পুকুরে মাগুর মাছ চাষের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপত্র

মাগুর মাছ চাষে সুবিধা

ছোট-বড় সব ধরনের জলাশয়ে শিং ও মাগুর মাছ চাষ করা যায়। এসব মাছ বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিতে পারে বলে চাষে ঝুঁকি কম। অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়। তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা বেশি। বাজারমূল্য ভালো। সুষ্ঠু খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাগুর মাছ ২০০–২৫০ গ্রাম ওজনে উন্নীত করা যায়।


পুকুরের আয়তন ও গভীরতা

  • ব্যবস্থাপনা সুবিধার জন্য পুকুর আয়তাকার হলে ভালো।

  • পুকুরের আয়তন ২০–৫০ শতাংশ হলে ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

  • তবে পুকুরের আয়তন ১০০ শতাংশের বেশি না হওয়াই ভালো।

  • পুকুরের গড় গভীরতা ৪.৫–৫.৫ ফুট হলে ভালো হয়।


নিরাপত্তা বেষ্টনী (ঘের) তৈরি

পুকুর প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিরাপত্তা বেষ্টনী/ঘের দেওয়া। পুকুরের চার পাড়ে বর্ষাকালের পানির লেভেলের অন্তত ২ ফুট উপরে শক্ত করে ঘের দিতে হবে। ঘের না দিলে বৃষ্টির সময় কানকো দিয়ে পরিভ্রমণ করে মাগুর/শিং মাছ পাড় বেয়ে পুকুরের বাইরে চলে যেতে পারে।

সাধারণত কৈ মাছ পানিতে ১.৫ ফুট পর্যন্ত লাফ দিতে পারে—তাই ১–১.৫ ফুট উঁচু ঘের দিলেও চলে। তবে সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি শত্রু থেকে রক্ষার জন্য ঘের কমপক্ষে ২.৫ ফুট উঁচু দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

ঘের তৈরির উপকরণ হিসেবে টিন, ঘন ফাঁসের নাইলন জাল, বাঁশের বানা ব্যবহার করা যায়। কেস কালচারের প্লাস্টিক নেট বেশ কার্যকর। স্থায়ীভাবে করতে চাইলে ইটের গাঁথুনি দিয়েও ঘের দেওয়া যায়। ঘের দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে—নীচে যেন কোনো ফাঁকা না থাকে এবং ঘের যেন মজবুত ও টেকসই হয়। ঘেরে গাফিলতি করলে পরবর্তী পর্যায়ে চাষি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

ঘের তৈরির সামগ্রী

নাইলনের জাল, বাঁশের খুঁটি/গাছের ডালের খুঁটি, সুতলি, কোদাল ইত্যাদি।

ঘের তৈরির পদ্ধতি

  • পুকুর পাড়ের উপর চারদিকে ৬ ইঞ্চি গভীর করে পরিখা খনন করতে হবে।

  • পরে ৮–১০ ফুট পরপর বাঁশের খুঁটি/ডাল শক্ত করে পুঁতে দিতে হবে।

  • এরপর নাইলনের নেট দিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলতে হবে।

  • পরিখার ভেতর নেট ঢুকিয়ে পরিখার মাটি দিয়ে নেটকে শক্ত করে আটকে দিতে হবে।

  • কিছু খামারে কমদামের টিন দিয়েও বেষ্টনী করা হয়; নিম্নমানের টিন ৩–৪ বছর ব্যবহার করা যায়।

ঘের তৈরির সময়

পুকুর শুকানোর পর ঘের তৈরি করা উত্তম। পুকুরে পানি না থাকলে ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রাণী সাধারণত থাকে না। পানি ভর্তি করার পর পানিতে বসবাসকারী প্রাণী ঢুকে পড়ে। তাই পুকুর সেচ দেওয়ার পরপরই ঘের তৈরি করে পরে পুকুর প্রস্তুতির অন্যান্য কাজ করা ভালো।

ঘের পর্যবেক্ষণ

ঘের পর্যবেক্ষণ প্রতিদিনের রুটিন কাজ হওয়া উচিত। বাতাস, বন্য প্রাণী ইত্যাদি ঘের উঠিয়ে/ভেঙে ফেলতে পারে। বাণিজ্যিক খামারে বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ হয় বলে কুকুর-শিয়ালকে বড় মাছ ধরে খেতে দেখা যায়—তাই এরা ঘের ক্ষতি করতে পারে।


পানির স্বচ্ছতা ও ঘোলাত্ব

পুকুরের পানি ঘোলা হলে সূর্যালোক নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না—ফলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য (উদ্ভিদ-প্ল্যাঙ্কটন) উৎপাদন কমে যায়। আবার পানির উপরিভাগে অতিরিক্ত উদ্ভিদ-প্ল্যাঙ্কটন তৈরি হলেও স্বচ্ছতা কমে যেতে পারে, এতে অক্সিজেনের অভাবে মাছের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

পানির স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটার হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়। ঘোলা পানি মাছের খাদ্য চাহিদাকে প্রভাবিত করে। ঘোলা পানিতে দ্রবীভূত কণা মাছের ফুলকায় আটকে ফুলকা বন্ধ করে দেয়—ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং খাদ্য চাহিদা কমে যায়।

ঘোলাত্ব কমানোর উপায়

  • প্রতি শতকে ১.০–১.৫ কেজি জিপসাম প্রয়োগ করে ঘোলাত্ব দূর করা যায়।

  • পুকুরের কোণায় খড়ের ছোট ছোট আটি রেখে দিলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।


অক্সিজেনের ঘাটতি হলে করণীয়

  • পানির উপরিভাগে ঢেউ সৃষ্টি করে/পানি আন্দোলিত করে

  • সাঁতার কেটে বা বাঁশ পিটিয়ে বা হাত দিয়ে পানি ছিটিয়ে

  • পাম্প দিয়ে নতুন পানি সরবরাহ করে


পুকুর প্রস্তুতি

পোনা মজুদের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পুকুরকে চাষ উপযোগী করা। প্রথমে পুকুর সেচ দিয়ে শুকানো প্রয়োজন। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট গভীরতার জন্য ২৫–৩০ গ্রাম রোটেনন পাউডার পানিতে গুলিয়ে সমভাবে ছিটিয়ে সব ধরনের মাছ অপসারণ করা যায়।

এরপর পুকুরের তলায় শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন ছিটিয়ে ৪–৫ দিন রোদে শুকিয়ে ২–৩ ফুট পানি ভর্তি করা উচিত। চুনের পাশাপাশি জিওলাইট (প্রতি শতকে ১–২ কেজি) পুকুর প্রস্তুতির সময় ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগ করা হয়। পুকুর প্রস্তুতির শেষ ধাপে সার প্রয়োগ করা হয়। চুন প্রয়োগের ৩–৪ দিন (হক, ২০০৬) বা ৭–১০ দিন (মৎস্য অধিদপ্তর, ২০০২) পর নিম্নোক্ত মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হয়।

সার প্রয়োগ মাত্রা (শতাংশ প্রতি)

সারশতাংশ প্রতি সারের মাত্রা
গোবর৫–৭ কেজি
কম্পোস্ট৮–১০ কেজি
হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা৩–৫ কেজি
ইউরিয়া১০০–১৫০ গ্রাম
টিএসপি৫০–৭৫ গ্রাম
এমপি সার২০ গ্রাম

নোট:

  • মেঘলা বা বৃষ্টির দিনে সার প্রয়োগ ঠিক নয়।

  • অতিরিক্ত সার কখনোই ব্যবহার করা ঠিক নয়।


প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যবেক্ষণ

পোনা ছাড়ার আগে প্রাকৃতিক খাদ্য ঠিকমতো তৈরি হয়েছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। পানির রং দেখে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ আন্দাজ করা যায়।

  • ভালো পানি: সবুজাভ/লালচে/বাদামী সবুজ

  • ভালো নয়: হালকা সবুজ, ঘন সবুজ, তামাটে লাল বা একেবারে পরিষ্কার পানি

সূর্য ওঠার পর (সকাল ১১–১২টার দিকে) নিচের পরীক্ষাগুলো করা যেতে পারে—

সেকিডিস্ক দিয়ে পরীক্ষা

সেকিডিস্ক হলো লোহা/টিনের তৈরি থালা, উপরে সাদা-কালো ডোরা দাগ থাকে। থালার সঙ্গে নাইলনের সুতা থাকে—গোড়া থেকে ৮ ইঞ্চি লাল, এরপর ৪ ইঞ্চি সবুজ, তারপর ৩.৫–৪ ফুট সাদা সুতা।

  • লাল সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পরও থালার সাদা অংশ দেখা না গেলে → প্রাকৃতিক খাদ্য অতিরিক্ত, পোনা/সার/খাদ্য কিছুই নয়।

  • সবুজ সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পর থালার সাদা অংশ দেখা না গেলে → প্রাকৃতিক খাদ্য পরিমিত, পোনা ছাড়া যাবে; নিয়মমতো সার ও খাদ্য চালাতে হবে।

  • সবুজ সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পরও সাদা অংশ দেখা গেলে → প্রাকৃতিক খাদ্য কম, আরও সার দিতে হবে।

হাত দিয়ে পরীক্ষা

হাত কনুই পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে তালু দেখা হয়।

  • পানি বাদামী সবুজ/লালচে সবুজ/হালকা সবুজ এবং তালু দেখা না গেলে → প্রাকৃতিক খাদ্য ঠিক আছে

গ্লাস দিয়ে পরীক্ষা

সার প্রয়োগের ৫–৭ দিন পর স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসে পানি তুলুন।

  • গ্লাসের পানিতে ৫–১০টি ক্ষুদ্র প্রাণীকণা দেখা গেলে → প্রাকৃতিক খাদ্য ঠিক আছে


পানির বিষাক্ততা পরীক্ষা

পোনা ছাড়ার ১–২ দিন আগে বিষক্রিয়া পরীক্ষা করা উচিত।

  • পুকুরে একটি হাপা টাঙিয়ে ১০–১৫টি পোনা ১ দিন রেখে দেখুন।

  • পোনা না মরলে → বিষক্রিয়া কেটে গেছে, পোনা ছাড়া যাবে।

  • পোনা মরলে → এখনও বিষ আছে, পানি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


চুন প্রয়োগ

চুন প্রয়োগে মাটি-পানির অম্লতা কমে, সারের কার্যকারিতা বাড়ে এবং পানির ঘোলাত্বও কমে। পুকুর শুকানোর ২–৩ দিন পর বা বিষ প্রয়োগের ৭–৮ দিন পর নিচের হারে চুন ব্যবহার করতে হবে—

মাটির pH অনুযায়ী চুনের মাত্রা

মাটির pHপাথুরে চুন (কেজি/শতাংশ)কলি চুন (কেজি/শতাংশ)পোড়া চুন (কেজি/শতাংশ)
৩–৫১২
৫–৬
৬–৭

pH মাপা সম্ভব না হলে গড়ে প্রতি শতাংশে ১–২ কেজি চুন ব্যবহার করা যায়।

  • পুকুর শুকানো না গেলে: চুন পানিতে ভিজিয়ে রেখে গুলে ঠান্ডা করে ছিটাতে হবে।

  • পুকুর শুকানো গেলে: গুঁড়ো চুন সরাসরি তলদেশে সমানভাবে ছিটাতে হবে।

চুন ব্যবহারে সতর্কতা

  • চুন ব্যবহারের সময় নাক-মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে নেওয়া উচিত।

  • বাতাসের অনুকূলে চুন ছিটানো উচিত।

  • কড়া রোদে চুন বেশি কার্যকর।

  • মাছ থাকা অবস্থায় চুন দিলে অবশ্যই গুলে ঠান্ডা করে দিতে হবে।

  • প্লাস্টিকের বালতিতে চুন গুলানো যাবে না; মাটির চাড়ি/ড্রাম ব্যবহার করতে হবে।

  • চুন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।


পুকুরে পানি ভরাট

  • পুকুর শুকানো হলে চুন প্রয়োগের ২–৩ দিন পর পানি দিতে হবে।

  • পানি সরবরাহকালে রাক্ষুসে মাছ ও অবাঞ্ছিত মাছ যেন না ঢোকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।


পুকুর প্রস্তুতির সময় সার প্রয়োগ

  • পানি ভরাটের ৩–৪ দিনের মধ্যে সার প্রয়োগ করতে হবে।

  • জৈব সার: গোবর/হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা/কম্পোস্ট

  • অজৈব সার: ইউরিয়া/টিএসপি ইত্যাদি

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

  • পুকুর শুকনো থাকলে জৈব সার সমানভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

  • পানি ভরাটের পর অজৈব সার পানিতে গুলে ছিটাতে হবে।

  • পুকুর আগেই পানি ভর্তি থাকলে জৈব-অজৈব সার একত্রে ৩ গুণ পানিতে গুলে ১২–২৪ ঘণ্টা রেখে সমানভাবে ছিটাতে হবে।


জিওলাইট, গ্যাসোনেক্স প্লাস ও প্রোবায়োটিক

সার দেওয়ার ৫–৭ দিন পর যখন পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হবে, তখন পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের নিরাপদ মাত্রা রক্ষা করতে নিয়মিত জিওলাইট এবং গ্যাসের উপস্থিতিতে ‘গ্যাসোনেক্স প্লাস’ ব্যবহার করলে চাষি উপকৃত হবেন। প্রতি মাসে একবার ‘গ্যাসোনেক্স প্লাস’ ব্যবহার করলে নিরাপদে থাকা যায়।

মাগুর মাছের দেহ স্বাভাবিক না থাকলে বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায় না। এ কারণে পুকুরে ‘প্রোবায়োটিক্স’ (অ্যাকোয়া ম্যাজিক) ব্যবহার করলে পুকুরের তলদেশের পরিবেশ এবং মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।


রাক্ষুসে মাছ ও আগাছা দূর করতে বিষ প্রয়োগ

অনেক এলাকায় পুকুর সম্পূর্ণ শুকানো সম্ভব হয় না। তখন বিষ প্রয়োগ করে রাক্ষুসে মাছ ও আগাছা/অবাঞ্ছিত প্রাণী দূর করা যায়।

বিষ প্রয়োগ মাত্রা ও পদ্ধতি 

ঔষধের নামশতাংশ প্রতি মাত্রাপানির গভীরতাপ্রয়োগ পদ্ধতি (সংক্ষেপে)বিষাক্ততার মেয়াদ
রোটেনন (০.১% শক্তি)১৬–১৮ গ্রাম / ৩–৪ ম্যাচ বক্স১ ফুটের বেশি নাকাই তৈরি → বল + তরল দুইভাবে ছিটানো → জাল টেনে পানি ওলট-পালট৭ দিন
রোটেনন (৭% শক্তি)১৮–২৫ গ্রাম / ৪–৫ ম্যাচ বক্স১ ফুটের বেশিএকই পদ্ধতি৭ দিন
তামাকের গুঁড়া৮০০ গ্রাম–১ কেজি ৬০০ গ্রাম১ ফুটের বেশিএক রাত ভিজিয়ে রৌদ্রজ্জ্বল দিনে ছিটানো৭–১০ দিন
চা বীজের খৈল১ কেজি১ ফুটের বেশি না৩–৪ গুণ পানিতে গুলে রৌদ্রজ্জ্বল দিনে ছিটানো৩–৪ দিন

পানির pH এবং চুন-সার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা

pH হলো এসিড/অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের পরিমাপক (০–১৪)। ৭ নিরপেক্ষ।

  • pH ৭-এর বেশি হলে ক্ষারত্ব

  • pH ৭-এর কম হলে অম্লত্ব
    পানির pH দ্রুত ওঠানামা মাছ চাষে ক্ষতিকর। আদর্শ pH ৭–৯

pH কম হলে শতাংশে ১–২ কেজি চুন দিতে হবে। pH ৯-এর বেশি হলে রাসায়নিক সার দিতে হয়।
পানির pH মাছের খাদ্য চাহিদায় বড় প্রভাব ফেলে। অম্ল পানিতে মাছের ক্ষুধা কমে, বৃদ্ধি কমে, উৎপাদন হ্রাস পায়। pH ৯-এর বেশি দীর্ঘদিন থাকলে বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। pH ৭.০–৮.৫ হলে খাদ্য চাহিদা বেশি থাকে ও উৎপাদন ভালো হয়।


মাগুর মাছের পোনা (স্বাস্থ্য পরীক্ষা)

পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে বা কেনার সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি—বেঁচে থাকা বাড়ে, রোগ কমে, উৎপাদন বাড়ে।

ভালো/খারাপ পোনা চেনার উপায়

পর্যবেক্ষণের বিষয়ভালো পোনাখারাপ পোনা
চলাফেরাচঞ্চলভাবে চলাচল করেস্থির/অলসভাবে চলে
পিচ্ছিলতাশরীর পিচ্ছিলশরীর খসখসে
স্রোত তৈরি করলেস্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটেপাত্রের মাঝখানে জমা হয়
শরীর/ফুলকাদাগ নেইদেহ/পাখনা/ফুলকায় লাল দাগ থাকতে পারে

পোনা পরিবহন পদ্ধতি

কৈ/শিং/মাগুর পোনা পরিবহন রুইজাতীয়ের মতো হলেও কিছু ভিন্নতা আছে—কাঁটা থাকায় বড় পোনাকে অক্সিজেন ব্যাগে নেওয়ার সময় সতর্কতা দরকার। শিং-মাগুরের ছোট পোনা অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহন উত্তম।

সাধারণত ৬৬ সেমি × ৪৬ সেমি পলিথিন ব্যাগে পরিবহন করা হয়। প্রতি প্যাকেটে দুটি ব্যাগ ব্যবহার ভালো—একটি ছিদ্র হলে দ্বিতীয়টি রক্ষা করবে।

২৫/৩০ দিনের মাগুর ৩০০–৪০০ গ্রাম (১৫/১৬ শত) পোনা ১৫–১৮ ঘণ্টা দূরত্বে পরিবহন করা যায়। ৪–৬ ঘণ্টার ভ্রমণে প্রতি ব্যাগে ১–১.৫ কেজি পর্যন্ত পোনা পরিবহন করা যায়। ব্যাগ ছিদ্র না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে বস্তায় ভরে পরিবহন করা উচিত।

অন্যান্য পদ্ধতি: ইনসুলেটেড ট্যাংকে এরেটর, ক্যানভাস ট্যাংক, ভ্যানে পলিথিন কাগজ দিয়ে ট্যাংক ইত্যাদি।


পোনা শোধন

রোগজীবাণু যেন পোনার সাথে না ঢোকে, তাই ছাড়ার আগে শোধন দরকার।

  • ১০ লিটার পানিতে ১ চা চামচ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট অথবা ১০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম (দুই মুঠ) লবণ

  • এতে পোনাকে ৩০ সেকেন্ড গোসল করিয়ে ছাড়তে হবে

  • ১০ লিটারের দ্রবণে একবারে ৩০০–৫০০টি পোনা শোধন করা যায়

  • একই দ্রবণে ৪–৫ বার ব্যবহার করে নতুন দ্রবণ বানাতে হবে

পোনা ছাড়ার পর Oxysaytin, Lenocide ইত্যাদি ব্যবহার সম্পর্কিত অংশও আপনার লেখামতো থাকল।


পোনা অভ্যস্তকরণ (কন্ডিশনিং)

পোনা শক না খাওয়ার জন্য ব্যাগ/পাত্রটি পুকুরে ৩০ মিনিট ভাসিয়ে তাপমাত্রা সমতা আনতে হবে। পরে পাত্র কাত করে বাইরে থেকে ভেতরে স্রোত তৈরি করলে সুস্থ পোনা স্রোতের বিপরীতে ধীরে ধীরে পুকুরে চলে যায়।

পোনা ছাড়ার সময়: সাধারণত মৃদু ঠান্ডা আবহাওয়ায়, সকাল বা বিকাল ভালো; মেঘলা/ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নয়।


পোনা ছাড়ার পরে করণীয়

  • পোনা ছাড়ার ৬–৮ ঘণ্টা পর পাড়ের কাছে চলাফেরা দেখুন

  • প্রতিদিন ভোরে পুকুর পর্যবেক্ষণ করে পোনা মারা যাচ্ছে কিনা দেখুন

  • পোনা মারা গেলে একই জাতের সমসংখ্যক পোনা পুনরায় ছাড়ুন

  • ৩০ দিন পরপর শতাংশে ১৫০ গ্রাম জিওলাইট অথবা ২৫০ গ্রাম চুন

  • ১৫ দিনে একবার প্রোবায়োটিক

  • ১৫ দিন অন্তর তাপমাত্রা/অক্সিজেন/pH/অ্যামোনিয়া/মোট ক্ষারকত্ব পরীক্ষা

  • এক মাস পরপর শতাংশে ১ কেজি চুন (১ কেজি চুনে ৩০ লিটার পানি) ছিটানো + আধা কেজি লবণ ছিটানো

  • অক্সিজেন অভাব হলে শতকে ২০০ গ্রাম জিওলাইট ছিটানো


চাষ চলাকালে সার প্রয়োগ (দৈনিক নমুনা মাত্রা)

সারপ্রতি শতাংশে
গোবর২০০–২৫০ গ্রাম
কম্পোস্ট৩০০–৪০০ গ্রাম
হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা১৫০–২০০ গ্রাম
ইউরিয়া৪–৫ গ্রাম
টিএসপি৩ গ্রাম
চুন২০০ গ্রাম (মাসিক)

সতর্কতা: রৌদ্রউজ্জ্বল দিনে সকাল ১০–১১টার মধ্যে ছিটাতে হবে; মেঘলা/বৃষ্টিতে নয়।


সম্পূরক খাদ্য

প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগকেই সম্পূরক খাদ্য বলা হয়। ঘনত্ব বেশি হলে প্রাকৃতিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে না—তাই পুষ্টিগুণসম্পন্ন সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়।

খাদ্যের উপকরণ (দেশি মাগুর)

চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষা/তিলের খৈল, ফিশমিল, চিটাগুড়, রক্তের গুঁড়া, হাঁস-মুরগির নাড়িভুঁড়ি, শামুক-ঝিনুকের মাংস ইত্যাদি।

খাদ্য তৈরির কয়েকটি ফর্মুলা

  • চালের কুঁড়া ২০ ভাগ + গমের ভুসি ১৫ ভাগ + খৈল ২০ ভাগ + ফিশমিল ৪০ ভাগ + চিটাগুড় ৫ ভাগ

  • অথবা খৈল ৩৫ ভাগ + চালের কুঁড়া ৩৫ ভাগ + রক্তের গুঁড়া ৩০ ভাগ
    বল আকারে বানিয়ে প্রয়োজনে রোদে একটু শুকিয়ে খাদ্যদানীতে প্রয়োগ করা যায়।

খাদ্য প্রয়োগের পদ্ধতি

  • সব পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে

  • নির্ধারিত স্থানে

  • খাদ্যদানীতে (খরচ ও অপচয় কমে)
    খাদ্যদানী: ৩×৩ ফুট বাঁশের ফ্রেমে মশারির জাল, পানির উপরিভাগ থেকে ১ ফুট নিচে, পাড় থেকে ১–২ মিটার দূরে স্থাপন।
    ৩০ শতাংশে ২টি, ৬০ শতাংশে ৪টি—এই হারে।

বৃষ্টি হলে বা পানি অতিরিক্ত সবুজ/দূষিত হলে খাদ্য কমাতে হবে।


শিং মাছের খাদ্য প্রয়োগ

প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% (সন্ধ্যার পর ও ভোরে ভাগ করে)
পরের ১০ দিন ১৫%
এর পরের ১০ দিন ১০%
এক মাস পর ৫%
৩ ইঞ্চি হলে ধীরে ধীরে দিনে খাবারে অভ্যস্ত করতে হবে। ১৫ গ্রাম হলে ৩%-এর বেশি খাবার ঠিক নয় এবং বিক্রি পর্যন্ত এই নিয়ম বজায় রাখতে হবে। বেশি খাবার দিলে পানি নষ্ট হতে পারে।

শিং/মাগুরের ওজন অনুযায়ী খাদ্য মাত্রা

গড় ওজন (গ্রাম)দৈনিক খাদ্য (%)
১–৩১৫–২০
৪–১০১২–১৫
১১–৫০৮–১০
৫১–১০০৫–৭
>১০১৩–৫

উদাহরণ অংশ (৪০ শতাংশে ২০০০০ মাছ × ৩ গ্রাম = ৬০ কেজি; ২০% = ১২ কেজি খাদ্য) — একই রাখা হলো।


৩৫ শতক পুকুরে ২০০০০ পোনার ৪ মাসের সম্ভাব্য মোট খাদ্য (টেবিল সাজানো)

সময়গড় ওজন ধরেমোট খাদ্য (কেজি)
১ম ১০ দিন (১০%)১ গ্রাম২০
২য় ১০ দিন (৫%)৮ গ্রাম৮০
৩য় ১০ দিন (৪%)১৫ গ্রাম১২০
৪র্থ ১০ দিন (৪%)২৫ গ্রাম২০০
৫ম ১০ দিন (৪%)৩৫ গ্রাম২৮০
৬ষ্ঠ ১০ দিন (৪%)৪৫ গ্রাম২৭০
৭ম ১০ দিন (৩%)৫৫ গ্রাম৩৩০
৮ম ১০ দিন (৩%)৬৫ গ্রাম৩৯০
৯ম ১০ দিন (৩%)৭৫ গ্রাম৪৫০
১০ম ১০ দিন (৩%)৮৫ গ্রাম৫১০
১১তম ১০ দিন (৩%)৯৫ গ্রাম৫৭০
১২তম ১০ দিন (৩%)১০৫ গ্রাম৬৩০
মোট৩৮৫০

(এখানে “ঌম” → “৯ম” করে ঠিক করা হয়েছে।)


রোগ, ঝুঁকি ও প্রতিকার

বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি/বন্যায় মাছ ভেসে যেতে পারে—তাই বেষ্টনী জরুরি। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে অক্সিজেন ঘাটতি হতে পারে—পানি সেচে গভীরতা বাড়াতে হবে। শীতে রোগ বেশি হয়—শীতের ২–৩ মাস চাষ না করাই ভালো; তবে সংরক্ষণে ভোরে ডিপটিউবওয়েল পানি দিয়ে তাপমাত্রা বাড়ানো যায়। তলদেশে ক্ষতিকর গ্যাস জমলে ২–৩ দিন পরপর দুপুরে তলদেশ নাড়িয়ে/হররা টেনে গ্যাস ছাড়াতে হবে; শতকে ২৫০ গ্রাম চুন বা জিওলাইটে উপকার। বেশি ঘনত্বে মাছের রং স্বাভাবিক না হলে বাজারজাতের ১৫ দিন আগে পুকুরের ১/৪ অংশে কচুরীপানা/টোপাপানা দেওয়া যেতে পারে।

শীতে ও পানির পরিবেশ খারাপ হলে গায়ে সাদা দাগ/ক্ষত হতে পারে—শতকে ২৫০ গ্রাম চুন বা ৫০০–৭৫০ গ্রাম জিওলাইট, আংশিক পানি পরিবর্তন, শীতের শুরুতে চুন+লবণ প্রয়োগ প্রতিরোধে সহায়ক।


Pond Plus ও Aqua Magic (যেমন ছিল তেমন সাজানো)

  • Pond Plus: প্রতি ৩৫ শতাংশে ৫০ গ্রাম, প্রতি ১০ দিন অন্তর।

  • Aqua Magic: প্রতি একরে (১ মিটার গভীরতা) ৫ কেজি; ৩০ শতাংশের জন্য ১.৫ কেজি। সাথে ১৫০ গ্রাম চালের কুঁড়া + ৫০ গ্রাম চিনি ৫ লিটার পানিতে ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে পুকুরে ছিটাতে হবে।


মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ

দেশি মাগুর বাজার আকারে পৌঁছালে সাধারণত সব মাছ একবারে ধরতে হয়। প্রথমে জাল টেনে অধিকাংশ মাছ ধরে ফেলতে হবে, পরে পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে অবশিষ্ট মাছ ধরতে হবে। শুধু জাল দিয়ে ধরলে ৪০–৫০% মাছ থেকে যেতে পারে—তাই চূড়ান্ত আহরণে পুকুর শুকিয়ে ধরা উত্তম।
মাগুর ৮–১০ মাসে, শিং ৪–৬ মাসে ধরার উপযোগী হয় (হক, ২০০৬)। ১০০–১৫০ গ্রাম হলে আংশিক আহরণও করা যায়। উল্লেখিত ব্যবস্থাপনায় এক শতাংশে ৬–৮ মাসে ১৬–১৮ কেজি শিং/মাগুর পাওয়া সম্ভব; আংশিক আহরণের পর সমসংখ্যক পোনা পুনরায় মজুদ করলে বছরে ২৪–২৫ কেজি পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।


এক নজরে–১

  • পুকুর সেচের পর প্রয়োজনীয় জৈব সার সমান ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

  • পুকুর শুকানোর ২–৩ দিন পর বা বিষ প্রয়োগের ৭–৮ দিন পর চুন দিতে হবে।

  • পুকুর শুকানো সম্ভব হলে শুকনো চুন, সম্ভব না হলে চুন তরল করে দিতে হবে।

  • পুকুর শুকানো হলে চুনের ৪–৫ দিন পর ২–৩ ফুট পানি দিতে হবে; জিওলাইট (প্রতি শতকে ১–২ কেজি) দিলেও ভালো ফল।

  • পানি ভরাটের ৫–৭ দিন পর সার প্রয়োগ (মেঘলা/বৃষ্টিতে নয়)।

  • সার প্রয়োগের ৩–৫ দিন পর প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হলে পোনা মজুদ।

  • পোনা ছাড়ার আগে ৩০ মিনিট ব্যাগ ভাসিয়ে অভ্যস্ত করতে হবে।

  • ৩০ সেকেন্ড লবণ পানিতে শোধন করে সকালে/বিকেলে মৃদু ঠান্ডায় পোনা ছাড়তে হবে (মেঘলা/ভ্যাপসায় নয়)।


এক নজরে–২ (জিনিসপত্র)

(তোমার তালিকা 그대로 রেখে সাজানো—পরিমাণ একই)

  • রোটেনন পাউডার: প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট গভীরতায় ২৫–৩০ গ্রাম (পুকুর না শুকালে)

  • চুন: শতাংশে ১ কেজি (৩৫ শতকে ৩৫ কেজি) / অথবা সমান জিওলাইট

  • ৫০% চুন + ৫০% জিওলাইট একত্রেও

  • জৈব সার (৩৫ শতক): গোবর ১৭৫ কেজি / কম্পোস্ট ২৮০ কেজি / হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ১৭৫ কেজি

  • ইউরিয়া ৪ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি, এমপি ১ কেজি

  • সেকিডিস্ক, pH মিটার

  • পোনা শোধন: বালতি, ঘন জাল, লবণ ৮ কেজি, Lenocide ২৫০ সিসি

  • বড় ২টি পাতিল (পোনা ছাড়ার জন্য)

  • খাদ্যদানী: মশারীসহ বাঁশের ফ্রেম ১ বর্গমিটার (২টি)

  • সম্পূরক খাদ্যের কাঁচামাল তালিকা (আপনার মতোই)


৩৫ শতাংশ পুকুরের আয়-ব্যয়ের হিসাব

ক) মজুদ পূর্ব ও মজুদকালীন ব্যবস্থাপনা

আইটেমমোট পরিমাণএকক দর (টাকা)মোট ব্যয় (টাকা)নোট
চুন৪২ কেজি২৫১,০৫০১ কেজি হারে
জিওলাইট৩৫ কেজি২৫৮৭৫১ কেজি হারে
গোবর১৭৫ কেজি৩৫০
ইউরিয়া১০ কেজি২০২০০শতকে ২০০ গ্রাম
টি এস পি৬ কেজি২৫১৫০শতকে ১০০ গ্রাম
এমপি সার১ কেজি২৫২৫শতকে ২০ গ্রাম
পোনা২০,০০০ টি২.৫০৫০,০০০১০% মৃত্যুহার ধরে; ৮০% মাগুর পোনা ধরে ঘনত্ব নির্ধারণ

খ) খাদ্য ব্যয়

আইটেমমোট পরিমাণ (কেজি)একক দর (টাকা)মোট ব্যয় (টাকা)
ফিসমিল৮০০৭৪৫৯,২০০
সরিষার খৈল৮০০৩৪২৭,২০০
গমের ভুসি৪৮০৩২১৫,৩৬০
সয়াবিন চূর্ণ৩২০৬০১৯,২০০
অটোকুঁড়া১,২০০১৮২১,৬০০
ভুট্টা চূর্ণ২০০১৫৩,০০০
চিটাগুড়২০০৪০৮,০০০
ভিটামিন প্রিমিক্স২৮০১,৮০০
মোট খাদ্য৪,৩২০২,০৮,০১০

গ) পরিচালনা ও অন্যান্য

আইটেমমোট ব্যয় (টাকা)
পরিচালনা, শ্রমিক মজুরী, মাছ ধরা ও অন্যান্য১০,০০০

মোট ব্যয় (সারসংক্ষেপ)

বিবরণটাকা
মোট ব্যয় (খাদ্যসহ)২,০৮,০১০
পরিচালনা ও অন্যান্য১০,০০০
সর্বমোট ব্যয়২,১৮,০১০

উৎপাদন ও বিক্রয়

বিবরণপরিমাণ/দরটাকা
৮ মাসে গড়ে ৯৫ গ্রাম ধরে (১৮,০০০ মাছ) মোট উৎপাদন১,৭১০ কেজি
বিক্রয়মূল্য৫০০ টাকা/কেজি৮,৫৫,০০০
সর্বমোট বিক্রয়৮,৫৫,০০০
সর্বমোট ব্যয়২,১৮,০১০
নিট মুনাফা৬,৩৬,৯৯০