Showing posts with label শাক-সব্জি. Show all posts
Showing posts with label শাক-সব্জি. Show all posts

শেকৃবিতে চাষ হচ্ছে নতুন সবজি টমাটিলো

যুগের আলোচিত মরণঘাতী ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, কন্সটিপেশন নামক বিভিন্ন রোগ নিরাময়কারী গুণসমৃদ্ধ নতুন এক ধরনের ফল তথা সবজি চাষ হচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)।

নতুন এ শস্যের নাম টমাটিলৌ, যা আমাদের দেশীয় টমেটোর সোলানেসি গোত্রের একটি সবজি। এ টমাটিলৌ শুধু রোগ নিরাময়কারী নয়, এটি কীটনাশক ও বিষমুক্ত একটি পরিবেশবান্ধব সবজি। দেশে প্রথমবারের মতো চাষ করা এ টমাটিলৌ কোনো কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদন করা হয়েছে। ফলে এ শস্য উৎপাদনে একদিকে পরিবেশ যেমন অপরিকল্পিত বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি কৃষকের উৎপাদন খরচও অনেক কমে যাবে। আর এ নতুন শস্য টমাটিলৌর অরিজিন মেক্সিকোতে।
শেকৃবির জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মাঠে এ সবজি চাষ করেন। এতে দেখা যায় সম্পূর্ণ দেশীয় টমেটোর আদলে টমাটিলৌ চাষ করা হলে দেশি টমেটোর চেয়ে এক মাস আ
গেই এতে ফ্লাওয়ারিং (ফুল ধরা) শুরু হয়। ফলে এর হার্বেস্টিংও (ফসল সংগ্রহ) অল্প সময়ে করা সম্ভব। গবেষক নাহিদ জেবা গবেষণার মাঠে ৩০টি জাত ও লাইনের টমেটো নিয়ে গবেষণা করেন। এতে মেরুন, হলুদ, কমলা ও পিঙ্কসহ বিভিন্ন কালারের পাশাপাশি পিয়ার, পাপায়া, গ্লোব ও জায়ান্ট শেপসহ বিভিন্ন আকৃতির টমেটোর গবেষণায় সফলতা লাভ করেন।

টমাটিলৌ শস্যটি দেখতে খোসাযুক্ত ফোসকা বেগুনের মতো। পুরো ফলটি এক ধরনের শক্ত খোসা দ্বারা আবৃত থাকে। এটি দেশীয় টমেটোর চেয়ে আকারে কিছুটা বড় হয়। টমাটিলৌর ভেতরের অংশ পেয়ারার মতো ভরাট থাকে। পরিপক্ব টমাটিলৌর গা গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়। এ ছাড়া এটি দেশীয় টমেটোর মতো এক গুচ্ছে না হয়ে আলাদাভাবে জন্মে। এর একটি গাছে আড়াই থেকে তিন কেজি টমাটিলৌ পাওয়া যায়।

টমাটিলৌ সালাদ, সস ও তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। বিশেষ করে নতুন এ শস্যটি কাঁচা অবস্থায় সুস্বাদু ফলের মতো খাওয়া যায়।

টমাটিলৌ সম্পর্কে প্রফেসর ড. নাহিদ জেবা বলেন, ‘আমাদের দেশে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি শস্য। সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও কীটনাশকহীন ভাবে উৎপাদন করা যায় বলে এটি একটি পরিবেশবান্ধব ফসল। তা ছাড়া খোসাযুক্ত হওয়ায় পাখি, পোকামাকড় ও বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। ফলে উৎপাদন খরচও অনেক কমে যায়। এ ছাড়া এর উৎপাদন প্রতি হেক্টরে প্রায় ৬০ টন। যা নিজ দেশে উৎপাদনের চেয়ে দ্বিগুণ। এ ছাড়া এর ঔষধি গুণাগুণ হলো এটি ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী। বিশেষ করে এর মধ্যে ফ্ল্যাভিনয়েড থাকায় এটি লাং ও মুখ গহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে এতে পেকটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি অ্যান্টিকন্সটিপেশন, অ্যান্টিডায়রিয়া উপাদান হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এ শস্যের অধিক চাহিদা থাকায় এটি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।


নতুন এ শস্য নিয়ে শেকৃবির উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা বলেন, ‘টমাটিলৌ নামে নতুন এ শস্যটি নানা গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমাদের দেশে ব্যাপক সাড়া জাগাবে। দেশি টমেটোর মতো সালাদ, সস ও সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

সূত্র: লেখাপড়া.কম।

ভাসমান বেডে শাকসব্জি ও মসলা উৎপাদন।



অর্গানিক সব্জি চাষে বিপ্লব

বাগেরহাটের ফকিরহাটে গড়ে উঠেছে বেতাগা অর্গানিক পল্লি। নেপালের অর্গানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ হচ্ছে এখানে। এই পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদন হচ্ছে ফসলের।

বেতাগার অর্গানিক পল্লিতে এবার ৫০ একর জমি অর্গানিক পদ্ধতিতে আনা হয়েছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত এই পদ্ধতির উদ্যোক্তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন দাস। তিনি জমিতে জৈব সার ও সেক্স ফরমেট ট্রাপ ব্যবহার করে সবজির দ্বিগুণ উৎপাদন পেয়েছেন। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করায় তার অর্থেরও সাশ্রয় হয়েছে।

বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদে ‘উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে’ নামক এক প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি মৌজায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই লাউ, ঝিঙ্গে, পটল, উচ্ছে, করল্লা, ডাটাশাক, পুঁইশাক, শসা, চিচিঙ্গা, ক্ষীরা,  বেগুন, আলু, টমেটো, সূর্যমুখী, থাইপেয়ারা ও মাল্টার চাষ হচ্ছে।

বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘নেপালের কাঠমান্ডুর অর্গানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এখানে পরিবেশ বান্ধব শাক-সবজির আবাদ করা হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে আরও ১০ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। একদিকে যেমন কীটনাশক থেকে পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে অপরদিকে কৃষকের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।’


তিনি বলেন, জৈব সার ব্যবহার করে এখানকার একজন কৃষক ১২ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করে দেড় লাখ টাকা উপার্জন করেন।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন জানান, বাগেরহাট জেলার মধ্যে বেতাগা গ্রাম একটি উদাহরণ। শুধুমাত্র এখানেই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদন হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার করে লাউ, করল্লা, শসার উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কচুরিপানা, গোবর ও ইউরিয়া সার মিশ্রিত করে ৪ মাস পর সবজি খেতে ব্যবহার করছে। কীটনাশক দমনের জন্য সেক্স ফেরমোন ট্রাপ ব্যবহার করছে।

কৃষকদের পরামর্শের জন্য এখানকার মাসকাটা নামক গ্রামে কৃষি ও তথ্য সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইউপি সদস্য ও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক স্থায়ী কমিটির ইউনিয়ন সভাপতি ইউনুস আলী শেখ জানান, সবজি বাজারজাতকরণের জন্য অর্গানিক বেতাগা সবজি মার্কেট নামে একটি বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ১৩ শতক জমির ওপর ১৮ লাখ ব্যয়ে মার্কেটটি নির্মাণ করছেন।

বেতাগা গ্রামের চাষি গোবিন্দ দেবনাথ, পিযুষ দাস, ফিরোজ শেখ, মোশাররফ হোসেন ও চঞ্চল দাস জানান, এক বিঘা জমিতে সবজি উৎপাদন করতে দুই হাজার টাকার রাসায়নিক সার প্রয়োজন হতো। জৈব সার ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করতে ৭০০ টাকা খরচ হয়। স্থানীয় কৃষকরা এখনই বাঁধা কপি, ওলকপি, ক্ষীরাই ও টমেটো চাষের উদ্যোগ নিয়েছে।

বেতাগা গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের এনামুল হকের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, ‘কচুরিপানা, গোবর, ফসফেট ও ইউরিয়া সার মাটি চাপা দিয়ে রাখার চার মাস পর এ জৈব সার ব্যবহারের উপযোগী হয়।’

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অপর একটি সূত্র জানায়, উপজেলার হোচলা গ্রামে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত পরিবেশে সবজি আবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশাবাদী বেতাগার মত হোচলা গ্রামেও তারা অর্গানিক পদ্ধতিতে সফল হবে।

সূত্র: রাইজিংবিডি ডট কম

সারিয়াকান্দিতে টমেটো চাষ করে আনছার আলী লাখোপতি

বগুড়ার সারিয়াকান্দির হাটফুলবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামে টমেটো চাষ করে লাখপতি হয়েছেন আনছার আলী নামে এক কৃষক। তিনি ৬০শতাংশ জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় সাড়ে ৪শ মণ টমেটোর ফলন পেয়েছেন। আর এ টমেটো পাইকারী দরে বাজারে বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৬৫হাজার টাকায়। টমেটো চাষে খরচ হয়েছে তার প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। গরিব এ টমেটো চাষীকে এলাকার সবাই এখন লাখপতি আনছার আলী নামেই চেনেন। টমেটো চাষী মোঃ আনছার আলী জানান, নিজের তেমন জমি নেই তার। তবে জমি খায়খালাশি নিয়ে চাষাবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।


কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের র্কমকর্তাদের নিকট থেকে টমেটো চাষে লাভ বুঝতে পেরে ১৫ বছর ধরে খায়খালাশি জমিতেই টমেটো চাষ করে আসছেন। ১৫ বছরের মধ্যে কোনবার টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন আবার কোন মৌসুমে গচ্চা গেছে অনেক টাকা। গত মৌসুমেও মোটা অংকের টাকা গচ্চা গেলেও হতাশ হননি তিনি। চলতি মৌসুমে তার গ্রামের উত্তরে চিলি্লরবন্দ নামে উর্বর ৬০শতাংশ জমিতে টমেটো চারা রোপন করেন। চারা রোপণের পর থেকেই তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে টমেটো গাছ। এ মৌসুমে টমেটো চাষে লাভ ভাল হবে বুঝতে পারে আনছার আলী হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শুরু করেন টমেটোর জমিতে। এসিআই'র পেস্টিসাইড বিভাগের স্থানীয় প্রতিনিধি রোকানুজ্জামান লিমন টমেটোর জমিতে গিয়ে টমেটো গাছের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক গাছ সুরক্ষা, অধিক ফুলফল, ফলের রং ইত্যাদির জন্য ধাপে ধাপে ব্যাভিস্টিন, নিউবেন, টিডো, ফ্লোরা, ম্যানকোজেব নামে বিভিন্ন ওষুধ ও সার প্রয়োগ করতে থাকেন জমিতে। জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকে মণে মণে লাল টুকটুকে টমেটো তুলতে থাকেন আনছার আলী। প্রতি কেজি ৩০/৩৫টাকা দরে ব্যাপারীরা জমি থেকেই ক্রয় করে নিয়ে যায় টমেটো। স্থানীয় ইব্রাহিম, সহিদুল, সোহাগ জানান, টমেটো চাষে লাভ বুঝতে পরে একই গ্রামের ফিরোজ আহম্মেদ ধলু, মোস্তাফিজুর রহমান, জিয়ারুল আকন্দ, রফিকুল ইসলামও এবার টমেটো চাষে ভাল ফল পেয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, চলতি মৌসুমে টমেটো চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে টমেটোর ফলন ভাল হয়েছে এবং দামও ভাল পাওয়ায় টমেটো চাষীরা লাভবান হয়েছেন।

গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী ফরিদপুরের অনেক যুবক

বারি উদ্বাভিত হাইব্রিড প্রজাতির গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে ফরিদপুরের অনেক বেকার যুবক। উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশী হওয়াতে অনেকই ঝুকছেন এখন গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ।

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বিলমামুদপুর গ্রামের বদরুজ্জামান বাচ্চু মোল্যা। এসএসসি পাশের পরে দারিদ্রতার কারনে আর পড়া হয়নি। অনেক দিন বেকার থাকার পরে টেলিভিশনের একটি রিপোর্ট দেখে উৎসাহী হন গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষাবাদের। শুরু করেন নিজের ৭ শতক জমির উপর ৮ শত চারা রোপন করে। ভাইরাস জনিত রোগে এর মধ্যে ১শত চারা মারা গেলেও ৭ শত চারায় এসেছে ফলন। মৌসুমের প্রথম ফলন সংগ্রহতেই বাচ্চু পেয়েছেন প্রায় ৭শত কেজি টমেটো। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজিতে ১শত থেকে দেরশত টাকা। ৬ মাস পর্যন্ত এই চারা থেকে ফলন পাওয়া যাবে।


৭শতক জমিতে টমেটো আবাদে বাচ্চুর খরচ হয়েছে ২১ হাজার টাকা। এবছর তিনি দেড় থেকে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন। বাচ্চুর টমেটো চাষ দেখে এলাকার অনেকেই এখন গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ করছে। অনেকে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টমেটো চাষ করে বেকার যুবকরা স্বপ্ন দেখেন স্বাবলম্বী হওয়ার। কৃষক বাচ্চু মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন বেকার জীবন যাপক করার পর টেলিভিশনের এই উন্নত জাতের গ্রীস্মকালীন টমেটোর প্রতিবেদন দেখে আমি টমেটো চাষে করার প্রস্তুত নিচ্ছি ঠিক তখন আমার পাশে এসে দাঁড়ায় ইউ এস এ আই ডির কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি আমাকে ৭শতাংশ জমিতে টমেটো চাষের জন্য ১৩হাজার ৪শত টাকা। তিনি শুধু টাকা দিয়েই সহযোগিতা করেনি, কিভাবে গাছে বেশি ফলন আসবে কিভাবে আমার খেত ভাল হবে সব ধরনের প্ররামর্শ দিয়েছেন। তবে কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের কেউ কোন সহযোগিতা করেনি। আমার গাছে ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হলে বিভিন্ন সময় কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাইছি। কিন্তু তার একটিনের জন্যও আমার ক্ষেতে আসেনি। কৃষি বিভাগ আমাকে সহযোগিতা করলে আমি আরও ভাল ফল পেতাম।

বাচ্চু মোল্যার টমেটো চাষের সাফল্য দেখে প্রতিবেশি শিক্ষিত বেকার যুবক হায়দার আলীও গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ শুরু করেছেন। কিন্তু সমস্যা একটি রয়েই গেছে। টমেটো চারা রোপনের পর গাছ গুলো ভালই হয়ে ছিল। কিন্তু কিছু গাছের পাতা কুকড়িয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। হায়দার অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগ কিষের জন্য। তারা যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে তাদেরকে দরকার নেই। আমি বার বার তাদের সাথে যোগা যোগ করেছি আমি আমার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারা একবারের জন্যও আমার টমেটো খেত দেখতে আসেনি। কৃষি বিভাগের লোক আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা ভাল ভাবে চাষাবাদ করতে পারতাম। আমরা লাভবান হতাম।
কৃষিবিভাগ বলছে এটি ভাইরাস জনিত রোগ। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের মূল সমস্যা গাছের পাতা কোকড়ানো ও পচে যাওয়া।

কৃষকদের অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, হারন-অর-রশীদ বলেন, হাইব্রিড প্রজাতির গ্রীস্মকালীন টমোটে চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। আমাদের অঞ্চলে এখন অনেকেই গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষ শুরু করেছে। আমার চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি।

লতিরাজ কচুতে ভাগ্য ফেরালেন শাহজাহান

আনোয়ার হোসেন শাহীন অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়ার মো. শাহজাহানের। নিজের কোনো বসতভিটাও ছিল না তার। দিনমজুরি করে যা আয় হতো তা দিয়ে আধপেটা খেয়ে দিন কাটাতেন। তবে এসব এখন অতীত। লতি রাজ কচু চাষ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাকে দেখে ও পরামর্শ নিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গার প্রায় দেড় হাজার কৃষক কচুর আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শাহজাহান কচু চাষ শুরু করেছিলেন। এখন তিনি জেলার সফল লতি রাজ কচু চাষি। সাড়ে চার বিঘা জমিতে কচুর চাষ করছেন তিনি। মাসিক আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে।

উপজেলার শ্রেষ্ঠ চাষির পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। কেবল কচু নয়, এখন মাছ ও মাছের পোনাও উৎপাদন করেন তিনি। উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দেড় হাজার লোক শাহজাহানের কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে লতি রাজ কচুর চাষ করছেন। মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান ১২ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে যশোরের বাঘাড়পাড়া এলাকায় চলে যান। সে সময় আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় এক কৃষকের বাড়িতে দিনমজুরি করে দিন কাটে তার। ছয়বছর পর নিজের গ্রামে ফিরে এসে বিয়ে করে সংসার পাতেন। অভাব তখন নিত্যসঙ্গী। কী করবেন, ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কচু চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। আগেই অভিজ্ঞতা ছিল। যশোরের বাঘারপাড়া থেকে চারা আনেন। ২০০৪ সালে নিজের দশ শতক কৃষি জমিতে লতিরাজ কচুর আবাদ শুরু করেন। লতির জন্য আলাদা কচু আবাদের কোনো ধারণাই এ এলাকার কৃষকদের ছিল না।


অনেকে ধানের জমিতে কচুর আবাদ দেখে হাসাহাসি করেন। প্রথম বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ১০ হাজার টাকা। পরেরবার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমি লিজ নিলেন। বাড়ালেন কচুর আবাদ। পরের বছর দিগুন লাভ করলেন। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সম্প্রতি আড়পাড়া গিয়ে দেখা যায়, শাহজাহান তার কৃষি শ্রমিকদের নিয়ে কচু খেত থেকে লতি সংগ্রহের কাজ দেখাশোনা করছেন। তিনি জানান, প্রথমে এক বিঘা জমি ইজারা নিয়ে চাষ করলেও বর্তমানে জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ বিঘা। এর মধ্যে নিজের জমি করেছেন আড়াই বিঘা। লতিরাজ কচু চাষে বর্তমানে তার মূলধন ৫ লাখ টাকারও বেশি।

গত বছর সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে সাড়ে সাত লাখ টাকার কচুর লতি উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি লতি পাইকারি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তার উৎপাদিত লতি পাইকাররা চালান করেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। শাহজাহান, খেতের আইলে বিভিন্ন সবজি লাগিয়ে ও পুকুরে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করেছেন পাঁচ লাখ টাকার মতো। মাছ বিক্রি করে তার লাভ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। এ বছর ৭ থেকে ১০ লাখ টাকার কচুর লতি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার। মাছ বিক্রি করেও ৩ লাখ টাকার মতো লাভ হবে বলে তিনি ধারণা করছেন। শাহজাহান জানান, লতিরাজ কচুর চাষ করে করে তিনি আড়পাড়া বাজারে দোকান করেছেন। পাশাপাশি আড়াই একর ধানি জমিও কিনেছেন।

এ ছাড়া আধাপাকা বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকার কৃষক, রতন আলী জানান, উপজেলার অনেক তরুণই শাহজাহানের দেখাদেখি লতিরাজ কচুর চাষ করে নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছেন। কচু চাষে শাহজাহানের কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নেন এলাকার চাষিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ উদ্দীন আহমেদ শাহজাহান সম্পর্কে বলেন, শাহজাহান দারিদ্র্য জয় করেছেন। লেখাপড়া না জানলেও তিনি উপজেলার সবার কাছে অনুকরণীয়। এ বছর জাতীয় পুরস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তরে তার নাম পাঠানো হবে। বেকার যুবকেরা তার মতো কাজ শুরু করলে বেকারত্ব দূর হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও সুফল বয়ে আনবে।

--------------------------
আধুনিক পদ্ধতিতে পানি কচুর চাষ
--------------------------
পানি কচু একটি পুষ্টিকর ও উপকারী সবজি। বাংলাদেশের সর্বত্র পানি কচুর চাষ করা যায়, এরা দাড়ানো পানি সহ্য করতে পারে।

উপযোগী মাটি : মাঝারি নিচু থেকে উঁচু জমি যেখানে বৃষ্টির পানি সহজেই ধরে রাখা যায় অথবা জমে থাকে এমন জমি পানি কচু চাষের জন্য উপযোগী, পলি দো-আঁশ ও এঁটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উত্তম।

জাত : লতিরাজ (উফশী) ও জয়পুরহাটের স্থানীয় জাত পানি কচুর জন্য উত্তম জাত।

রোপণের সময় : আগাম ফসলের জন্য কার্তিক এবং নাবী ফসলের জন্য মধ্যম ফাল্গুন থেকে মধ্য বৈশাখে কচু লাগানো যায়।

রোপণের দূরত্ব : সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি. এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ৪৫ সেমি.।

কচু রোপণের নিয়ম : পূর্ণ বয়স্ক কচুর গোড়া থেকে ছোট ছোট চারা উৎপন্ন হয়। এসব চারার মধ্যে সতেজ চারা পানি কচু চাষের জন্য বীজ চারা হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। পানি কচুর চারা কম বয়সের হতে হবে, ৪-৬টি পাতাসহ সহেজ সাকার বীজ চারা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, চারা রোপণের সময় উপরের ২/১টি পাতা বাদ দিয়ে বাকি সব পাতা ও পুরানো শিকড় কেটে ফেলতে হবে। চারা তোলার পর রোপণের দেরী হলে চারা ভিজামাটি ও ছায়ামুক্ত স্থানে রাখতে হবে। মাটি থকথকে কাদাময় করে তৈরির পর নির্ধারিত দূরত্বে ৫-৬ সেমি. গভীরে চারা রোপণ করতে হবে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি : গোবর, টিএসপি, এমওপি সার চারা রোপণের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার ২/৩ কিস্তিতে দিতে হবে। তবে ১ম কিস্তি রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যেই প্রয়োগ করতে হবে।

অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা : পানি কচুর গোড়ায় সব সময় পানি জমিয়ে রাখতে হবে এবং দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়াচারা করে দিতে হবে। চারা বাড়-বাড়তির জন্য মাঝে মাঝে জমি থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে। আবার নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি দিতে হবে। দেওয়া পানি সরানো যদি ৩/৪ বার করা যায় তবে পানি কচুর ফাল্গুটি সঠিকভাবে লম্বা ও মোটা হয়।

গোড়ার চারা সরানো : কাণ্ডের গোড়ায় যে সকল চারা হবে সেগুলি তুলে ফেলতে হবে। চারা হিসেবে ব্যবহারের জন্য মাটির নিচের অংশ থেকে যে সব চারা আসবে তা থেকে ২/৩টি চারা রেখে বাকি চারা কেটে দিতে হবে।

পোকা দমন : ছোট ও কালচে লেদাপোকা পাতা খেয়ে ফেলে। এসব পোকা প্রথমত হাত দিয়ে মেরে ফেরতে হবে, সংখ্যা বেশি হলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

রোগবালাই : কচুর পাতায় মড়ক রোগ হলে পাতার উপর বেগুনী বা বাদামী রঙের গোলাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে এসব দাগ আকারে বেড়ে একত্রিত হয়ে পাতা ঝলসে যায়। পরে তা কচু ও কন্দে আক্রমণ করে। বেশি আক্রান্ত হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিন বা ডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ৩-৪ বার ¯েপ্র করতে হবে।

ফলন সংগ্রহ : চারা রোপণের ৪৫-৭৫ দিনের মধ্যেই কচুর লতি তোলা হয়। ১০-১৫ দিন পরপর লতি তোলা যায়। চারা রোপণের ১৪০-১৮০ দিনের মধ্যে পানি কচু সংগ্রহ করা যায়। গাছের উপরের কয়েকটি পাতা রেখে বাকিগুলো কেটে ফেলে কাণ্ডটি পরিষ্কার করে বাজারজাত করতে হবে।


ফলন : লতি : ১.৫-২ টন/বিঘা, পাতাকচু: ৩-৫ টন।

পমেটো একই গাছের উপরে টমেটো আর নিচে আলু

কুমিল্লায় বিএডিসির গবেষণায় আলু (পটেটো) ও টমেটোর চারার সঙ্গে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে (জোড়কলম) পমেটোর (পটেটো+টমেটো=পমেটো) কাংখিত উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। একই গাছের শেকড়ে আলু ও কান্ডে টমেটোর বাম্পার ফলন কৃষি গবেষনায় এ অভূতপূর্ব ও বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অধীন জেলার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র। এখোনে বীজতলায় গবেষণা চালিয়ে পমেটো নামের এই নতুন চাষ পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একই গাছের মাটির উপরের কান্ডে ফলেছে উন্নতমানের বড় আকারের অনেক টমেটো। ওই গাছের মাটির নীচের অংশের শেকড়ের ভাজে ভাজে বড় আকারের আলু ফলেছে। একই গাছে আলু ও টমেটো ফলানোর এ ধরণের চাষ পদ্ধতির গবেষকসহ উদ্যানসংশ্লিষ্ট সবাই উদ্ভাবনী সাফল্যের তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএডিসি। একই সময়ে ডায়মন্ড জাতের আলু এবং পার্শ্ববর্তী স্থানে হাইব্রীড সফল উফশী রতন জাতের টমেটোর বীজতলায় আলু ও টমেটোর বীজ বপ
ন করা হয়। বীজতলা তৈরীর পূর্বে আলুর জমিতে ২ থেকে ৩বার হালকা সেচ দিতে হয় এবং টমেটোর বীজতলায় ঝাঁঝরি দিয়ে একইভাবে সেচ দিতে হয়। বীজতলায় উভয় চারার বয়স ২২ দিন হওয়ার পর গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আলু চারার সাথে টমেটোর চারার গ্রাফটিং বা ফাঁটল জোড়কলম করা হয়। গ্রাফটিং করার ৫ দিন ও ২০ দিন পর আবারো সেচ দিতে হয়। আলু চারার সাথে টমেটোর চারার গ্রাফটিং বা ফাঁটল জোড়কলম করার ১২ দিনের মাথায় আলু চারার সাথে টমেটোর জোড়কলমে ফুল ফুটে। এ গাছের মাটির নীচে আলু ও উপরে ফলেছে টমেটো- যা এ উদ্যান কেন্দ্রের সফল উদ্ভাবনী গবেষণার এক চমকপ্রদ সাফল্য।

সৈয়দপুর উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ও সফল গবেষক মো. নিগার হায়দার খান জানান, একই গাছে টমেটো ও আলুর এ চাষ পদ্ধতিতে প্রত্যাশার চেয়েও অধিক ফলন অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ চাষ স্বল্প পরিসরে বাড়ির আঙ্গীনায় বা ভবনের ছাদে করা যাবে। গ্রাফটিং (জোড়কলম) পদ্ধতির এ চাষ পেশাদার সবজি চাষীদের মতো বিস্তীর্ণ জমিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করা যাবে না। শহর বা অভিজাত এলাকার স্বল্প পরিসরের জায়গায় সৌখিন লোকজনের জন্য এ পদ্ধতিতে একের ভেতর দুই হিসেবে পমেটোর চাষ অত্যন্ত সুবিধাজনক। গবেষক মো. নিগার হায়দার খান আরও জানান, একই গাছে আলু ও টমেটোর চাষ পদ্ধতি দেখার জন্য অভিজাত মহলের ভবন মালিক ও সবজি চাষে সৌখিন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন এই উদ্যানে প্রতিদিন আসছেন এবং তারা বাড়ির আঙ্গিনায় ও ভবনের ছাদে পমেটো (পটেটো+টমেটো=পমেটো) চাষে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ছায়াযুক্ত পুকুরে মাছ ও সবজির সমন্বিত ইফকাস প্রযুক্তি

টাটকা শাকসবজি অথবা পুকুরের সদ্য তোলা মাছের স্বাদের কথা ভাবতেই ভালো লাগে। আর তা যদি হয় একেবারেই কীটনাশকমুক্ত তাহলে তো কথাই নেই। কেননা বাজারের মাছ ও সবজিতে প্রচুর ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলছে। ফলে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। আবাদি জমি কমে যাওয়ার কারণে অল্প জায়গায় বেশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন এখন সময়ের দাবি।

আমাদের দেশে গ্রামীণ বরিশাল অঞ্চলে মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের জন্য পরিবারভিত্তিক পুকুর খনন করা হয়। প্রথাগতভাবে এসব পুকুরকে ছোট মাছের ফাঁদ-পুকুর হিসেবে ব্যবহার করা হয় যেখানে সামান্য কার্পজাতীয় মাছের পোনা মজুদ করে শুধু পারিবারিক চাহিদা মেটানোর জন্য মাছ চাষ করা হয়। 
ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকোয়াকালচারের ওপর ভিত্তি করে পরিবারের পুষ্টি নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড ফোটিং কেজ অ্যাকোয়াজিওপনিক্স সিস্টেম (ইফকাস) প্রযুক্তিতে ছায়াযুক্ত পুকুরে একত্রে মাছ ও শাকসবজির সমন্বিত চাষ করে সম্প্রতি সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহায়তায় আন্তর্জাতিক এনজিও, ওয়ার্ল্ডফিশের অর্থায়নে কৃষি পুষ্টি এক্সটেনশন প্রকল্প (এএনএপি) বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে গ্রামীণ কৃষকদের সাথে ছায়াযুক্ত পুকুরে ইফকাস কাজ করে ওই সফলতা পেয়েছেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মাহফুজুল হক।

ডনজের উদ্ভাবিত ইফকাস প্রযুক্তি সম্পর্কে ড. হক বলেন, বরিশাল অঞ্চলের পুকুরপাড়ে প্রচুর গাছপালা থাকে যেগুলো সাধারণত রান্নার জ্বালানি, ফল এবং কাঠ উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য রোপণ করা হয়। পুকুরের পাড়ে এসব গাছ পুকুরের পানিতে ছায়া তৈরি করে সূর্যালোক অনুপ্রবেশে বাধা প্রদান করে। এতে করে পুকুরের পানিতে মাছের উৎপাদন ও পাড়ে সবজি উৎপাদন নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়। তবে পুকুরের পানিতে যেখানে সূর্যালোক পড়ে সে অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের একটি সম্ভাবনা রয়েছে। পুকুরের পাড়ে ছায়াময় প্রকৃতি এবং পানিতে সূর্যালোক এক্সপোজার এলাকা বিবেচনা করে একটি নতুন বিশেষ পানিভিত্তিক অ্যাকোয়াকালচার সিস্টেম, ইফকাসের ওপর একটি অ্যাকশন গবেষণা পরিচালনা করা হয়। সেখানে খাঁচায় ও পানিতে মাছের জন্য যে খাদ্য দেয়া হয় তাতে নাইট্রোজেনাস ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যা মাছের বৃদ্ধির জন্য তিকারক। কিন্তু উদ্ভিদের জন্য চমৎকার সার। ইফকাসের কাঠামোয় সবজির মাদায় ব্যবহৃত পুকুরের কাদায় যে জৈব সার থাকে যেটি উদ্ভিদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট সার।

ইফকাস তৈরির পদ্ধতি
একটি ৯ বর্গমিটার আয়তনের লোহার বার দিয়ে তৈরি ফ্রেমকে ভাসিয়ে রাখার জন্য কাঠামোটির চার কোণে ফোট বসানোর জন্য চারটি খাঁজ রাখা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত প্লাস্টিকের কনটেইনার দিয়ে তৈরি ফোট ইফকাসকে ভাসিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। লোহার ফ্রেমের অনুপ্রস্থ বরাবর দুটি ফোটের মাঝে সবজি রোপণের জন্য একটি করে মাদা তৈরি করা হয় যেখানে পুকুরের শুকনো কাদা, গোবর ও অন্যান্য জৈবসার মিশিয়ে দেয়া হয়। মাদার নিম্নাংশে পুকুরের পানিতে লেগে থাকার কারণে পানি থেকে উদ্ভিদ সারবস্তু সহজে গ্রহণ করতে পারে, এতে করে উদ্ভিদের জন্য কোনো সেচের প্রয়োজন হয় না। কাঠামোর উপরিতলের গঠন বরাবর সবজিগাছ বেয়ে চলার জন্য বাঁশের ফালি দিয়ে একটি মাচা তৈরি করা হয়।
চাষিদের পছন্দ অনুযায়ী লতানো সবজি এবং পুকুরের পানি থেকে পুষ্টি শোষণ করতে পারবে এ রকম জাতের সবজি মাদায় রোপণ করা যায়। জালের খাঁচার ভেতর মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা ১০০ ঘনমিটার হারে মজুদ করে ভাসমান খাদ্য প্রয়োগ করে ইফকাসের বাইরে, পুকুরের অবশিষ্ট এলাকা সাধারণ কার্প চাষ কৌশল অনুযায়ী রুই-কাতলা চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়।
গবেষণার প্রথম চক্রের (জুলাই-অক্টোবর, ২০১৩) শুরুতে নয়টি পরিবারের সাথে গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। চাষিরা সব ইফকাস পুকুরের সূর্যালোক এক্সপোজার এলাকায় স্থাপন করেন।

ড. মাহফুজ আরো বলেন, চাষিরা তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী সবজি যেমনÑ শসা, চিচিঙ্গা, পুঁইশাক, করলা ও শিম ইত্যাদি লতানো সবজি হিসেবে রোপণ করতে পারবেন।

আধা ছায়াময় ও গভীর-ছায়াময় পুকুরের ইফকাসে তেলাপিয়ার উৎপাদন যথাক্রমে ৩১ ও ৫২ কেজি/৯ বর্গমিটার গভীর ছায়াময় পুকুরের ইফকাসে তেলাপিয়ার উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাব্য কারণ পুকুরের পানিতে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের উপস্থিতি, যা পুকুরে গাছের পাতা ও অন্যান্য জৈব অংশ পচে তৈরি হয়। গবেষণা থেকে দরিদ্র কৃষকদের জন্য ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকোয়াকালচার-অ্যাগ্রিকালচার সম্পর্কিত নতুন প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সম্প্রসারণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুধু তা-ই নয়, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এখন নেপালের দুটি জেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু ছায়াময় পুকুরের জন্যই নয় বরং বহুমালিকানা পুকুর, বিল, খাল, নদী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধ এলাকা ইত্যাদিতে ব্যবহার করলে কৃষকেরা পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি উৎপাদিত মাছ ও সবজি বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন। ।
আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

(সৌজন্যে নয়াদিগন্ত)

শসা চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন মোজাম্মেল

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের চাষি মোজাম্মেল হক শসা চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। বেকারত্ব ঘোচানোর জন্য ২০০৮ সালে তিনি মাদারগঞ্জের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দারের পরামর্শে মির্জাপুর গ্রামের ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড শসা আবাদ শুরু করেন। সেই শসা চাষ থেকে ওই বছর উৎপাদন খরচ ছাড়াই তিনি ৩ লাখ টাকা আয় করেন। আর তখন থেকেই তার বেকারত্ব ঘুচে যায় এবং পরবর্তী সময়ে শসা চাষেই তিনি তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলেন। 

মোজাম্মেল হক জানান, হাইব্রিড জাতের শসা বছরে ৩ বার আবাদ করা যায়। তিনি ২০০৯ সাল থেকে শসার আবাদ বৃদ্ধি করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ১৫ বার ১০ বিঘা জমিতে ওই শসার চাষ করেন। এ শসা চাষের সময় হচ্ছে, জৈষ্ঠ্য মাসের ১০ তারিখ থেকে শ্রাবণ মাসের ১৫-২০ তারিখ পর্যন্ত। ভাদ্র মাসের ১০ তারিখ থেকে কার্তিক মাসের ১৫-২০ তারিখ পর্যন্ত এবং মাঘ মাসের ১০ তারিখ থেকে চৈত্র মাসের ১৫-২০ তারিখ পর্যন্ত। এই সবজি চাষের সময়কাল ৬৫-৭০ দিন এবং বীজ বপন করার ৩৫ দিন পরে ফলন আসতে থাকে। একটানা ১০ বার তিন দিন পরপর ক্ষেত থেকে শসা উঠানো যায়। চাষি মোজাম্মেল হক বছরে ৩ বার করে পাঁচ বছরে মোট ১৫ বার ১০ বিঘা জমিতে শসা আবাদ করে উৎপাদন খরচ ছাড়াই বিঘাপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা লাভ করেন। এতে গত ছয় বছরে তার লাভের অঙ্ক দাঁড়ায় মোট ৭৮ লাখ টাকা।


এক বিঘা জমিতে শসা চাষে মোট খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। ফলন আসে কমপক্ষে ২৪৫ মণ। আর ১০ বিঘা জমিতে মোট ফলন আসে ২ হাজার ৪৫০ মণ। তার উৎপাদিত এই বিপুল পরিমাণ শসা স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজারে এই শসা বিক্রির ব্যবস্থা করেন। পাকা রাস্তা থেকে তার শসা ক্ষেত ৩ কিলোমিটার দূরে। তাই তিনি ক্ষেত থেকে শসা তুলে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ির সাহায্যে স্থানীয় মিতালী বাজারে নিয়ে জমা করেন। তারপর ট্রাকে করে কারওয়ান বাজারে পাঠানো হয় বিক্রির জন্য। এতে ১০ বিঘা জমির শসার জন্য আবাদ ও পরিবহনসহ মোট খরচ হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর মণপ্রতি শসা গড়ে বিক্রি হয় ৪০০ টাকা। ২ হাজার ৪৫০ মণ শসার বিক্রয়মূল্য পাওয়া যায় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নীট লাভ হয় ৫ লাখ টাকা। এইভাবে মোজাম্মেল হক ১৫ বার শসা চাষে ৭৫ লাখ টাকা নীট লাভ করেন। ছয় বছরের নীট লাভের টাকা থেকে তিনি ৪৮ লাখ টাকায় ৮ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন এবং ১৬ লাখ টাকায় ৩০ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন। এ ছাড়াও ৫ লাখ টাকা দিয়ে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, চাষি মোজাম্মেল হক কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জৈষ্ঠ্য-শ্রাবণ সময়কালের শসা চাষ থেকে শেষবারের মতো শসা তুলছেন। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, শসা চাষ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি ভূমিহীন বেকার মানুষ থেকে আজ সচ্ছল কৃষকে পরিণত হয়েছেন। তিনি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এখন সুখেই দিন যাপন করছেন। তিনি আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে একটি গরুর খামার গড়ে তুলবেন এবং প্রচুর পরিমাণ দুধ উৎপাদন করে এলাকার মানুষের দুধের অভাব দূর করবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, শসা চাষে মোজাম্মেলের এ অভাবনীয় সাফল্য ও আর্থিক উন্নতি দেখে মির্জাপুর গ্রামের প্রায় ২০০ প্রান্তিক চাষি এই সবজি চাষে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হয়ে কয়েক বছরে সচ্ছল কৃষকে পরিণত হয়েছে। আর শসা চাষে মির্জাপুর এলাকার ২০০ প্রান্তিক চাষি স্বাবলম্বী হওয়ার কৃতিত্ব মির্জাপুরের সর্বপ্রথম সফল শসা চাষি মোজাম্মেল হকের। তাই  মির্জাপুর এলাকার শসা চাষিরাও এখন মোজাম্মেল হককে শসা চাষের গুরু হিসেবেই সম্মান করেন।


ঘরেই ফলবে রঙিন টমেটো

রসালো ফল অথবা সবজি- যাই বলি না কেন, রান্নায় অথবা সালাদে টমেটোর জুড়ি নেই। টক-মিষ্টি এই ফলটি পাকা এবং কাঁচা দুই অবস্থাতেই খাওয়ার উপযোগী। তবে টমেটোর একটা বেশ বড় অসুবিধে হল বাজার থেকে কিনে এনে এটা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না, ফ্রিজে বেশিদিন রাখলেও পানসে হয়ে যায়। সস বা পিউরি করে রেখে দিতে পারেন ডিপ ফ্রিজে কিন্তু সবচাইতে ভালো বুদ্ধি হল আপনার বাড়ির বারান্দায় একটু জায়গা বের করে নিয়ে একটা টবে টমেটো চাষ করা!

রোপণের সময় ও প্রস্তুতি-
মধ্য অগাস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত টবে লাগাতে পারেন এই গাছ। টমেটো চাষ করতে হলে প্রথমেই আপনার যা লাগবে তা হল বেশ বড়সড় একটা টব। টমেটো গাছটা হয় বেশ ঝোপালো এবং এর মূলের প্রসার এবং বৃদ্ধির জন্য লাগে অনেকটা মাটি। এক থেকে দুই বর্গফুট টব অথবা পাঁচ গ্যালন পানি ধরে এমন পুরনো বালতি এর জন্য বেশ উপযুক্ত। এর পরে এই টবের নিচের অংশে কিছু পরিমাণ খোয়া বিছিয়ে নিন যাতে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়। এরপর টবের এক তৃতীয়াংশ মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে।
টমেটো গাছ জন্মানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন এর মাটির ক্ষেত্রে। পুরনো টবের মাটি বা বাইরে থেকে নিয়ে আসা নোংরা মাটি ব্যবহার না করাই ভালো। এগুলোতে রোগজীবাণু থাকলে সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে আপনার গাছটি। নার্সারিতে পাওয়া যেতে পারে টবের জন্য প্রস্তুতকৃত বিশেষ মাটি এবং ভার্মিকম্পোস্ট। এগুলো দিয়ে তৈরি করতে পারেন টবের মাটি।
রোপণ পদ্ধতি ও যত্ন-
টমেটো লাগাতে পারেন দুইভাবে।
প্রথমত, আপনি নার্সারি থেকে চারা নিয়ে এসে আপনার বড় টবটিতে লাগিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে টবের মাটিকে নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে আগে থেকেই বেশ ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর যে প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় আপনার চারাটি কিনে এনেছেন সেটাকে সাবধানে মাটি থেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন যেন এতে চারাটির মূলের কোনও ক্ষতি না হয়। এরপর টবের মাটিতে বেশ গভীর গর্ত করে তাতে চারাটি বসিয়ে দিন ও মাটি ভরে দিন কাণ্ডের চারপাশে। এই চারাটিতে বেশ করে পানি দিতে হবে কিন্তু লক্ষ্য রাখুন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি যেন না হয়।

দ্বিতীয় একটি উপায় হলো, টমেটোর বীজ থেকে গাছ গজানো। বাড়ির বাগানে বেশি করে টমেটো গাছ লাগাতে চাইলে এটি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে আগে ভালো জাতের বীজ কিনে নিতে হবে। এর পর টবের আর্দ্র মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে বীজগুলোকে। অঙ্কুরোদ্গমের পর চারাগুলো বড় হতে শুরু করলে এগুলোকে রাখুন বেশ আলো আসে এমন স্থানে এবং কোনভাবেই যেন এগুলোতে পানির অভাব না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা রোদ খাওয়াতে হবে আপনার গাছগুলোকে, ৮ ঘণ্টা হলে ভালো হয়।
  • আপনার গাছ যখন বেড়ে ওঠা শুরু করবে তখন টবের প্রায় পুরোটাই মাটি দিয়ে ভরে দিন। এতে গাছ ভালো বাড়বে।
  • টমেটো গাছের যত্নে প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ হলো টবে একটি খুঁটি পুঁতে তার সাথে গাছটিকে বেঁধে দেওয়া যাতে এর কাণ্ড বাঁকা না হয়ে যায়।
  • এছাড়াও একে নেট দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন, তাতে পোকামাকড় কম হবে।
  • গাছের বয়স ছয় সপ্তাহ হবার পর প্রতি সপ্তাহে একটু করে সার দিতে পারেন গাছের গোড়ায়।
  • বেশি শীত এবং গরমের সময় মাটিকে রক্ষা করতে দিতে পারেন শুকনো পাতা বা বাড়ির শাকসবজির উচ্ছিষ্ট খোসা দিয়ে। এতে সারেরও কাজ হবে এবং তাপমাত্রার নেতিবাচক প্রভাব থেকে গাছের মূল রক্ষা পাবে।


এত রকমের যত্ন নিতে হয় বলে অনেকেই টমেটো লাগাতে চান না। অথচ এসবের পর গাছ ভরে যখন রঙ বেরঙের ফল আসবে, তখন কেমন খুশি লাগবে ভাবুন তো!

সঠিক উপায়ে টমেটো বীজ উৎপাদন প্রণালী


রোগিং: পাতার রং, আকার, আকৃতি, গাছের উচ্চতা, ফলের রং, আকার, আকৃতি, ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে কোন গাছ ভিন্নতর মনে হলে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছ দেখা মাত্রই সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলতে হবে। টমেটো বীজ ফসলের মাঠ কমপক্ষে ৩ বার পরিদর্শন করতে হবে। ফুল আসার আগে প্রথম পরিদর্শন, ফুল আসা ও ফল ধরার সময় দ্বিতীয় পরিদর্শন এবং ফল পরিপক্ক হওয়ার সময় তৃতীয় পরিদর্শন করতে হয়। 

পরাগায়নঃ টমেটো একটি স্বপরাগায়িত ফসল হলে ২-৫% পরপরাগায়ন ঘটে থাকে। বীজ ফসলের জমি অন্য জাতের জমি থেকে ৫০ মিটার দুরত্ব রাখলে বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদন হবে। 

বীজ ফল চিহ্নিতকরণ ও সংগ্রহঃ রোগাক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা পঁচা ফল বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সুস্থ স্বাভাবিক ফল বীজের জন্য বাছাই করে আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে হবে। ফলের রং গাঢ় লাল হলেই ফল সংগ্রহ করা উচিত। অতপর সংগ্রহকৃত ফলগুলো ২-৩ দিন রেখে দিতে হয়। 

বীজ সংগ্রহ ও শুকানোঃ বাছাইকৃত ফলগুলো, আড়াআড়িভাবে কেটে মাটি অথবা প্লাষ্টিক পাত্রের উপর হাত দিয়ে চেপে বীজ বের করে ২০-২১ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২৪-৩৬ ঘন্টা ফারমেনটেশনে রাখতে হবে। এ সময়ে মাঝে মাঝে বীজ নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজগুলো সহজে ফলের আঠালো অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের পরে বীজগুলো বারবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভাসমান বীজ বাতিল করতে হবে। বীজ ভালোভাবে ধোয়ার পর প্রথমে ছায়ায় পরে ক্রমান্বয়ে প্রখর রৌদ্রে অধিক্ষণ শুকিয়ে বীজের আর্দ্রতা ৮% এ নামিয়ে আনতে হবে। 

বীজ ফলনঃ  হেক্টর প্রতি ১৫০-১৬০ কেজি (৬০০-৬৪০ গ্রাম/শতক) পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। 

টমেটো শুধু বাংলাদেশের নয় সারা বিশ্বে সবজি হিসেবে সমাদৃত। টমেটো একটি শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালীন জাতের টমেটোও উদ্ভাবিত হয়েছে। উপযুক্ত পরিচর্যার টমেটো অধিক ফলন দিয়ে থাকে তাই উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন করে চাষ করলে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরে বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ফ্লোরা-অধিক ফুল,অধিক ফলন


বেগুন গাছে ফ্লোরা স্প্রে করার নিয়ম

১ম স্প্রে
পরিমাণ
৩ মিলি/১ লিঃ পানি
সময়
চারা লাগানোর ২০ দিন পরে
খেয়াল রাখুন
প্রতিটি গাছ ভালো ভাবে ভিজাতে হবে এবং বিকালে স্প্রে করতে হবে

২য় স্প্রে

পরিমাণ
৩ মিলি/১ লিঃ পানি
সময়
১ম স্প্রে’র ২৫ দিন পরে
খেয়াল রাখুন
প্রতিটি গাছ ভালো ভাবে ভিজাতে হবে এবং বিকালে স্প্রে করতে হবে

৩য় স্প্রে
পরিমাণ
৩ মিলি/১ লিঃ পানি
২য় স্প্রের ২৫ দিন পরে
খেয়াল রাখুন
প্রতিটি গাছ ভালো ভাবে ভিজাতে হবে এবং বিকালে স্প্রে করতে হবে

৪র্থ স্প্রে
পরিমাণ
৩ মিলি/১ লিঃ পানি
৩য় স্প্রের ২৫ দিন পরে
খেয়াল রাখুন
প্রতিটি গাছ ভালো ভাবে ভিজাতে হবে এবং বিকালে স্প্রে করতে হবে
        
    
উপকারিতা
১.    গাছে শাখা-প্রশাখা ও ফুল বৃদ্ধি করে
২.    ফুল ও ফল ঝরা বন্ধ করে
৩.    বেগুনের রং চকচকে উজ্জ্বল করে ফলে বাজার মূল্য ভাল পাওয়া যায়

মুনাফা
১ একরে (১০০ শতাংশ) গড় ফলন: ৬০০ মন (৪০ কেজি’র মন)
ফ্লোরা দিলে ফলন বাড়বে : শতকরা ৩৪ ভাগ
১ একরে বাড়তি ফলনঃ ২০০ মন
বাড়তি আয়ঃ ১,২৮,০০০/= টাকা (কথায়: এক লক্ষ আটাশ হাজার টাকা মাত্র)
(মাঠ পর্যায়ে গড় দাম ৬৪০ টাকা/মন)
বাড়তি ব্যয়ঃ ২৭০০ টাকা
(কৃষক পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য)
নিট মুনাফাঃ ১,২৫,৩০০/= টাকা (কথায়: এক লক্ষ পঁচিশ হাজার তিনশত টাকা মাত্র)