Showing posts with label অ্যাকুরিয়াম মাছ. Show all posts
Showing posts with label অ্যাকুরিয়াম মাছ. Show all posts

রঙিন মাছের প্রজনন

রঙিন মাছের প্রজনন বিভিন্ন প্রজাতির জন্য বিভিন্ন রূপ৷  যাই হোক প্রজননের বৈশিষ্ট অনুযায়ী রঙিন  মাছকে মূলত  বাচ্চা পাড়া বা অন্তজ জনন (Live bearer) গোষ্ঠী ও ডিম পাড়া বা অন্ডজ জনন (Egg layar) গোষ্ঠীতে ভাগ করা যায়৷   বাচ্চা পাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে গাপ্পি, সোর্ড টেল, মলি, প্লাটি, গাম্বুসিয়া উল্লেখযোগ্য  এবং ডিমপাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে পুঁটি, খলসে, চাঁদা, পায়রাচাঁদা, জেব্রা, দাঁড়কে, ট্যাংরা, মৌরলা, ঘুঁতে, ভুতো  বেলে, আনজেল, ডিসকাস, ফাইটার, টেট্রা, শার্ক এবং গোল্ডফিস৷ আবার ডিমপাড়া গোষ্ঠীর স্বকীয় বৈশিষ্টের   জন্য এদেরকে চারটি ছোট দলে ভাগ করা যেতে পারে- আলগা ডিম পাড়ে এমন দল৷    যেমন-  জেব্রা৷ আঠালো ডিম পাড়ে এমন দল৷    যেমন-  গোল্ডফিস, বিভিন্ন জাতের পুঁটি, টেট্রা৷ বাবল নেষ্টের মধ্যে ডিম    পাড়ে এমন দল৷   যেমন-  খোলসে, ফাইটার, গোরামী৷ আঠালো ডিম যত্ন নিয়ে পাড়ে এমন দল৷    যেমন-  আনজেল, ডিসকাস্৷ Live bearing মাছেদের বাচ্চা তোলা খুবই সোজা৷  এরা প্রায় বারো মাসেই বাচ্চা  দেয়৷  দেখা যায় এরা বেশীর ভাগ একাদশী, আমাবস্যা, পূর্ণিমা এইসব দিনে বাচ্চা দেয়৷  বাচ্চা ছাড়তে  আরম্ভ করলে সাধারণত ৪ ঘন্টার মধ্যে সব বাচ্চা ছেড়ে দেয়৷   এই জাতের মাছেরা যখন বাচ্চা দিতে    আরম্ভ করে তখন তিনবার পর পর ২০-২১ দিন বাদে বাদে দেয়৷   অনেক সময় মাছেরা নিজেদের পেট      ভরা খাবার না পেলে নিজেদের বাচ্চাদের খেয়ে ফেলে৷ Live bearing মাছেদের পুরুষ ও স্ত্রী চেনা খুব  সহজ৷   পুরুষদের পেটের কাছে একটি ছুঁচালো পাখনা হয় যাকে ইংরাজীতে Gonopodium বলে, স্ত্রী মাছেদের পাখনা গোল হয় এবং মোটা পেটে কালো দাগ দেখা যায় যাকে Gravid spot বলে৷
সারা বছর ধরে গাপ্পি ও গোল্ড ফিসের প্রজনন ও চাষ করা হয়৷   যদিও শীতে গাপ্পি কম বাচ্চা দেয় ও  গ্রীষ্মে গোল্ডফিস কম ডিম পাড়ে৷  শীতকালের প্রজননের জন্য আদর্শ-মাছ হচ্ছে গোল্ড ফিস, কই কার্প, ম্যানিলা কার্প, ক্যাট ফিস ইত্যাদি৷  গ্রীষ্মকালে টাইগার বার্ব, রোজীবার্ব, উইডো টেট্রা, শার্পে টেট্রা, সোর্ডটেল, মলি,    প্লাটি প্রজনন করানো ভাল৷   বর্ষাকালে পার্ল গোরামী, কিসিং গোরামী, ডোয়ার্ফ গোরামী, ব্লু চিকলিড, জেব্রা চিকলিড, টেট্রা, টাইগার বার্ব করা ভাল৷

রঙিন মাছ চাষের বিভিন্ন ধাপ
রঙিন মাছের চাষ ব্যাপক, প্রায় নিবিড়, নিবিড় বিভিন্ন পদ্ধতিতে হয়৷  তবে যে কোন চাষে সাধারণ যে বিষয়গুলির উপর নজর দিতে হয় তা হল-
জলাধার প্রস্তুতি-   কাঁচ, সিমেন্টের চৌবাচ্চা বা প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে জলাধার তৈরীর পর জল ভর্তি করে     ৩-৪ দিন রেখে দেবেন৷  জলাধার-এর উপর আচ্ছাদন থাকা ভাল৷  তবে ভাল  আলো বাতাস যাতে লাগতে পারে সে দিকেও নজর দিতে হবে৷  পুকুরের জল, বৃষ্টির ধারা বা কলের জল, যেটা সুবিধে হয় চৌবাচ্চায় ব্যবহার করা যেতে পারে৷   মাছ ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে প্রতি পাঁচ গ্যালন জলে ৫ শতাংশ মেথিলিন ব্লু     এক ফোঁটা ও লবন চায়ের চামচের ২চামচ মিশিয়ে দিতে হবে৷
মাছের চারা সংগ্রহ ও মজুত-   জেব্রা, খলসে, ঘুঁতে, পুঁটি, ব্যাডিস প্রভৃতি দেশী মাছের বাচ্চা৷  সাধারণত এর প্রাকৃতিক বাসস্থান খাল, বিল, পুকুর, নদী, নালা, ধানক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হয় আর গোল্ড ফিস, প্লাটি, মলি, আনজেল ইত্যাদি বিদেশী মাছের বাচ্চা হাওড়া বা কলিকাতার হাতিবাগান বাজারে পাওয়া যায়৷  এছাড়া বাড়ীতে প্রজনন ঘটিয়েও এ মাছের চারা চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়৷   মাছ নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সমস্ত মাছ  আপনি একত্রে এক চৌবাচ্চায় ছাড়তে চান তারা এক সঙ্গে থাকবার উপযুক্ত মাছ কিনা৷ মাছের চারা চৌবাচ্চায় ছাড়ার আগে অবশ্যই শোধন করে নেওয়া উচিত যাতে রোগ জীবাণু থাকলে নষ্ট    হয়৷  চাষের জন্য চারা সর্বদা সুস্থ, সবল এবং ক্ষতশূন্য হওয়া দরকার৷  রুগ্ন বা  অপুষ্ট চারা বেছে বাদ দেওয়াই ভাল৷   চারা শোধন করার জন্য সাধারণত  পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (Potassium permanganate) ব্যবহার করা হয়৷  ১০ লিটার পরিষ্কার  জলে আঙ্গুলের এক টিপ (FingerTip) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে মাছের চারাগুলি ৫ থেকে ১০ মিনিট ওই জলে রেখে পরে পরিষ্কার জলে  ধুয়ে চৌবাচ্চায় ছাড়তে  হয়৷ মাছের খাবার প্রয়োগ-  রঙিন মাছ কৃত্রিম জলাশয়ে পালন করা হয় তাই মাছের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য প্রয়োগ করা জরুরী৷  সঠিক খাদ্যের উপর মাছের রং, বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রজনন নির্ভর করে৷  যদিও মাছকে বাজারের বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম খাদ্য দেওয়া হয় তবুও জীবন্ত খাদ্য  (Live  food) একান্ত প্রয়োজন৷  রঙিন মাছের জন্য বিভিন্ন প্রকার জীবন্ত খাদ্য নিম্নরূপ-
ব্রাইন শ্রিম্প (Brine shrimp)-     নোনা জলের এই কবচী প্রাণী যেমন আর্টিমিয়া স্যালিনা (Artemia salina) সদ্য জন্মানো বাচ্চা মাছের খুবই প্রিয় খাদ্য৷
ইনফুসুরিয়ান্স (Infusorians)-    এককোষী এই প্রাণী যেমন প্যারামেসিয়াম যা সমস্ত জলাশয়ে পাওয়া যায় তা বাচ্চা মাছের প্রথম খাদ্য (First food) রূপে বিশেষ সমাদৃত৷  
ওয়াটার ফ্লি (Water flea)-   ক্ষুদ্র এই কবচী খাদ্য কণার মধ্যে ডাফনিয়া ও সাইক্লপস উল্লেখযোগ্য৷    বড়গুলি পরিণত মাছের জন্য এবং বাচ্চাগুলি ঘন কাপড়ে ছেঁকে নিয়ে সদ্য জন্মানো ছোট্ট মাছকে খাওয়ানো হয়৷
স্লাডজ ওয়ার্মস (Sludge worms)-  টিউবিফেক্স এক সমাকৃতি পাঁকের কৃমি সব রঙিন মাছের খুবই প্রিয় খাদ্য৷ কেঁচো (Earth worms)-  জীবন্ত কেঁচো অথবা কুঁচানো কেঁচো রঙিন মাছের যথেষ্ট প্রিয় খাদ্য৷
ব্লাড ওয়ার্ম (Blood worms)-  পতঙ্গ শ্রেণীর জলজ দশার লার্ভাগুলি আকোয়ারিয়াম মাছের বিশেষ খাদ্যরূপে চিহ্নিত৷  যে খাবারই দিন খুব অল্প পরিমাণে দেবেন যা মাছেরা দশ মিনিটের মধ্যে খেয়ে নিতে পারে৷ রোজ সকালে ও বিকালে খেতে দিতে পারলে সবচেয়ে ভাল৷
জল পরিবর্তন-  নিয়মিত জল পরিবর্তন রঙিন মাছ চাষের জন্য একান্ত প্রয়োজন৷  খাবার বেশী দিলে, মাছেরা  সব খাবার খেয়ে উঠতে পারে না বলে অবশিষ্ট খাবার পচে জল নষ্ট করে৷  এছাড়া মাছের বর্জ্য পদার্থ পড়ে জল ধীরে ধীরে খারাপ হয়৷  জল খারাপ হবার চিহ্ন হল, জলের অক্সিজেনের অভাব হওয়ায় সমস্ত মাছেরা   উপরে উঠে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেবার চেষ্টা করে৷  এ রকম অবস্থা দেখলে তত্ক্ষণাত চৌবাচ্চার জল   পাল্টে দেবেন৷
জলে বায়ু সঞ্চালন করা-  চৌবাচ্চায় যদি বায়ু সঞ্চালন বা হাওয়ার বন্দোবস্ত করা যায় তাহলে খুব ভাল হয়৷   হাওয়া বৈদ্যুতিক মোটর ও পাম্পের সাহায্যে দেওয়া যায়৷  হাওয়া দেওয়ার বন্দোবস্ত করলে অক্সিজেনের   অভাব পড়বে না ও সাধারণত চৌবাচ্চায় যা রাখবার নিয়ম তার চতুর্গুন মাছ রাখতে পারবেন৷

একুয়ারিয়ামে মলি মাছের প্রজনন আয়েশা আবেদীন আফরা

বিদেশি বাহারি মাছ হিসেবে মলি (Molly) বাংলাদেশে খুব পরিচিত নাম। ঘরের একুয়ারিয়ামে খুব সহজে লালন-পালন ও প্রজনন করানো যায় বলে নতুনদের জন্যও মলি দারুণ পছন্দের মাছ।


মলি মাছের উৎস ও ভ্যারাইটি

মলি মাছের আদি নিবাস মধ্য আমেরিকা (মূলত মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা)। আমাদের দেশে সাধারণত ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আসে।

বাংলাদেশে সাধারণত ৪ ভ্যারাইটির মলি দেখা যায়—

  1. Black Molly (কালো)

  2. Transparent/White Molly (সাদা/হালকা)

  3. Mixed Colour Molly (সাদা-কালো ফুটকি/মিশ্র রঙ)

  4. Balloon Molly (সাদা-কমলা/ফোলা দেহ – ব্যালুন)

এক রঙের তুলনায় ফুটকি/মিশ্র রঙের মলি বেশি আকর্ষণীয়। রঙের পাশাপাশি পৃষ্ঠ ও পুচ্ছ পাখনার আকৃতিতেও মলিতে নানা বৈচিত্র্য দেখা যায়।


শ্রেণীবিন্যাস (Taxonomic Position)

  • Kingdom: Animalia

  • Phylum: Chordata

  • Class: Actinopterygii

  • Order: Cyprinodontiformes

  • Family: Poeciliidae

  • Genus: Poecilia

  • Species: Poecilia sphenops

  • Common name: Molly

  • Local name: মলি


মলির বৈশিষ্ট্য (সাইজ, আয়ু, পানি)

  • পুরুষ: সর্বোচ্চ ১০ সেমি

  • স্ত্রী: সর্বোচ্চ ১১ সেমি

  • সাধারণত বাজারে/একুয়ারিয়ামে: ১–৩ ইঞ্চি

  • আয়ু: সাধারণত ১.৫–৩ বছর, ভালো যত্নে ৩–৫ বছর পর্যন্ত

অনুকূল পানি ও তাপমাত্রা

  • pH: ৭.৫–৮.৫ (হালকা ক্ষারীয়)

  • তাপমাত্রা: ১৮–২৮°C (৬৪–৮২°F)

  • বৃদ্ধির জন্য ভালো: ৭০–৮০°F


প্রজনন: বয়স, সময় ও বৈশিষ্ট্য

  • জন্মের ৩ মাসের মধ্যে প্রজননের উপযুক্ত হয়

  • উপযুক্ত পরিবেশে সারা বছরই বাচ্চা দেয়

  • মলিতে Internal Fertilization (অভ্যন্তরীণ নিষেক) হয়


পুরুষ-স্ত্রী মাছ শনাক্তকরণ (খুব সহজ)

খুব ছোট অবস্থাতেই (প্রায় ১ সপ্তাহ) শনাক্ত করা যায়।

পুরুষ মলি

  • দেহ পাতলা ও চাপা

  • এনাল ফিন (পেটের নিচের পাখনা) পরিবর্তিত হয়ে গোনোপোডিয়াম (Gonopodium) হয় — দেখতে লম্বা/চিকন দণ্ডের মতো

স্ত্রী মলি

  • দেহ তুলনামূলক গোল/চওড়া

  • এনাল ফিন স্বাভাবিক থাকে (পাখনার মতো ছড়ানো)

সাধারণত স্ত্রী মাছ ৩ ইঞ্চি হলে পরিণত হয়; একই বয়সের পুরুষ মাছ তুলনায় ছোট থাকে।


প্রজননের জন্য একুয়ারিয়াম প্রস্তুতি

সাইজ: ১৫” × ১৫” × ২৪” বা এর চেয়েও ছোট একুয়ারিয়ামে প্রজনন সম্ভব।
পানি: pH ৭.৫ হলে ভালো
ফিল্টার: অবশ্যই দিন (পানি পরিষ্কার রাখার জন্য)

পাথর/গ্র্যাভেল প্রসঙ্গ:
সাদা-কালো মলি হলে সাদা-কালো পাথরে পোনা দেখা কঠিন হতে পারে। তাই খুব বেশি পাথর না দিলেই ভালো।


গুরুত্বপূর্ণ সত্য: মা-বাবা পোনা খেয়ে ফেলে!

মলি মাছের parental care নেই। পোনা জন্মানোর পরপরই বড় মাছ পোনা খেয়ে ফেলতে পারে। তাই পোনা বাঁচাতে ব্যবস্থা নেওয়াই আসল কাজ।


পোনা বাঁচানোর সেরা সমাধান: ব্রিডিং নেট

অনেক পদ্ধতি (মার্বেল, ভাঙা হাড়ি, ডালপালা, প্লাস্টিক রশি) বলা হয়—কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পোনা চঞ্চল হওয়ায় বাঁচানো কঠিন, আবার রশিতে মাছের মৃত্যুঝুঁকি থাকে।

✅ সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ হলো: Breeding Net (ব্রিডিং নেট)


ব্রিডিং নেট বানানোর সহজ নিয়ম

যা লাগবে:

  • চিকন বাঁশ (ফ্রেমের জন্য)

  • ০.২ ইঞ্চি মেশ সাইজের জাল

ফ্রেম সাইজ (উল্লিখিত একুয়ারিয়ামের জন্য):

  • ফ্রেম: ১৬” দৈর্ঘ্য × ১২” প্রস্থ

  • জালের গভীরতা: ১২”

স্থাপন:

  • নেট একুয়ারিয়ামের মাঝখানে রাখুন

  • নেটের ৫ ভাগের ৪ ভাগ পানিতে ডুবানো থাকবে

  • ফ্রেমের দুই পাশ একুয়ারিয়ামের কাঁচে লাগবে

এভাবে মা মাছ নেটে বাচ্চা দিতে পারবে এবং পোনা তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে।


প্রজনন পদ্ধতি (অনুপাত ও সময়)

আপনি ২ভাবে করতে পারেন—

পদ্ধতি–১: একসাথে রাখা

স্ত্রী-পুরুষ একসাথে থাকলে

  • প্রেগন্যান্ট স্ত্রীকে শনাক্ত করে ব্রিডিং নেটে দিন।

পদ্ধতি–২: আলাদা রেখে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন

  • অনুপাত: ১টি পুরুষ : ২টি স্ত্রী

  • ২–৩ দিন একসাথে রেখে পরে আলাদা করুন

  • Fertilization হলে ২৪–৪৮ দিনের মধ্যে স্ত্রী মাছ বাচ্চা দেয়

  • বাচ্চা দেওয়ার সময় কাছে এলে স্ত্রী মাছকে ব্রিডিং নেটে দিন

✅ খেয়াল: পরিচর্যার ট্যাংক ও ব্রিডিং ট্যাংকের তাপমাত্রা একই রাখবেন।


প্রেগন্যান্ট মাছ কীভাবে বুঝবেন?

  • পেট অস্বাভাবিক ফোলা

  • এনাল ফিনের কাছে কালো স্পট (Gravid spot) দেখা যায়

    • ব্ল্যাক মলিতে বোঝা কঠিন, অন্য রঙে সহজ

  • পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের পেছনে ঘন ঘন তাড়া/আঘাত করে


একবারে কত পোনা দেয়?

এক দফায় সাধারণত ১৫–১৫০টি পোনা।

  • নতুন মা মাছ: ১৫–২০টি

  • মাঝ বয়সী সুস্থ মা মাছ: সবচেয়ে বেশি

  • খুব কম/বেশি বয়সী: তুলনামূলক কম

পোনার সংখ্যা নির্ভর করে মায়ের বয়স, খাবার ও পরিচর্যার ওপর।


পোনা সংগ্রহের সঠিক উপায়

বাজারের সাধারণ নেটের ফাঁক দিয়ে পোনা বের হয়ে যায়—তাই
✅ কাপড় লাগানো নেট ব্যবহার করুন।

পোনা তুলতে সুবিধা হবে যদি—

  1. ব্রিডিং নেটসহ বড় মাছগুলো আগে বালতি/অন্য ট্যাংকে সরিয়ে নেন

  2. তারপর পোনাকে কাপড়ের নেটে ধরেন

  3. নেট পানিতে রেখেই ছোট বাটিতে পানি সহ পোনা তুলে ফ্রাই ট্যাংকে দিন

সবকিছুতেই পানির তাপমাত্রা একই রাখবেন।


পোনা ও ব্রুড মাছের খাবার

পোনা মাছ

  • জন্মের পরপরই খেতে পারে

  • ভালো খাবার: ফুটানো আর্টিমিয়া, ভালো মানের ফ্রাই ফুড

  • টিউবিফেক্স দিলে খুব কুচি করে দিন

ব্রুড মাছ

  • ভাসমান প্রস্তুত খাবার + টিউবিফেক্স (শুকনা/তাজা)

✅ দিনে ২ বার খাবার যথেষ্ট
⚠️ ব্রিডিং নেটে থাকা মা মাছকে অতিরিক্ত খাবার দেবেন না—খাবার জমে পানি নষ্ট হবে।


একুয়ারিয়াম পরিচর্যা (Water Care)

  • নিচে খাবার জমলে সাইফনিং করে সরান

  • সপ্তাহে ১/৩ পানি পরিবর্তন করুন

  • একবারে পুরো পানি বদলাবেন না

  • নতুন পানি দিলে সাথে সাথে মাছ না দিয়ে পানি কিছুক্ষণ স্থির হতে দিন

  • কোনো মাছ মারা গেলে দ্রুত সরিয়ে ফেলুন

  • নতুন পানিতে খুব কম মাত্রায় মিথাইলিন ব্লু (এক ফোঁটা) ব্যবহার করতে পারেন


লবণ ব্যবহার (মলির ক্ষেত্রে)

মলি হালকা লবণাক্ততা সহ্য করে, তাই

  • মাসে ১ বার বা পানি বদলের পর এক মুঠো সামুদ্রিক/খোলা লবণ দিতে পারেন

  • প্যাকেট “পিউরিফাইড” লবণের বদলে খোলা লবণ ভালো

  • লবণ পানিতে গুলে কাপড়ে ছেঁকে দিন (ময়লা কমবে)


যা অবশ্যই করবেন (চেকলিস্ট)

✅ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত দিন
✅ ছেঁড়া নেট ব্যবহার করবেন না
✅ অতিরিক্ত ছোট মাছ ব্রিডিং নেটে দেবেন না
✅ নেটে রং/আলকাতরা দিলে ভালো (রং শুকিয়ে তারপর ব্যবহার)
✅ পোনা দেওয়া শেষ হলে দ্রুত মা মাছ সরিয়ে দিন
✅ পানি পরিষ্কার রাখুন, অতিরিক্ত আলো/তাপ এড়িয়ে চলুন

এ্যাকুয়ারিয়ামে গোল্ড ফিশের প্রজনন


ব্রুড গোল্ড ফিশ পুরুষ ও স্ত্রী গোল্ড ফিশ একটি অতি পরিচিত বিদেশী বাহারি মাছ। বাসায় এ্যাকুয়ারিয়ামে খুব সহজেই যেমন একে লালন-পালন করা যায় তেমনই সহজেই এর প্রজননও করা যায়। লালন-পালনের পাশাপাশি প্রজনন করানোর মাধ্যমে ঘরের সৌন্দর্য ও আয় দু’ই সম্ভব।  গোল্ড ফিশ মূলত পুকুর, ডোবা, হ্রদ ও কম প্রবাহ বিশিষ্ট নদী ও খাল যেখানে জলজ উদ্ভিদ রয়েছে এমন পরিবেশে বাস করে। প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রধানত প্ল্যাঙ্কটন, বেন্থোস, উদ্ভিদাংশ এবং ডেট্রিটাস খেয়ে থাকে। গোল্ড ফিশ নানা ধরণের- কমেট, ফানটেল, লায়ন হেড, ওরান্ডা, পার্ল-স্কেল, পমপম, রাইকিন, সুবুনকিন, টেলিস্কোপ, রানচু, পাণ্ডা, ভেইলটেল, বাটারফ্লাইটেল ইত্যাদি। 


বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশী লালন-পালনকৃত বাহারি মাছের মধ্যে গোল্ড ফিশ অন্যতম। বলা যায় এ্যাকুয়ারিয়ামে কৃত্রিম প্যাকেট-জাত খাবারে অভ্যস্ত এই মাছের লালন-পালন অত্যন্ত সহজ বিধায় সৌখিন মাছ লালন-পালনকারীর হাতেখড়ি হয় এই মাছের মাধ্যমেই।  



গোল্ড ফিশের শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান: Class: Osteichthyes Sub-Class: Actinopterygii Order: Cypriniformes Sub-Order: Cyprinoidei Family: Cyprinidae Genus: Carassius Species: Carassius auratus 



প্রজননের সময়, বয়স ও তাপমাত্রা:  তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে গোল্ড ফিশ যে কোন সময়ই ডিম দেয়। সাধারণত ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এদের প্রজননের জন্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের তাপমাত্রায় মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনায়াসে ডিম দেয়। বেশী শীতে ডিম দিলেও শীতের তীব্রতার জন্য পোনা বাঁচানো কঠিন হয়ে পরে। গোল্ড ফিশের বৃদ্ধির জন্য ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার প্রয়োজন। দেড় থেকে দুই বছর বয়সে গোল্ড ফিশ প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়ে থাকে।  



স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সনাক্তকরণ: ছোট মাছের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সনাক্ত করা খুব কঠিন কিন্তু বয়স্ক মাছ থেকে সহজেই স্ত্রী,পুরুষ আলাদা করা সম্ভব।  পেটে ডিম আসলে স্ত্রী মাছের পেট অনেক নরম ও ফোলা থাকে। অপরদিকে পুরুষ মাছের ক্ষেত্রে পেট স্ত্রী মাছের তুলনায় শক্ত হয় পুরুষ মাছের জেনিটাল ওপেনিং স্ত্রী মাছের চেয়ে তুলনামূলক বেশী সাদাটে হয়। স্ত্রীদের পেক্টোরাল ফিন অনেক নরম হয় কিন্তু পুরুষদের পেক্টোরাল ফিন ঘস-ঘসে হয়। প্রজনের পূর্বে মাছের পেটে চাপ দিলে জেনিটাল ওপেনিং দিয়ে স্ত্রী মাছের ক্ষেত্রে ডিম ও পুরুষ মাছের ক্ষেত্রে শুক্রাণু বের হয়ে আসে। তবে এ প্রক্রিয়াটি উভয় মাছের জন্যই ক্ষতিকর। এছাড়াও এই মাছের আচরন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও খুব সহজেই স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করা সম্ভব। একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে পানি দিয়ে তাতে কিছু মাছ ছেড়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী মাছকে পুরুষ মাছ তাড়া করবে। এ থেকে সহজেই স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করা যায়। 



প্রজননের জন্য এ্যাকুয়ারিয়াম প্রস্তুতি:  এক জোড়া ৪-৫ ইঞ্চির গোল্ড ফিশ কে সহজেই ১৫ ইঞ্চি প্রস্থ, ১৫ ইঞ্চি উচ্চতা ও ২৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এ্যাকুয়ারিয়ামে প্রজনন করানো যায়।  যে এ্যাকুয়ারিয়ামে প্রজনন করানো হবে তাতে ফিল্টার না দেওয়াই ভালো। ফিল্টার পানিকে নিচ থেকে উপড়ে উঠায়। এ ক্ষেত্রে ডিম ফুটে পোনা হলে পানির টানে পোনাও পাথরের নিচে চলে যায়। পানির অক্সিজেন ঘাটতি পূরণের জন্য এয়ারেটর এর ব্যবস্থা করা যায়।  স্ত্রী ও পুরুষ উভয় মাছই নিষিক্ত ডিম খেয়ে ফেলে। সে জন্যে ডিম থেকে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় মাছকেই আলাদা রাখতে হয়। এজন্য বিভিন্ন পদ্ধতি নেয়া হয়ে থাকে। যেমন-  এ্যাকুয়ারিয়ামে মার্বেল দিলে ডিম মার্বেলের ফাঁকে চলে যায় ও নিরাপদ থাকে।  অনেকে প্রজননের জন্য ব্রিডিং মেট ব্যাবহার করে থাকেন। এটি কার্পেটের মত এবং এ্যাকুয়ারিয়ামের ফ্লোরে স্থাপন করা হয়। ডিম নিষিক্ত হবার পর মেটটি তুলে অন্য একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে তা স্থাপন করতে হবে। সেই এ্যাকুয়ারিয়ামে নতুন একটি মেট স্থাপন করে নতুন আরেক জোড়ার প্রজনন করানো যায়।  এছাড়াও ডিম থেকে মাছকে আলাদা রাখার একটি সহজ পদ্ধতি হচ্ছে প্রজনন বাক্স ব্যবহার করা। প্রজনন বাক্স ব্যবহার অপেক্ষাকৃত সহজ ও কম ব্যয় সাপেক্ষ। এর জন্য প্রয়োজন কয়েকটি নেটের শপিং ব্যাগ ও মোটা তার। নেটের শপিং ব্যাগের পরিবর্তে মশারীর নেটও ব্যবহার করা যেতে পারে। যাই হোক প্রথমে এ্যাকুয়ারিয়ামের মাপের চেয়ে সামান্য ছোট আকারের একটি বাক্স আকৃতির ফ্রেম তার দিয়ে তৈরি করতে হবে। এরপর এই ফ্রেমের চারিদিকে নেটের শপিং ব্যাগের নেট ব্যবহার করে আটকে দিতে হবে। ব্যাস হয়ে গেল প্রজনন বাক্স।  প্রজনন বাক্সটির তলদেশ এ্যাকুয়ারিয়ামের মেঝে থেকে কমপক্ষে ৩-৪ ইঞ্চি উপরে স্থাপন করতে হবে। যেন কোন অবস্থাতেই মাছ এ্যাকুয়ারিয়ামের মেঝের নাগাল না পায় এবং ডিম নষ্ট না করে।   



প্রজনন:  একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে প্রজনন বাক্সটি স্থাপন করার পর সুস্থ, স্বাভাবিক পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে রাতে ঐ প্রজনন বাক্সে ছেড়ে দিতে হবে। এর ফলে মাছের ডিম প্রজনন বাক্সের জালের ফাকা দিয়ে বের হয়ে নিচে পরবে। ফলে মাছ আর ডিম নষ্ট করতে পারবে না।  মাছ ছাড়ার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যে এ্যাকুয়ারিয়ামে মাছকে পরিচর্যা করা হয়েছে সেই পানির তাপমাত্রা ও প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রা যেন একই রকম অর্থাৎ কাছাকাছি হয়। মাছ ছাড়ার পর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে।  কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরুষ মাছটি স্ত্রী মাছকে তাড়া করবে এবং মাথা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষত এবডোমেন বা উদরে আঘাত করবে। এর ফলশ্রুতিতে এক সময় স্ত্রী মাছ ডিম ছাড়তে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটা পর্যায়ে ডিম ছেড়ে দেবে। প্রজননে অংশ নেয়া পুরুষ মাছও প্রায় সাথে সাথেই শুক্রাণু ছাড়বে। ফলে গোল্ড ফিশের ডিম নিষিক্ত হয় দেহের বাইরে। স্ত্রী বা পুরুষ কোন মাছেরই প্যারেন্টাল কেয়ার দেখতে পাওয়া যায় না বরং এরা নিষিক্ত ডিম খেয়ে ফেলে। তাই ডিম নিষিক্ত হবার পরপরই উভয় মাছকেই সরিয়ে ফেলতে হবে। নেটের প্রজনন বাক্স ব্যবহার করার পরও এটি করতে হয় কারণ নেটের গায়েও কিছু নিষিক্ত ডিম লেগে থাকে যা প্রজননে অংশ নেয়া মাছ নষ্ট করতে পারে।  সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম নিষিক্ত হয়ে যায়।  প্রজনন ঋতুতে প্রজননে অংশ নেয়া মাছ সরিয়ে নিয়ে অন্য একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে ভালভাবে খাবার দিলে এবং যত্ন নিলে ৭-১০ দিনের মধ্যে পুনরায় ডিম দেয়ার উপযুক্ত হয়ে থাকে।  প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামে এক রাত থাকার পরও যদি মাছ প্রজনন না করে থাকে তবে মাছ দু’টিকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং কয়েক দিন ভালো করে খাইয়ে আবার প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামে দিতে হবে। 



ডিমের সংখ্যা:  ডিমের সংখ্যা নির্ভর করে মাছের বয়স, আকৃতি,শরীরের সুস্থতা ও নিয়মিত পরিচর্যার উপর। বেশী বয়স্ক মাছের ডিম দেবার হার অল্প বয়স্ক মাছের থেকে তুলনামূলক ভাবে কম হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে গোল্ড ফিশের ডিম দেবার হার প্রতি প্রজননে ২০০০-৪০০০ ডিম। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এর ডিম দেবার হার গোনাড প্রতি ২৩৪৭±৩০২.২ ডিম বা প্রতি গ্রাম দেহ ওজনের প্রেক্ষিতে ৬৩.৪৪ ডিম। এই লেখায় উপস্থাপিত পদ্ধতিতে প্রতি প্রজননে গোল্ডফিশের ১০০ থেকে ২০০ টি পোনা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।  




ডিমের পরিচর্যা:  অনেকে ডিমের এ্যাকুয়ারিয়ামে মিথাইলিন ব্লু ব্যাবহার করে থাকেন। ১% মিথাইলিন ব্লু ১ ফোটা দিলেই যথেষ্ট। মিথাইলিন ব্লু পানিকে অন্ধকার করে এবং ডিমকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে থাকে, পানিতে বিভিন্ন পরজীবীর বৃদ্ধিকে রোহিত করে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আলো থেকে অবশ্যই ডিমকে দূরে রাখতে হবে। আলো বেশী থাকলে কোন কাপড় দিয়ে দিনের বেলা এ্যাকুয়ারিয়ামকে ঢেকে রাখা যায়। তবে বাতাস চলাচলের মত ফাকা রাখতে হবে এবং যেন একেবারে অন্ধকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।  



ডিমের রং: গোল্ড ফিশের ডিমের রং হবার পরপরই একদম স্বচ্ছ হয়ে থাকে,পরে আস্তে আস্তে ডিম কিছুটা স্বচ্ছ সাদাটে হয়। প্রাথমিক অবস্থায় পানিতে ভাল ভাবে খেয়াল না করলে ডিম বোঝা যায় না। সময় যাবার সাথে সাথে যে সব ডিম নষ্ট হয়ে যায় তাদের রং কাল হয় এবং অনেক সময় ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চারিদিকে তুলার মত আবরণ তৈরি করে।  ডিম থেকে পোনা ফুটে বের হওয়া: সাধারণত ৩-৫ দিনের মধ্যেই ডিম ফুটে পোনা বের হয়ে আসে। তাপমাত্রা অনুযায়ী সময় কম বেশী লাগে। ডিম ফোটার পর পোনা ১-২ দিন এ্যাকুয়ারিয়ামের দেয়ালের গায়ে লেগে থাকে। খালি চোখেই পোনা দেখা যায়।  



পোনার খাবার: পোনা ফুটে ৭২ ঘণ্টা পার হলে খাবার দিতে হয়। কারণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত পোনা মাছ তার দেহস্থ কুসুম থলি থেকেই পুষ্টি পেয়ে থাকে। ৭২ ঘণ্টা পর খাবার হিসেবে কেবল ফুটানো আর্টিমিয়া ও সিদ্ধ ডিমের কুসুম ছেকে দিতে হবে। আস্তে আস্তে পোনা বড় হবে এবং খাবারের প্রোটিনের পরিমাণ কমাতে হবে। ছোট অবস্থায় খাবারের প্রোটিনের পরিমাণ বেশী হতে হয়। বড় পোনাকে টিউবিফ্যাক্স দেয়া যায়। তবে তা কুঁচি করে দেয়াই ভাল। পোনা মাছকে দিনে দুইবার খাবার দিতে হবে (সকাল ও বিকাল)।  পরবর্তী দেড় থেকে দুই বছরে পোনা বড় হয়ে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়।  



যা অবশই করতে হবে:  স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে অবশ্যই আলাদা স্থানে রেখে যত্ন নিতে হবে। মাছকে প্রজননের আগে ও পরে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। প্রজনন বক্স তৈরির সময় ছেড়া নেট ব্যাবহার করা যাবে না। এতে করে মাছ ছেড়া অংশ দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে এবং আহত হবে । ডিম দেবার পর বের হয়ে ডিম খেয়ে ফেলবে। নেটের তারে ও জালে রং ব্যবহার করতে হবে এতে করে জাল পানি থেকে রক্ষা পাবে এবং লোহার তারে মরিচা ধরবে না এর ফলে পানির পি,এইচ এর কোন পরিবর্তন হবে না। ব্যবহৃত রং ভাল ভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। বাক্সের উপরের চার কোনায় অতিরিক্ত তার রাখতে হবে যাতে করে সহজেই বাক্সটিকে এ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতরে ঝুলিয়ে দেয়া যায়। ডিম নিষিক্ত হয়েছে নিশ্চিত হবার সাথে সাথে স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে আলাদা করতে হবে।