১) পুকুর নির্বাচন
কৈ মাছ চাষের জন্য পুকুর নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ মাছ চাষের জন্য ৪–৬ মাস পানি থাকে—এমন ১৫–২০০ শতাংশ আয়তনের পুকুর নির্বাচন করতে হবে। তবে এর চেয়ে ছোট বা বড় পুকুরেও কৈ মাছ চাষ করা যায়।
২) পুকুর প্রস্তুতি
পুকুরের পাড় মেরামত করতে হবে এবং জলজ আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
পুকুর সেচে পানি শুকিয়ে অবাঞ্ছিত মাছ ও ক্ষতিকর প্রাণী দূর করতে হবে।
পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে রোটেনন প্রয়োগ করে (৪০ গ্রাম/শতাংশ) রাক্ষুসে মাছ ও অন্যান্য প্রাণী নিধন করতে হবে।
প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ আবশ্যক।
চুন প্রয়োগের ৫ দিন পরে পোনা মজুদের ব্যবস্থা নিতে হবে।
পোনা মজুদের পূর্বে পুকুরের চারদিকে নাইলন নেট দিয়ে ফেনসিং দিতে হবে।
৩) পোনা সংগ্রহ ও মজুদ (স্টকিং) নির্দেশনা
হ্যাচারি থেকে সুস্থ-সবল ধানী পোনা সংগ্রহ করতে হবে।
সরাসরি মজুদের ক্ষেত্রে (নার্সারি না করে) কিছু পোনা মারা যেতে পারে—তাই ১৫–২০% বেশি মজুদ করা ভালো।
মজুদের সময় পোনাকে পুকুরের পানির সাথে কন্ডিশনিং (পানির তাপমাত্রা/পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো) করে ছাড়তে হবে।
সম্ভব হলে ১৫–২০ দিন চারা পুকুরে রেখে পোনার ওজন ১–২ গ্রাম হলে বড়/ভালো মাছ বেছে পালন পুকুরে মজুদ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৪) মাছের প্রজাতি ও মজুদ ঘনত্ব (প্রতি শতাংশে)
| মাছের প্রজাতি (মজুদ ঘনত্ব/শতাংশ) | একক চাষ | মিশ্র চাষ ১ | মিশ্র চাষ ২ | মিশ্র চাষ ৩ |
|---|---|---|---|---|
| ভিয়েতনাম কৈ | ৬০০–৭০০ | ৩০০–৪০০ | ৪০০–৫০০ | ৫০০–৬০০ |
| শিং/মাগুর | — | ১০০ | ৭৫ | ৫০ |
| কমন কার্প | — | ২ | ১ | ১ |
| সরপুঁটি | — | ৩ | ৩ | ৩ |
| রুই | — | ২ | ২ | ১ |
| সিলভার কার্প | — | ৩ | ৩ | ৩ |
৫) কৈ মাছের পুষ্টি চাহিদা
ভিয়েতনাম কৈ মাছের আমিষ চাহিদা (বিশেষ করে প্রাণিজ আমিষ) কার্প/রুই জাতীয় মাছের তুলনায় বেশি। কৈ মাছের আমিষের চাহিদা ৩৫–৪০%। পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য থেকেও কিছু আমিষের চাহিদা পূরণ হয়।
ডুবন্ত ও ভাসমান—উভয় ধরনের খাবার দেওয়া যায়, তবে ভাসমান খাবারই উত্তম।
৬) ভিয়েতনাম কৈ মাছের খাদ্য প্রয়োগ তালিকা
| দিন | খাদ্য প্রয়োগ হার (দৈহিক ওজনের %) | খাদ্য প্রয়োগ মাত্রা |
|---|---|---|
| ১–৯ | ৫০% | ৩ বার |
| ১০–১৯ | ৩৫–৪০% | ৩ বার |
| ২০–২৯ | ২৫–৩০% | ৩ বার |
| ৩০–৩৯ | ২০–২৫% | ৩ বার |
| ৪০–৪৯ | ১৫–২০% | ৩ বার |
| ৫০–৫৯ | ১০–১৫% | ২ বার |
| ৬০–৬৯ | ১০–১২% | ২ বার |
| ৭০–৭৯ | ৮–১০% | ২ বার |
| ৮০–৮৯ | ৫–৭% | ২ বার |
| ৯০–৯৯ | ৪–৫% | ২ বার |
| ১০০–১০৯ | ৩–৪% | ২ বার |
| ১১০–১২০ | ২–৩% | ২ বার |
খেয়াল করুন: আপনার লেখায় “৮০–৭৯” ছিল—এটা সম্ভবত টাইপো; ৮০–৮৯ করে সাজানো হয়েছে।
৭) নিয়মিত ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট)
প্রতি ১০–১৫ দিন পরপর জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতি ১৫ দিনে একবার প্রোবায়োটিক ব্যবহার করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং পানির পরিবেশ ভালো থাকে।
পোনা মজুদের পর ৩০ দিন পরপর শতাংশ প্রতি ১৫০ গ্রাম হারে জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে।
মাছ নিয়মিত খাবার খায় কিনা—সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে।
মজুদ পুকুরে প্রতি ১৫–২০ দিনে ২০–৩০% পানি পরিবর্তন করা উত্তম।
প্রতি ১৫ দিন অন্তর পানির গুণাগুণ যেমন তাপমাত্রা, অক্সিজেন, pH, অ্যামোনিয়া, মোট ক্ষারকত্ব নির্ণয় করা আবশ্যক।
অ্যামোনিয়া বেড়ে গেলে বাজারে প্রচলিত অ্যাকুয়া-কেমিক্যাল ব্যবহার করে অ্যামোনিয়া কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮) খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি
শুকনো পিলেট খাদ্য বায়ুরোধী পলিথিন/চটের বস্তা বা মুখবন্ধ পাত্রে, ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।
মাঝে মাঝে খাদ্য রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়।
স্টোরে/গুদামে খাদ্য মেঝেতে না রেখে কাঠের পাটাতনের ওপর রেখে সংরক্ষণ করা ভালো।
সংরক্ষিত পিলেট খাদ্য ২–৩ মাসের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলা উচিত।
৯) মাছ আহরণ ও উৎপাদন
আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করলে ৩–৪ মাসে ভিয়েতনাম কৈ মাছের গড় ওজন ১৫০–২০০ গ্রাম হতে পারে। এ সময় জাল টেনে এবং প্রয়োজনে পুকুরের পানি শুকিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা নিতে হবে।
আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে ৩–৪ মাসে একর প্রতি সর্বমোট ৮–১০ টন উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।
১০) ভিয়েতনাম কৈ-এর সাধারণ রোগ ও প্রতিকার
উচ্চ মজুদ ঘনত্ব ও বদ্ধ জলজ পরিবেশে পরিত্যক্ত খাবার, মাছের বিপাকীয় বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা পচে পানি দূষিত হলে রোগের ঝুঁকি বাড়ে। একবার জীবাণু ঢুকে গেলে সমূলে উচ্ছেদ কঠিন—তাই প্রতিরোধই উত্তম।
রোগের ঝুঁকি কমাতে সতর্কতা
নিরোগ ও সবল মাছের পোনা সংগ্রহ
খামার ও চাষের সরঞ্জাম জীবাণুমুক্তকরণ
এক খামারের মাছ ধরার জাল অন্য খামারে ব্যবহার না করা (পারতঃপক্ষে)
উচ্চ মজুদ হার পরিহার করা
জীবাণুবাহক দূরে রাখার ব্যবস্থা
পরিমিত ও সুষম খাবার প্রয়োগ
খামার ও মাছের পরিচর্যা নিশ্চিতকরণ
ক্ষত রোগ: প্রতিরোধ ও প্রতিকার
পরিবহণের সময় পোনা আঘাতপ্রাপ্ত হলে ক্ষত রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। পালন পুকুরেও ক্ষত রোগ হতে পারে। চাষী পর্যায়ে প্রতিরোধ/প্রতিকারের জন্য—
ক্ষত রোগের প্রাদুর্ভাব হলে পুকুরে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। একই সাথে এন্টিবায়োটিক হিসেবে ৫ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন প্রতি কেজি খাবারের সাথে মিশিয়ে ১০ দিন প্রয়োগ করতে হবে।
জীবাণুনাশক হিসেবে কৈ মাছের পুকুরে জিওলাইট/প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
জিওলাইট ব্যবহার মাত্রা: প্রতি একর পুকুরে (১ মিটার গভীরতা) ৫ কেজি
পোনা মজুদের পর প্রতি শতাংশে প্রতি ফুট পানির জন্য ২ গ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
শীতকালে ক্ষত রোগে আক্রান্ত মাছের জন্য পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি প্রতি শতাংশ-ফুট পুকুরে ০.৫–১.০ কেজি লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
১১) অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ
সম্পূরক খাদ্যে প্রাণিজ আমিষ (ফিশ মিল, মিট ও বোন মিল, প্রোটিন কনসেন্ট্রেট, ব্লাড মিল ইত্যাদি) এবং ভিটামিন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। ভাসমান পিলেট খাদ্যই সবচেয়ে ভালো।
ডুবন্ত খাবারের ক্ষেত্রে খাবার দেওয়ার ১ ঘণ্টা পর যে স্থানে খাবার দেওয়া হয়, সেখানে দেখে নিতে হবে। যদি খাবার পড়ে থাকে—তাহলে মাছ কম খাচ্ছে বা খাবার বেশি দেওয়া হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালে পানি কমে গেলে ও তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অক্সিজেন ঘাটতি হতে পারে—এ অবস্থায় খাবার কমাতে হবে।
মেঘলা আবহাওয়া বা অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে বা একেবারে বন্ধ করতে হবে।
পোনা মাছের ক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার এবং চাষযোগ্য মাছের ক্ষেত্রে ১৫ দিনে একবার নমুনা সংগ্রহ করে গড় বৃদ্ধির সাথে মিলিয়ে মোট খাদ্যের পরিমাণ ঠিক করতে হবে।
১২) পোনা প্রাপ্তি/যোগাযোগ (আপনার লেখার মতোই অপরিবর্তিত রেখে সাজানো)
ভিয়েতনাম কৈ মাছের পোনা প্রাপ্তি বিষয়ে স্বর্ণলতা এগ্রো ফিশারিজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল কাদির তরফদার জানান, দেশে একমাত্র তার প্রতিষ্ঠান ভিয়েতনাম কৈ মাছের পোনা সরবরাহ করতে পারবে। এজন্য আগ্রহী খামারি ভাইয়েরা যোগাযোগ করতে পারেন:
মোবাইল: ০১৭১১ ১৬৮ ২০৫ অথবা ০১৭১২ ১৫২ ১৪০
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ: ০১৭১৭ ৫২৬০৭০
চাইলে আমি এটাকে একদম “পোস্ট/পিডিএফ” ফরম্যাটে (শিরোনাম, সাব-হেডিং, সুন্দর টেবিল, নম্বরিং—সব একরকম) করে আরও ঝকঝকে করে দিতে পারি।










0 comments:
মন্তব্য করুন