কুষ্টিয়ায় উচ্চফলনশীল গোল্ড ধান চাষে ফলন বিঘাপ্রতি ৩২ মণ

কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত ‘গোল্ড’ বিঘাপ্রতি ৩২ মণ ফলন দিয়েছে। এই সাফল্যে কৃষকসহ ধানচাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই বিস্মিত ও আনন্দিত। প্রদর্শনীভাবে চাষ সফল হওয়ায় এলাকাজুড়ে আশা করা হচ্ছে—ভবিষ্যতে কৃষকেরা এই জাতের ধান আবাদ করে ধান উৎপাদন আরও বাড়াতে পারবেন।

গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বৃত্তিপাড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত ‘গোল্ড’ ধান কাটার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জনতা ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক লুৎফর রহমান, জনতা ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি মোসাদ্দেক-উল-আলম, কুষ্টিয়া এরিয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক এ এন এম এমদাদুল হক এবং জনতা ব্যাংক কুষ্টিয়া করপোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক

কেন এই ধান আলোচনায়? (মূল তথ্যগুলো এক নজরে)

  • কুষ্টিয়ার চাষিদের কাছে ‘গোল্ড’ ধান আগে খুব পরিচিত ছিল না

  • জনতা ব্যাংকের সিএসআর/সিআরসি কর্মসূচির সহায়তায় পরীক্ষামূলক চাষ শুরু

  • গীতাঞ্জলি এ্যাগ্রো সোসাইটির তত্ত্বাবধানে শহরতলীর বৃত্তিপাড়ায় ৫ বিঘা জমিতে প্রদর্শনী চাষ

  • SRI (System of Rice Intensification) পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে

  • জুলাই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে রোপণ করে ১০৫ দিনে ধান কাটা হয়েছে

  • রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ তুলনামূলক কম বলে জানান প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা ড. আফসারুজ্জামান (বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত, ২০১১)

  • অর্গানিক ফার্টিলাইজার ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, প্রচলিত আমন ধানের তুলনায় এই ধানের উৎপাদন বেশি এবং এটি চিকন চালের অভাব কিছুটা মেটাতে পারে—ফলে বাজারে চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। চাষি ওমর আলী জানান, উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা খুশি; পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ বজায় থাকায় ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলনের সম্ভাবনাও আছে।