প্রশ্ন: আমি একজন বিদেশ ফেরত বেকার যুবক। কৃষিতে আমার ব্যাপক আগ্রহ। আমি ৬৬ শতাংশ জমিতে সমন্বিত মৎস্য এবং হাঁসের চাষ করতে আগ্রহী। কিন্তু তা আমি কীভাবে শুরু করব তা বুঝতে পারছি না এবং কী কী লাগবে সেটাও বুঝতে পারছি না। আপনাদের সাহায্য আশা করছি। যেসব বিষয় জানতে চাই তা হলোঃ-
১) হাঁসের ঘর পুকুরের উপরে হলে কি সমস্যা হতে পারে?
২) ৬৬ শতাংশ জমিতে পুকুর বানানোর পরে কত হাঁস পালন করা সম্ভব?
৩) কত মাছ একসাথে চাষ করা সম্ভব?
৪) কোন জাতের হাঁস এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী?
৫) ভালো জাতের হাঁসের বাচ্চা কোথায় পাওয়া যাবে?
ধন্যবাদ।
প্রশ্নকারীর নাম ও ঠিকানা: সোহেল মাহমুদ, নোয়াখালি।
সমাধান:
(ক) হাঁসের ঘর পুকুরের উপর তো অবশ্যই রাখতে হবে। বরং দুইটি ভাসমান ড্রামের উপর ঘরটি স্থাপন করলে আরও ভালো হবে। এতে হাঁসের মল দিন-রাত পুকুরে পড়বে, যা মাছের খাবার হবে। ঘরটি সারা পুকুরের যে কোনো জায়গায় ভেসে থাকতে পারবে। পাড় থেকে বাঁধা দড়ি দিয়ে ঘরটি কাছে বা দূরে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি হাঁসের জন্য ঘরে ২ বর্গফুট জায়গা দিতে হবে। ঘরের দরজা এত বড় হতে হবে যাতে হাঁস মাথা উঁচু রেখে ঘরে ঢুকতে পারে। ঘরের দেয়ালে বা ছাদে কোনো ফাঁক থাকবে না, যাতে আলো ঢুকতে পারে। নিচের মেঝে বাঁশের চটা পাশাপাশি আটকে তৈরি করতে হবে, যাতে সামান্য ফাঁক দিয়ে তরল মল পানিতে পড়তে পারে। মেঝেতে ৬ ইঞ্চি পুরু করে খড় বিছিয়ে দিতে হবে, যাতে হাঁস রাতে ডিম পাড়তে পারে। সন্ধ্যার পর ঘরের দরজা ভালোভাবে আটকে ঘর পুকুরের মাঝে ঠেলে দিতে হবে, যাতে শিয়াল বা অন্যান্য প্রাণী এসে হাঁস ধরে না খেতে পারে।
(খ) ৬৬ শতক আয়তনের পুকুরে ৬৬টি হাঁস পালন করা যাবে, যার মধ্যে ৭টি পুরুষ হাঁস থাকবে। ৩–৪ মাস বয়সের হাঁস দিয়ে হাঁস পালন শুরু করতে হবে। হাঁস সংগ্রহের পর পশুসম্পদ অফিস থেকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিতে হবে। ১৭–১৮ সপ্তাহ বয়সে হাঁস ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিটি মাদি হাঁস বছরে ১৮০–৩০০টি ডিম দেয়। ১ বছরে প্রতিটি হাঁসের ওজন হবে ২ কেজি।
(গ) ৬৬ শতক আয়তনের পুকুরে প্রতিটি ১০০ গ্রাম ওজনের ৫২৮টি কাতলা, ৫২৮টি রুই, ২৬৪টি মৃগেল ও ২৬৪টি কমন কার্প—অর্থাৎ সর্বমোট ১৫৮৪টি মাছের পোনা ছাড়তে হবে। প্রতিটি ১ কেজি সাইজ হলে অথবা ১ বছর পর মাছ ধরতে হবে। ১ বছর পর ধরলে আপনি ১০৫০ কেজি মাছ পেতে পারেন। মাছের খাবারের ৬০% আসবে হাঁসের মল থেকে। বাকিটা সম্পূরক খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে দিতে হবে।
(ঘ) খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস পালন সবচেয়ে লাভজনক। তবে ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁস মাছের সাথে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। প্রতিটি হাঁসকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১০০ গ্রাম করে চাউলের কুঁড়া ও পোল্ট্রি ফিড অর্ধাঅর্ধি হারে মিশিয়ে হাঁসের ঘরের সামনের বারান্দায় একটি পাত্রে সরবরাহ করে খাওয়াতে হবে।
(ঙ) পশুসম্পদ বিভাগের ৩টি আঞ্চলিক হাঁস খামার আছে—যেমন খুলনা ও কিশোরগঞ্জ। প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি পোল্ট্রি ফার্ম আছে। প্রশিকা ও ব্রাকের সাথেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় পোল্ট্রি হ্যাচারিগুলোতে হাঁসের বাচ্চা খোঁজ করতে পারেন।
ধন্যবাদ।










0 comments:
মন্তব্য করুন