুকিয়ে নিতে হবে চারা লাগানোর পূর্বে। সঠিক মাপের পাত্র নির্বাচনও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ বেশী বড় পাত্র অধিক পরিমাণে আর্দ্রতা ধরে রাখে যা ক্যাকটাস চারার জন্য খুবই ক্ষতিকর আর ছোট পাত্রে ক্যাকটাস চারা ঠিক মতো বাড়তে পারে না।।।

প্রয়োজনীয় মাটি ও জৈব সার:-
সঠিক পরিমাণ জৈব সার ও পানি ক্যাকটাস চাষের জন্য খুবই দরকারী। এই জৈব সারে যা যা থাকতে হবে
১ভাগ দোঁআশ বা বেলে দোঁআশ + ১ভাগ পচা গোবর + ২ভাগ পচা পাতা+১ভাগ বালি + কিছু পরিমাণ ভাঙা হাড়ের গুড়া
জৈব সার তৈরীর পরপরই পাত্রে চারা রোপণ করা উচিত না, অন্তত ১৫দিন পর চারা রোপণ করা উচিত।

চারা রোপণের উপযুক্ত সময়
এটা বছরের যেকেনো সময় রোপণ করা যায় তবে মার্চ-এপ্রিল মাস বেশি উপযুক্ত সময়।

পাত্রে চারা রোপণের পদ্ধতি
পাত্রের নিচের এক তৃতীয়াংশ ইটের গুড়া দিয়ে পূর্ণ করতে হবে পানি চলাচলের জন্য, তারপর পাত্রের উপর থেকে ২সে.মি. ফাকা রেখে মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করতে হবে। চারা রোপণের আগে চারার রোগ ও নেমাটোড আক্রান্ত মূল কেটে ফেলতে হবে। মূলের কাটা অংশ সালফার ডাস্ট দিয়ে ট্রিটমেন্ট করে নিতে হবে। মেলী বাগ ধ্বংস করার জন্য মিথ্যাইলেটেড স্পিরিট (৫-১০%) ও নিকোটিন(২.৫%) ব্যবহার করা যেতে পারে। চারা পাত্রের কিনারাই লাগালে বেশী ভালো হয় পাত্রের মাঝখানে লাগানোর চাইতে।

চারার পরিচর্যা 
পানি দেওয়া

সঠিক পরিমাণ পানি সময় মত দেওয়া খুবই দরকারী সঠিকভাবে ক্যাকটাস চাষের জন্য, বেশী পানি দেওয়া যেমন ক্ষতিকর তেমনি কম পানিও ক্যাকটাসের বৃদ্ধি ব্যহত করে, পানির পরিমাণ আর প্রয়োগ বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হয়। তাছাড়া এটা ক্যাকটাসের জাতের উপরও নির্ভর করে। ক্যাকটাসে শীতকালে পানি দেওয়ার দরকার হয় না। তবে যদি মূল শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভব্না থাকে তাহলে শীতকালে মাসে একবার পানি দিতে হবে।।।

খুটি দেওয়া
বেশীর ভাগ ক্যাকটাসে খুটি দেওয়ার দরকার হয় না, তবে যে সব ক্যাকটাস লতানো মতো হয় সেগুলোতে খুটি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে

 

বিভিন্ন ধরণের ক্যকটাস:

 

ফনিমনসা: এদের কান্ড পুরু, চ্যাপটা ও ডিম্বাকৃতি। একটির প্রান্ত হতে আরেকটি বের হয়। তীক্ষè কাঁটাযুক্ত কান্ডের গায়ে তারকাকারে সজ্জিত। অধিকাংশ ফনিমনসার বড় হলুদ বা লালচে বর্ণের ফুল হয়। ফনিমনসার অনেকগুলো জাত রয়েছে, যেমন-ডিলেনাই, ইলেটিওর, কেচিনেলিফেরা, ননাকান্থা বা মনকাটা নাইগ্রিকান্স প্রভৃতি।    

 

নিপল ক্যাকটাস: পশুর বাটের মতো ঠোঁট, বামনাকার, কান্ডের শীর্ষে গুচ্ছ গুচ্ছ চুলের মতো পাতা ও পাতার ফাঁকে ফুল হয়। ফুলগুলো হালকা হলুদ। এর সুদৃশ্য ফুলের ভিতরের দিক উজ্জ্বল হলুদ, বাইরের দিক লালচে। এর জাতগুলো যেমন কোয়াড্রস্পাইনা, এমপুশিলা, এম আটটা ইত্যাদি।   

 

মেলোক্যাকটাস: এ শ্রেণী দেখতে তরমুজ/ফুটির মতো। এদের মাথার শীর্ষ দেশ পশমী চুলের ন্যায় কাঁটায় আবৃত। এর জাতগুলোর মধ্যে পিরামিডাম, ডিপ্রেসাস, পলিক্যান্থাস, ম্যাক্সো ক্যান্থাস, গ্রেংগেলি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।   

 

সোরিয়াস: এই শ্রেণীর ক্যাকটাস শক্ত, দীর্ঘ, কান্ডযুক্ত ও কাঁটাওয়ালা। এগুলো ইট, পাটকেলের গুঁড়ো, পচা গোবর ও মাটির মিশ্রণে লাগানো হয়। এই ফুল সন্ধ্যার পর ফুটতে শুরু করে এবং মধ্য রাত্রি পর্যন্ত তা চলে। প্রায় ৬ ইঞ্চি ব্যাসযুক্ত সাদা কেন্দ্র হলুদাভাব বেগুনী, বহির্দেশ সুগন্ধযুক্ত।   

 

হেকসাগোনাস: ছয় শিরা বিশিষ্ট। এতে বড় বড় ফুল ফোটে।   

 

ট্রাংকেনাম: এই জাত শীতকালে বৃহৎ দর্শনীয় ফুল দেয়। ফুলের রং গোলাপী। দিনের বেলায় ফুল ফোটে। গাছ দুর্বল স্বভাবের। তবে গাছের যেকোন অংশ মাটিতে পুঁতলে শিকড় বের হয় এবং পরে বড় ফুল ফোটে।  

 

রিপম্যালিস: এর অভুদ ধরনের কান্ড। ছোট ছোট জোড়া লাগানো বলে মনে হয়। আবার অনেকগুলো তামাকের পাইপ জোড়া দেয়া মনে হতে পারে। ফুল ছোট হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। এটা পরগাছা উদ্ভিদ হিসেবে জন্মে।  

 

পেরেসকিয়া: এর সিংগল জাতে গোলাপের মত ফুল ফোটে। পেরেসকিয়া সারা বছর ফুল দেয়। এরকম অসংখ্য জাতের ক্যাকটাস রয়েছে।

 

কেমন মাটিতে ক্যাকটাস জন্মে
 ক্যাকটাস শুষ্ক মরু অঞ্চলের কংকরময় স্থানের উদ্ভিদ বলে বাগানে বা টবে চাষ করতে হলে মরুভূমি অঞ্চলের মাটির ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারনতঃ আলগা অথচ মাটি শুষ্ক আবহাওয়া ও অল্প পানি সেচে ক্যাকটাস ভালো জন্মে। 

টবের মাটি তৈরি করতে হবে- ভালো পচা কম্পোষ্ট তিন ভাগ, শুকনা গোবরের গুঁড়া এক ভাগ, দো-আঁশ মাটি এক ভাগ, চুনসুরকী এক ভাগ, মোটা সিলেট বালু ৬ ভাগ দিয়ে ক্যাকটাসের মাটি তৈরি করতে হবে এবং ফুলের জন্য সামান্য হাড়ের গুঁড়া দিতে পারেন।

 

কেমন দাম

ক্যাকটাসের জাতভেদে ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এমনকি এর চেয়ে বেশি দামের ক্যাকটাস রয়েছে।

কোথায় পাবেন
দেশের বিভিন্ন বিশ্বস্ত নার্সারীগুলো থেকে ক্যাকটাস কিনতে পারেন। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়, বিভিন্ন মেলা (যেমন বৃক্ষ মেলা) প্রভৃতি স্থান থেকে ক্যাকটাস কিনতে পারেন।

আয়-রোজগার
বর্তমানে ক্যাকটাসকে কেন্দ্র করে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেউবা ক্যাকটাসকে দিয়ে বাড়তি আয় করে বা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করতে পারেন। শিকড় থেকে ক্যাকটাসের চারা উৎপাদন করতে গ্রাফটিং জানা প্রয়োজন।

 

গ্রাফটিং
কাঁটা ছেঁড়ার প্রক্রিয়াকে গ্রাফটিং বলে। সহজ কথায় ‘জোড়কলম’ কে গ্রাফটিং বলা হয়। দুটি জাতের দু’টি সবল চারা প্রয়োজন। যে চারার উপর গ্রাফটিং করা হয় তাকে ‘রুট স্টক’ বলে। যাকে গ্রাফট করা হয় তাকে ‘সিয়ন’ বলে। সাধারণত লাল, হলুদ, কমলা, বহু বর্ণের ক্যাকটাস ‘সিয়ন’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জাপানে প্রথম ক্যাকটাসের গ্রাফটিং শুরু হয়। সবুজ কান্ডের উপর টুকটুকে লাল বা হলুদ কিংবা কয়েক রকমের বর্ণালী ছোট ছোট বল বসানো গ্রাফটিং করা ক্যাকটাস দেখতে অপরূপ নয়নাভিরাম। তাই এ ধরনের ক্যাকটাসের চাহিদা বেশি। দু’টি সুস্থ সবল চারা বাছাই করে প্রথমে পরিষ্কার করতে হবে। খুব ধারালো চাকু দিয়ে প্রথমে ‘রুটস্টক’ ক্যাকটাসটির মাথার দিকে প্রায় এক ইঞ্চি এক পোচে কাটতে হবে। এরপর ‘সিয়ন’ শিকড়ের দিক থেকে খানিকটা অংশ পূর্বের ন্যায় অর্থাৎ মাথার দিকে প্রায় এক ইঞ্চি কেটে ‘সিয়ন’ কে রুটস্টকের উপর বসিয়ে দিতে হবে। বসানোর সময় বা জোড়া দেয়ার সময় দু’টো অংশ মিলে ‘উল’ বা ‘রবার ব্যান্ড দিয়ে লম্বালম্বি বেঁধে পুরো একদিন অন্ধকারে রেখে দিতে হবে। আলোতে এনে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখার পর রাবার ব্যান্ড খুলে দিতে হবে। পানি দিবেন তবে বেশি পানি দেয়ার দরকার নেই।

 

ধীরে ধীরে পরিচর্যা করুন।
সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আপনি ক্যাকটাসে আপনার কাংখিত ফুল পেতে পারেন।

 

ব্যাগে সবজি চাষ


বাসার ছাদে, সিঁড়ির নিচে অথবা বেলকুনিতে ব্যাগে সবজি চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) নামে একটি বেসরকারি সংগঠন। এ পদ্ধতিতে একটি ব্যাগে একাধিক সবজি চাষ সম্ভব। এতে মানুষ বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে। এফআইভিডিবির নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমদ জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাগে সবজি উৎপাদন করা হয়।

এ পদ্ধতি অনুসরণ করে ২০০৯ সাল থেকে তারা গবেষণা করে আসছেন। গত বর্ষা মৌসুমে তারা সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ পদ্বতিতে সবজি চাষ করে সফল হন। এরপর শহরের লোকজন এ পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা বাসার ছাদ, সিঁড়ির নিচে কিংবা বারান্দার প্লাস্টিক ব্যাগে পালং, পুঁই, কুমড়া, লাউ, ডাটা, কলমি ও লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি উৎপাদন শুরু করেন। ব্যাগে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি। সংস্থাটির জীবনযাত্রা উন্নয়ন কর্মসূচির পরামর্শক ড. শেখ তানভীর হোসেন জানান, এ পদ্ধতিতে সারাবছরই সবজি চাষ সম্ভব। এটি সবজি চাষের জুতসই পদ্ধতি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে প্রত্যেককে প্রতিদিন ২৭৫ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অভাবের কারণে এ দেশের প্রায় অর্ধেক লোকের পক্ষেই ৭৫-৮০ গ্রামের বেশি সবজি খাওয়া সম্ভব হয় না। পুষ্টির অভাবে ৯৪ ভাগ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না। এ পদ্ধতি কিছুটা হলেও শাকসবজির চাহিদা পূরণ করবে।

পেঁপের চারা রোপণ ও পরিচর্যা

পেঁপে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর ফল। কাঁচা পেঁপে উপকারী সবজি। আর পাকা পেঁপে খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। কাঁচা পেঁপেতে পেপাইননামক এক প্রকার জারক রস আছে, যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং লিভারকে সতেজ করে। পাকা পেঁপেতে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি এবং ক্যালসিয়াম, লৌহ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদি ফলগুলোর মধ্যে পেঁপের চাষ অত্যন্ত লাভজনক। পেঁপের জন্য পৃথক কোনো বাগান না করেও পুকুর পাড়ে, পথের পাশে ও বাড়ির আশপাশের সামান্য ফাঁকা জমিতেও এর চাষ করে স্বল্পসময়ে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হওয়া যায়।

উপযোগী জমি ও মাটি : পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত উঁচু দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি পেঁপে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

জাত নির্বাচন : শাহী পেঁপে, রাঁচি, ওয়াশিংটন, হানিডিউ, ব্লুস্টেম, কাকদাম, সেলো প্রভৃতি।

জমি ও মাদা তৈরি : উপযুক্ত জমি নির্বাচন করে সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কয়েক পশলা বৃষ্টি হওয়ার পর জোএলে জমিতে দু-তিনটি গভীর চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। তারপর বর্গাকার, আয়তকার বা ষড়ভোজী যেকোনো রোপণ পদ্ধতি অনুসরণ করে জাত ভেদে ২.৫ মিটার দূরত্বে সারি করে সারিতে দুই মিটার পর পর ৬০ী৬০ী৬০ সেন্টিমিটার আকারের গর্ত খনন করতে হবে।


সার প্রয়োগ : চারা রোপণের আগে প্রতি গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ২৫০ গ্রাম খৈল, ২৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১৫০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করে সারগুলো গর্তের মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। মাদায় সার প্রয়োগের পর পানি দিয়ে মাদা ভিজিয়ে ১০-১৫ দিন রাখার পর চারা রোপণ করা উত্তম। এ সময়ের মধ্যে খৈল পচে যায়।

চারা রোপণ : আশ্বিন মাসে পেঁপে চারা রোপণ করার উপযুক্ত সময়। এ সময়ে রোপণ করা পেঁপের গাছ লম্বা হয় না। এ কারণে ঝড়ে পেঁপে গাছ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই পেঁপে গাছে খুঁটি দেয়ার ব্যবস্থা না করলেও হয়। আশ্বিনে রোপণ করা পেঁপে গাছ পরবর্তী চার মাস শীতের কারণে বৃদ্ধি পায় না। এ সময়ে গাছের পাতাও ঝরে যায়। শীতের শেষে ফাল্গুন মাসের শুরুতে কিছুটা উষ্ণ আবহাওয়ায় সার ও পানি সেচ দিলে ওই সময়ে পেঁপে গাছ ছোট থাকলেও গাছের বয়স বেড়ে যাওয়ায় ছোট গাছেই ফুল আসে এবং ফল ধরে। সাধারণত ৪০-৫০ দিন বয়সের ১০ সেন্টিমিটার লম্বা চারা রোপণ করা ভালো। চারার বয়স এর চেয়ে বেশি বা কম হলে রোপণের পর মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। প্রতি গর্তে ১৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে তিন-ছয় সে.মি. গভীরে কোনাকুনি ত্রিকোণভাবে তিনটি করে পেঁপে চারা রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, বীজতলায় চারার গোড়া যতটুকু মাটির নিচে ছিল, ঠিক ততটুকু পর্যন্ত গভীরে যেন চারা রোপণ করা হয়। রোপণের সময় চারার নিচের দিকের ২:১টি বড় বড় পাতা কেটে দেয়া ভালো। এতে চারা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। রোপণের পর চারার চার পাশের মাটি হাত দিয়ে আলতোভাবে চেপে দিতে হবে এবং চারার গোড়ার পানি সেচ দিয়ে গর্তের মাটি ভালো করে ভিজিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া চারা গাছে ছায়া দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। চারা রোপণের আগে পলিব্যাগ থেকে চারা বের করার সময় একটি ব্লেড দিয়ে পলিব্যাগের একদিক চিরে দিতে হবে। এরপর চারার মাটির বলটি যেন ভেঙে না যায় বা চারার শিকড়ের কোনোরকম ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে চারাটি গর্তের ভরাট করা মাটিতে হাত দিয়ে চারার মাটির বলের আকারের চেয়ে একটু বড় গর্ত করে সে গর্তে স্থাপন করতে হবে। চারার গোড়া পলিব্যাগে যতটুকু বাইরে ছিল ঠিক ততটুকুই বাইরে বা উপরে রেখে রোপণ করতে হবে। কখনোই চারার গোড়া বেশি গভীরে পুতে দেয়া বা চারার গোড়ায় অতিরিক্ত মাটি দেয়া উচিত নয়। এতে চারা গোড়াপচা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ সময়ে চারার গোড়ায় প্রথম ১ থেকে ২ দিন কোনো পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে পাতার ওপরে হালকা করে হাত দিয়ে ছিটিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে।


অতিরিক্ত গাছ অপসারণ : পেঁপেগাছে যখন ফুল আসে তখন প্রতি গর্তে লাগানো তিনটি গাছের মধ্যে একটি স্ত্রী বা উভয়লিঙ্গ গাছ রেখে বাকি দুটি গাছ তুলে ফেলতে হবে। তবে পরাগায়নের সুবিধার জন্য প্রতি ১০টি স্ত্রী গাছের জন্য একটি করে পুরুষ গাছ রাখা উচিত।

আগাছা পরিষ্কার : জমির আগাছা পরিষ্কার করে ছোট অবস্থায় গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার ও নিড়ানি দেয়ার সময় ল রাখতে হবে যেন, গাছের শিকড় কেটে না যায়।

পানি সেচ : খরার সময় পানি সেচ দিলে পেঁপের ফলন বৃদ্ধি পায়। শীতকালে ১০-১২ দিন পর এবং গ্রীষ্মকালে ছয়-আট দিন পর পর পানি সেচ দেয়া দরকার। দুই সারির মাঝখানে নালা করে এমনভাবে সেচ দেয়া উচিত, যাতে শিকড় পর্যন্ত পানি পৌঁছে। কিন্তু গোড়া যেন পানিতে ডুবে না যায়। গাছ দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না। তাই সব সময়ই সেচ দেয়ার পর সুষ্ঠুভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সাথি ফসল: পেঁপের বাগানে পেঁপে গাছের গোড়া সব সময় পরিষ্কার রাখা দরকার। শীতের সময়টুকুতে পেঁপে বাগানে সাথী ফসল হিসেবে লাল শাক, পালং শাক, ধনে শাক, লেটুস, বেগুন, মরিচ চাষ করা যেতে পারে। তবে টমেটো, বেগুন ও কপি জাতীয় সবজি চাষ না করাই ভাল। কারণ এসব সবজিতে জাব পোকার আক্রমণ বেশি হয় বলে পেঁপে গাছও জাব পোকার দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।


ফল সংগ্রহ: শীতের আগে রোপণ করা পেঁপে গাছে সাধারণত ৪ থেকে ৫ মাসে ফুল ধরে এবং ৬ থেকে ৭ মাসে কাঁচা পেঁপে সংগ্রহ করা যায়। প্রথম দিকে গাছে প্রচুর পেঁপে ধরে। এগুলোর মধ্য থেকে কিছু কিছু পেঁপে ফল ছাঁটাই করতে হবে অর্থাত্ ফল সংগ্রহ করে পাতলা করতে হবে। তাহলে অন্য পেঁপেগুলো যখন পরিপক্ব হয়, তখন বড় আকারের হয়। আর রোপণের ১০ থেকে ১১ মাস পর পরিপক্ব পেঁপে ফল সংগ্রহ করা যায়।