মাশরুম চাষ প্রণালী
✅ যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে
অক্সিজেনের অবাধ প্রবেশ থাকতে হবে।
অল্প আলোযুক্ত ঘর (৮০–২০০ লাক্স) — এমন আলো যেন একজন মানুষ কষ্টে হলেও পেপার পড়তে পারে। এতে অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
বিভিন্ন স্টেজে বিভিন্ন তাপমাত্রা লাগে—তাই ২০–৩০° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ছত্রাক স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ভালো জন্মে—তাই আর্দ্রতা ৭০%–৮৫% রাখতে হবে।
ঘরের কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে (ভেন্টিলেশন জরুরি)।
⚠️ বিশেষ সাবধানতা
চাষঘর ও আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। চারদিকে সুষম বাতাস প্রবাহ হয় এমন জায়গা হলে ভালো।
খড়ের মধ্যে চাষ করলে রোগ-পোকামাকড়মুক্ত ও শুকনো খড় সংগ্রহ করতে হবে।
✅ কিভাবে করবেন (স্টেপ-বাই-স্টেপ)
১) স্পন সংগ্রহ
বিশ্বস্ত স্থান থেকে মাশরুমের স্পন (মাদার কালচার) সংগ্রহ করবেন।
স্পন মাইসেলিয়াম পূর্ণ (সাদা সাদা) দেখা যাবে।
যদি সবুজ/কালো/হলুদ/লালচে কোনো রঙ দেখা যায়—সেটা দূষিত, ব্যবহার করবেন না।
২) প্যাকেট কাটবেন
স্পনের প্যাকেটের মুখের দিকে দুই কাঁধ বরাবর (প্রতি কাঁধ ২ ইঞ্চি লম্বা ও ১ ইঞ্চি ব্যাস, ইংরেজি “D” আকৃতির মতো) কেটে ফেলবেন।
৩) জীবাণুমুক্ত করে পরিষ্কার করবেন
একটি পরিষ্কার ব্লেড গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে কাটা জায়গার পুরনো/দাগযুক্ত অংশ একটু চেঁছে পরিষ্কার করবেন।
৪) পানিতে ডুবিয়ে ঝরিয়ে রাখবেন
স্পনকে ৫–১৫ মিনিট পানিতে উল্টে ডুবিয়ে রাখুন।
তারপর তুলে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে চাষঘরের মেঝে/তাকে সাজান।
স্পন–স্পনের দূরত্ব: ৩ ইঞ্চি
সারি–সারির দূরত্ব: ২ ইঞ্চি
এভাবে রাখলে শ্বাস-প্রশ্বাস (respiration) ভালো হয়।
৫) পানি স্প্রে (আর্দ্রতা ঠিক রাখতে)
আর্দ্রতা (৭০–৮৫%) রাখার জন্য স্পনের চারপাশে পানি স্প্রে করবেন—
গ্রীষ্মে: ৫–৬ বার
বর্ষা/শীতে: ২–৩ বার
⚠️ খেয়াল: প্যাকেটে যেন পানি জমে না থাকে।
✅ সকাল সূর্য ওঠার আগে বা বিকালে সূর্য ডোবার পর স্প্রে করলে ফলন ভালো হয়।
৬) তাপমাত্রা বেশি হলে কী করবেন
ঘরের দেয়াল ও মেঝে পানি দিয়ে ভিজিয়ে ফ্যান দিয়ে দরজার দিকে বাতাস করলে ঘর ঠান্ডা হয়।
৭) অঙ্কুরোদগম ও সংগ্রহ
সব ঠিক থাকলে—
২–৩ দিনের মধ্যে পিন (অঙ্কুর) বের হবে
৭–৮ দিনের মধ্যে মাশরুম তুলতে পারবেন
৮) পরের ফ্লাশ (দ্বিতীয়বার ফলন)
১ম বার মাশরুম সংগ্রহের পর প্যাকেটকে কমপক্ষে ১ দিন বিশ্রাম দিন।
তারপর আবার সাদা মাইসেলিয়াম একটু চেঁছে স্টেপ-৪ থেকে একইভাবে শুরু করুন।
১০–১৬ দিনের মধ্যে ২য় বার সংগ্রহ করা যাবে।
✅ একটি প্যাকেট থেকে সাধারণত ৮–১০ বারের বেশি সংগ্রহ না করাই ভালো।
⚠️ ৯০ দিনের পর কোনোভাবেই প্যাকেট ব্যবহার করবেন না।
ব্যবহৃত প্যাকেট খুলে ভেতরের মিডিয়া জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন (ফ্রি বোনাস 😄)।
🐛 পোকা-মাকড় দমন
চাষঘরে সাধারণত মাছি, উইভিল, মাইট, পিপড়া দেখা যায়।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে বেশিরভাগ সমস্যা কমে যায়। এরপরও দরকার হলে—
ঘরের চারপাশে ব্লিচিং পাউডার/ফিনিশ পাউডার ছড়িয়ে দিন
খুব স্বল্প মাত্রায় এক্টেলিক ব্যবহার করা যেতে পারে (সাবধানতার সাথে)
✅ ভেন্টিলেটর ও দরজায় নেট দিলে সবচেয়ে ভালো ফল হয়
মাইট/উইভিল ঠেকাতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট।
🧊 মাশরুম সংরক্ষণ (কখন তুলবেন)
মাশরুম বড় হয়েছে কিন্তু শিরা ঢিলে হয়নি / কিনারা ফাটেনি — এমন অবস্থায় তুলবেন।
অধিক আর্দ্রতায় সংগ্রহ করবেন না। সময়: সকাল বা বিকাল।
হালকা মোচড়ে তুলবেন—না হলে স্পনের মাইসেলিয়াম ভেঙে যাবে।
গোড়া কেটে পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করবেন।
সংগ্রহের আগে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পানি স্প্রে করবেন না।
🥬 তাজা মাশরুম সংরক্ষণ
ঠান্ডা জায়গায় রেখে ২–৩ দিন খাওয়া যায়।
ফ্রিজে ৭–৮ দিন রাখা যায় (একই ব্যাচ একবারেই শেষ করা ভালো)।
২% লবণযুক্ত ফুটন্ত পানিতে ২–৩ মিনিট সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে ঢাকনাযুক্ত কৌটায় রেখে ডিপ ফ্রিজে ৬–৭ মাস রাখা যায়।
🌤️ শুকনা মাশরুম
রোদে শুকিয়ে দীর্ঘদিন রাখা যায়।










0 comments:
মন্তব্য করুন