মিতে। বৃষ্টি হওয়ার পর হেক্টরপ্রতি ২০ কেজি নাইট্রোজেন এবং ২০ কেজি ফসফরাস সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি চাষের জন্য মাঠে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। তবে লক্ষ রাখতে হবে, পানিতে যাতে চারা উপড়ে না যায়। জিরার বীজ সাধারণত বপন করার ৯ থেকে ১২ দিনের মধ্যে অঙ্কুরোদ্গম হয়। মাটির আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে জমিতে পানি জমে না থাকে। ১০০/১২০ দিনের মধ্যে কৃষক জিরার ফসল ঘরে তুলতে পারবে। গাছ কেটে অথবা মূলসহ উৎপাটন করে দুই দিনের মধ্যে শস্য আলাদা করে রোদে শুকাতে হয়।
মূল্যবান জিরা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়
মিতে। বৃষ্টি হওয়ার পর হেক্টরপ্রতি ২০ কেজি নাইট্রোজেন এবং ২০ কেজি ফসফরাস সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এটি চাষের জন্য মাঠে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। তবে লক্ষ রাখতে হবে, পানিতে যাতে চারা উপড়ে না যায়। জিরার বীজ সাধারণত বপন করার ৯ থেকে ১২ দিনের মধ্যে অঙ্কুরোদ্গম হয়। মাটির আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে জমিতে পানি জমে না থাকে। ১০০/১২০ দিনের মধ্যে কৃষক জিরার ফসল ঘরে তুলতে পারবে। গাছ কেটে অথবা মূলসহ উৎপাটন করে দুই দিনের মধ্যে শস্য আলাদা করে রোদে শুকাতে হয়।
কৃষক মোখলেছুর রহমান স্ট্রবেরী চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্ববলম্বী হয়ে উঠেছে
টবে ফলুন করুন ১০০ পাউন্ড আলু
পাওলোনিয়া গাছ থেকে ৭ বছরের ১৫ লাখ টাকা আয় করা যায়
- চারা অবস্থায় গাছের গোড়ায় পানি জমতে পারবে না।
- যেকোন ধরণের আগাছা কিংবা ঘাস গাছের গোড়ায় জমতে দেওয়া যাবেনা।
- শীতকালীন সময় জুড়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করতে হবে।
- পাউলোনিয়া চারা গাছের পাতাকে লিফ স্পট ও লিফ ব্লাইট নামক ছত্রাক এবং শেকড়কে মাটিস্থ ছত্রাক থেকে মুক্ত রাখতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
- গ্রীষ্মকালে চারাগাছগুলো শোষণকারী কীটপতঙ্গ এবং বর্ষায় মথ দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- সাধারণত তিনবছর পর্যন্ত পরিচর্যা স্থায়ী রাখতে হয়।
ধান উৎপাদনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সফটওয়্যার উদ্ভাবন
সফটওয়্যারটি ব্যবহারের উপকারিতা হিসেবে গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে ফসল ভেদে শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ ফলন বাড়বে, গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ফলে রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ কম হবে, উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এছাড়া উৎপাদিত ফসলের মানও ভালো হয়। মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে মাটির নমুনা পরীক্ষা করে অনলাইনের মাধ্যমে সার প্রয়োগের নির্দেশিকা বিশ্বে মাইলফলক হয়ে থাকবে। কয়েক বছরের গবেষণার ফল এটি। কৃষির উন্নয়নের এই সফটওয়্যারটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড অনুসারে সার্ভারে রাখা মাটির তথ্য ভাণ্ডার থেকে নির্বাচিত এলাকার মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে ওই সফটওয়্যার তাৎক্ষণিকভাবে সারের সুপারিশ বা নির্দেশিকা দেবে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই সেবা কার্যক্রম কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া। সবাইকে জানানো।
প্রসঙ্গত, এ সম্পর্কিত আরও তথ্য জানতে http://www.frs-bd.com, http://www.srdi.gov.bd অথবা http://www.katalyst.com.bd সাইটে জানতে পারবেন। এছাড়া ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র, বেসরকারি টেলিকম সংস্থা ৭৬৭৬ নম্বরে ফোন করে অথবা গ্রামীণফোনের সিআইসি থেকেও যে কেউ এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
ভেজাল সার চেনার উপায়
ইউরিয়া সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না। আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।
ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমান ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ হয়ে তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরুপে ভেজাল। আর যদি আংশিকভাবে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমান ভেজাল আছে। এছাড়াও কিছু পরিমান ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।
এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশালে সার গলে যাবে। তবে ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।
জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমান পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।
ক্যাকটাস রোপন ও ব্যবস্থাপনা
ফনিমনসা আমাদের দেশে একটি পরিচিত নাম। আমাদের অনেকেই ক্যাকটাস বুঝেন
না আসলে ফনিমনসাই এক ধরনের ক্যাকটাস। ক্যাকটাস নানা বর্ণের নানা বৈচিত্রের হয়ে
থাকে। কোনটা অল্প কাঁটা, কোনোটা বেশি কাঁটা, এতে বিভিন্ন রংয়ের ফুল
ফোটে।
সব ক্যাকটাস প্রচুর সূর্যালোক পছন্দ করে তবে সকালের সূর্যালোকই
ক্যাকটাস এর জন্য বেশী ভালো, আর তাই সব ক্যাকটাসই কাঁচের বা পলিব্যাগের
ছাউনীর নিচে চাষ করতে হয়। এদিকে ছায়াতে জন্মানো ক্যাকটাসে ফুল হয় না। আর প্রচুর
পরিমাণে ভালো মানের ক্যাকটাস ফুল ও গাছ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস দরকার,
সেজন্য কাঁচের বা পলিব্যাগের ছাউনীর চারপাশে খোলা রাখতে হয়।
প্রয়োজনীয় পাত্র:-
পাস্টিকের পাত্র বা ধাতব থেকে মাটির পাত্রই ভালো ক্যাকটাস চাষের
জন্য কারণ মাটির পাত্রে পানি ও বাতাস চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত অতি সুক্ষ্য সুক্ষ্য
ছিদ্র থাকে। পাত্রকে পরিস্কার ও জীবাণু মুক্ত করে শুকিয়ে নিতে হবে চারা লাগানোর
পূর্বে। সঠিক মাপের পাত্র নির্বাচনও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ বেশী বড় পাত্র
অধিক পরিমাণে আর্দ্রতা ধরে রাখে যা ক্যাকটাস চারার জন্য খুবই ক্ষতিকর আর ছোট
পাত্রে ক্যাকটাস চারা ঠিক মতো বাড়তে পারে না।।।
প্রয়োজনীয় মাটি ও জৈব সার:-
সঠিক পরিমাণ জৈব সার ও পানি ক্যাকটাস চাষের জন্য খুবই দরকারী। এই
জৈব সারে যা যা থাকতে হবে
১ভাগ দোঁআশ বা বেলে দোঁআশ + ১ভাগ পচা গোবর + ২ভাগ পচা পাতা+১ভাগ
বালি + কিছু পরিমাণ ভাঙা হাড়ের গুড়া
জৈব সার তৈরীর পরপরই পাত্রে চারা রোপণ করা উচিত না, অন্তত ১৫দিন পর চারা রোপণ করা উচিত।
চারা রোপণের উপযুক্ত সময়
এটা বছরের যেকেনো সময় রোপণ করা যায় তবে মার্চ-এপ্রিল মাস বেশি
উপযুক্ত সময়।
পাত্রে চারা রোপণের পদ্ধতি
পাত্রের নিচের এক তৃতীয়াংশ ইটের গুড়া দিয়ে পূর্ণ করতে হবে
পানি চলাচলের জন্য, তারপর পাত্রের উপর থেকে ২সে.মি. ফাকা
রেখে মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করতে হবে। চারা রোপণের আগে
চারার রোগ ও নেমাটোড আক্রান্ত মূল কেটে ফেলতে হবে। মূলের কাটা অংশ সালফার ডাস্ট
দিয়ে ট্রিটমেন্ট করে নিতে হবে। মেলী বাগ ধ্বংস করার জন্য মিথ্যাইলেটেড স্পিরিট
(৫-১০%) ও নিকোটিন(২.৫%) ব্যবহার করা যেতে পারে। চারা পাত্রের কিনারাই লাগালে বেশী
ভালো হয় পাত্রের মাঝখানে লাগানোর চাইতে।
চারার পরিচর্যা
পানি দেওয়া
সঠিক পরিমাণ পানি সময় মত দেওয়া খুবই দরকারী সঠিকভাবে ক্যাকটাস
চাষের জন্য, বেশী পানি দেওয়া যেমন ক্ষতিকর তেমনি কম
পানিও ক্যাকটাসের বৃদ্ধি ব্যহত করে, পানির পরিমাণ আর
প্রয়োগ বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হয়। তাছাড়া এটা ক্যাকটাসের জাতের উপরও
নির্ভর করে। ক্যাকটাসে শীতকালে পানি দেওয়ার দরকার হয় না। তবে যদি মূল শুকিয়ে
যাওয়ার সম্ভব্না থাকে তাহলে শীতকালে মাসে একবার পানি দিতে হবে।।।
খুটি দেওয়া
বেশীর ভাগ ক্যাকটাসে খুটি দেওয়ার দরকার হয় না, তবে যে সব ক্যাকটাস লতানো মতো হয় সেগুলোতে খুটি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে
বিভিন্ন ধরণের ক্যকটাস:
ফনিমনসা: এদের কান্ড পুরু, চ্যাপটা ও ডিম্বাকৃতি। একটির প্রান্ত হতে আরেকটি
বের হয়। তীক্ষè কাঁটাযুক্ত কান্ডের গায়ে তারকাকারে সজ্জিত। অধিকাংশ ফনিমনসার বড় হলুদ
বা লালচে বর্ণের ফুল হয়। ফনিমনসার অনেকগুলো জাত রয়েছে, যেমন-ডিলেনাই,
ইলেটিওর, কেচিনেলিফেরা, ননাকান্থা বা মনকাটা নাইগ্রিকান্স প্রভৃতি।
নিপল ক্যাকটাস: পশুর বাটের মতো ঠোঁট, বামনাকার,
কান্ডের শীর্ষে গুচ্ছ গুচ্ছ চুলের মতো পাতা ও পাতার ফাঁকে ফুল
হয়। ফুলগুলো হালকা হলুদ। এর সুদৃশ্য ফুলের ভিতরের দিক উজ্জ্বল হলুদ, বাইরের দিক লালচে। এর জাতগুলো যেমন কোয়াড্রস্পাইনা, এমপুশিলা, এম আটটা ইত্যাদি।
মেলোক্যাকটাস: এ শ্রেণী দেখতে তরমুজ/ফুটির মতো।
এদের মাথার শীর্ষ দেশ পশমী চুলের ন্যায় কাঁটায় আবৃত। এর জাতগুলোর মধ্যে পিরামিডাম, ডিপ্রেসাস,
পলিক্যান্থাস, ম্যাক্সো ক্যান্থাস,
গ্রেংগেলি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
সোরিয়াস: এই শ্রেণীর ক্যাকটাস শক্ত, দীর্ঘ, কান্ডযুক্ত ও
কাঁটাওয়ালা। এগুলো ইট, পাটকেলের গুঁড়ো, পচা গোবর ও মাটির মিশ্রণে লাগানো হয়। এই ফুল সন্ধ্যার পর ফুটতে শুরু
করে এবং মধ্য রাত্রি পর্যন্ত তা চলে। প্রায় ৬ ইঞ্চি ব্যাসযুক্ত সাদা কেন্দ্র
হলুদাভাব বেগুনী, বহির্দেশ সুগন্ধযুক্ত।
হেকসাগোনাস: ছয় শিরা বিশিষ্ট। এতে বড় বড় ফুল
ফোটে।
ট্রাংকেনাম: এই জাত শীতকালে বৃহৎ দর্শনীয় ফুল
দেয়। ফুলের রং গোলাপী। দিনের বেলায় ফুল ফোটে। গাছ দুর্বল স্বভাবের। তবে গাছের
যেকোন অংশ মাটিতে পুঁতলে শিকড় বের হয় এবং পরে বড় ফুল ফোটে।
রিপম্যালিস: এর অ™ভুদ
ধরনের কান্ড। ছোট ছোট জোড়া লাগানো বলে মনে হয়। আবার অনেকগুলো তামাকের পাইপ জোড়া
দেয়া মনে হতে পারে। ফুল ছোট হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। এটা পরগাছা উদ্ভিদ হিসেবে
জন্মে।
পেরেসকিয়া: এর সিংগল জাতে গোলাপের মত ফুল
ফোটে। পেরেসকিয়া সারা বছর ফুল দেয়। এরকম অসংখ্য জাতের ক্যাকটাস রয়েছে।
কেমন মাটিতে ক্যাকটাস জন্মে
ক্যাকটাস শুষ্ক মরু অঞ্চলের কংকরময় স্থানের উদ্ভিদ বলে বাগানে বা টবে
চাষ করতে হলে মরুভূমি অঞ্চলের মাটির ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারনতঃ আলগা অথচ মাটি
শুষ্ক আবহাওয়া ও অল্প পানি সেচে ক্যাকটাস ভালো জন্মে।
টবের মাটি তৈরি করতে হবে- ভালো পচা কম্পোষ্ট তিন ভাগ, শুকনা গোবরের
গুঁড়া এক ভাগ, দো-আঁশ মাটি এক ভাগ, চুনসুরকী এক ভাগ, মোটা সিলেট বালু ৬ ভাগ দিয়ে
ক্যাকটাসের মাটি তৈরি করতে হবে এবং ফুলের জন্য সামান্য হাড়ের গুঁড়া দিতে পারেন।
কেমন দাম
ক্যাকটাসের জাতভেদে ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এমনকি এর চেয়ে বেশি দামের
ক্যাকটাস রয়েছে।
কোথায় পাবেন
দেশের বিভিন্ন বিশ্বস্ত নার্সারীগুলো থেকে ক্যাকটাস কিনতে পারেন।
এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়, বিভিন্ন মেলা
(যেমন বৃক্ষ মেলা) প্রভৃতি স্থান থেকে ক্যাকটাস কিনতে পারেন।
আয়-রোজগার
বর্তমানে ক্যাকটাসকে কেন্দ্র করে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেউবা
ক্যাকটাসকে দিয়ে বাড়তি আয় করে বা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করতে পারেন। শিকড় থেকে ক্যাকটাসের চারা
উৎপাদন করতে গ্রাফটিং জানা প্রয়োজন।
গ্রাফটিং
কাঁটা ছেঁড়ার প্রক্রিয়াকে গ্রাফটিং বলে। সহজ কথায় ‘জোড়কলম’ কে
গ্রাফটিং বলা হয়। দুটি জাতের দু’টি সবল চারা প্রয়োজন। যে চারার উপর গ্রাফটিং করা
হয় তাকে ‘রুট স্টক’ বলে। যাকে গ্রাফট করা হয় তাকে ‘সিয়ন’ বলে। সাধারণত লাল, হলুদ, কমলা, বহু বর্ণের ক্যাকটাস ‘সিয়ন’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জাপানে প্রথম
ক্যাকটাসের গ্রাফটিং শুরু হয়। সবুজ কান্ডের উপর টুকটুকে লাল বা হলুদ কিংবা কয়েক
রকমের বর্ণালী ছোট ছোট বল বসানো গ্রাফটিং করা ক্যাকটাস দেখতে অপরূপ নয়নাভিরাম। তাই
এ ধরনের ক্যাকটাসের চাহিদা বেশি। দু’টি সুস্থ সবল চারা বাছাই করে প্রথমে পরিষ্কার
করতে হবে। খুব ধারালো চাকু দিয়ে প্রথমে ‘রুটস্টক’ ক্যাকটাসটির মাথার দিকে প্রায় এক
ইঞ্চি এক পোচে কাটতে হবে। এরপর ‘সিয়ন’ শিকড়ের দিক থেকে খানিকটা অংশ পূর্বের ন্যায়
অর্থাৎ মাথার দিকে প্রায় এক ইঞ্চি কেটে ‘সিয়ন’ কে রুটস্টকের উপর বসিয়ে দিতে হবে।
বসানোর সময় বা জোড়া দেয়ার সময় দু’টো অংশ মিলে ‘উল’ বা ‘রবার ব্যান্ড দিয়ে
লম্বালম্বি বেঁধে পুরো একদিন অন্ধকারে রেখে দিতে হবে। আলোতে এনে ১০ থেকে ১৫ দিন
রাখার পর রাবার ব্যান্ড খুলে দিতে হবে। পানি দিবেন তবে বেশি পানি দেয়ার দরকার নেই।
ধীরে ধীরে পরিচর্যা করুন।
সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আপনি ক্যাকটাসে আপনার কাংখিত ফুল পেতে পারেন।
ব্যাগে সবজি চাষ
বাসার ছাদে, সিঁড়ির নিচে অথবা বেলকুনিতে ব্যাগে সবজি চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) নামে একটি বেসরকারি সংগঠন। এ পদ্ধতিতে একটি ব্যাগে একাধিক সবজি চাষ সম্ভব। এতে মানুষ বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে। এফআইভিডিবির নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমদ জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাগে সবজি উৎপাদন করা হয়।
এ পদ্ধতি অনুসরণ করে ২০০৯ সাল থেকে তারা গবেষণা করে আসছেন। গত বর্ষা মৌসুমে তারা সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ পদ্বতিতে সবজি চাষ করে সফল হন। এরপর শহরের লোকজন এ পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তারা বাসার ছাদ, সিঁড়ির নিচে কিংবা বারান্দার প্লাস্টিক ব্যাগে পালং, পুঁই, কুমড়া, লাউ, ডাটা, কলমি ও লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি উৎপাদন শুরু করেন। ব্যাগে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি। সংস্থাটির জীবনযাত্রা উন্নয়ন কর্মসূচির পরামর্শক ড. শেখ তানভীর হোসেন জানান, এ পদ্ধতিতে সারাবছরই সবজি চাষ সম্ভব। এটি সবজি চাষের জুতসই পদ্ধতি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে প্রত্যেককে প্রতিদিন ২৭৫ গ্রাম শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অভাবের কারণে এ দেশের প্রায় অর্ধেক লোকের পক্ষেই ৭৫-৮০ গ্রামের বেশি সবজি খাওয়া সম্ভব হয় না। পুষ্টির অভাবে ৯৪ ভাগ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না। এ পদ্ধতি কিছুটা হলেও শাকসবজির চাহিদা পূরণ করবে।


















.jpg)