Showing posts with label ক্ষুদ্র উদ্যোগ. Show all posts
Showing posts with label ক্ষুদ্র উদ্যোগ. Show all posts

ছোটখাট জুস বার থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায়


চারদিকে শুধু ভেজালের ছড়াছড়ি। সবকিছুতে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রণ। খাবারের সাথে সবাই খাচ্ছে বিষ। তাই মানুষ দিকবিদিক ছুটছে ফ্রেশ খাবারের খোঁজে।
এ পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসতে পারেন আপনিও। স্বল্প পুঁজিতে শুরু করতে পারেন জুস ব্যবসায়। সবাইকে দিতে পারেন কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক পানীয় বা ন্যাচারাল জুসের স্বাদ। নিজেও করতে পারেন ভাগ্য পরিবর্তন।

জুসের উপকারিতা
জুসের আছে অনেক উপকারিতা। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দিতে পারে এক চুমুকেই। এটি মানবদেহের পানি স্বল্পতা পূরণে বিরাট ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল থেকে তৈরি করা হয় জুস। যার কারণে এটি ভিটামিন সি -এর চাহিদা পূরণ করে।

সম্ভাবনা
কেমিক্যালের কারণে এখনকার অধিকাংশ খাবার বিষাক্ত। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে বিষমুক্ত খাবার। ফলে প্রাকৃতিক জুসের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন।

মূলধন
এ ব্যবসায়ে বেশি উপকরণ লাগে না। তাই খুব বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। ব্যবহৃত সবগুলো জিনিস দেশী। ফলে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকায় এ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

জায়গা নির্বাচন
এ ব্যবসায়ে জায়গা নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য জনবহুল জায়গা বাছাই করতে হবে। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে হলে ভালো হয়। দোকানের জন্য অনেক বড় জায়গার দরকার নেই। শুধু দোকানের ভেতর দুই জন লোক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থা থাকলে চলবে।

প্রয়োজনীয় উপরকরণ
এ ব্যবসায়ে প্রধান উপকরণ হচ্ছে- বরফের জন্য আইস মেশিন বা ফ্রিজ, জুস তৈরির জন্য বেলেন্ডার, পানির জন্য একটি ফিল্টার। পরিবেশনের জন্য জুস গ্লাস। এ ছাড়া ফল রাখার জন্য ডিসপ্লে।

প্রাপ্তি স্থান
ব্যবহৃত যন্ত্রগুলো যে কোনো ইলেকট্রনিক্স শো-রুমে থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আর কাঁচামাল বা ফলমূল নিজস্ব বাগান কিংবা ফলের দোকান বা বেপারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

বিভিন্ন ধরনের জুস
বিভিন্ন ফল দিয়েই জুস তৈরি করা যায়। তার মধ্যে অ্যাপেল জুস, ম্যাংগো জুস, বেনানা মিল্কশেক, আমসত্ব, লেবুজল, আদাজল, মৌরিজল, তেঁতুলজল, ত্রিফলাজল, কারাঙ্গাঁজল, বেলপানি, কমলাজল, মালটাজল, মাঠা, তরমুজপানি, আমড়াজল, আনারসপানি, পেয়ারাজল, লটকনপানি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আয়-রোজগার
আয় রোজগারের ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের জুসবারের স্বত্ত্বাধিকারী মোতাহার আকন্দ বলেন, দৈনিক আড়াই হাজার টাকা করে বিক্রি করলে মাসে নিট লাভ করা যাবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

প্রশিক্ষণ
এ বিষয়ে কোর্স করানোর কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা জানা যায়নি। তবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনসহ কিছু প্রতিষ্ঠান খাবার বিষয়ক স্বল্প মেয়াদি কোর্স করিয়ে থাকে। সেসব কোর্সে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে জুস তৈরির বিষয়টি আলোচিত হয়। তাছাড়া অভিজ্ঞ জুস ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। দরকারে একজন দক্ষ শেফ রাখতে পারেন।

নিজেই দিয়ে দিন আইসক্রীম ফ্যাক্টরী

আইসক্রিম তৈরীর কাঁচামালগুলো কি কি?

  • হাইড্রোজেনেড কোকোনাট অয়েল /পাম কারনাল অয়েলীন
  • মিল্ক পাউডার (ফুলক্রীম )
  • ইমালসিফায়ার এবং স্ট্যাটাবলাইজার
  • ফুড কালারিং
  • ফ্লেভারস : ভ্যানিলা , স্ট্রবেরী, অরেঞ্জ, কফি ইত্যাদি।
  • গ্লুকোজ
  • কুয়ার গাম
  • কোকোয়া পাউডার
  • আইসক্রিম ক্টিক

প্রস্তুত প্রণালী এর ধাপ গুলো

  • ব্লেনডিং অব দ্যা মিক্স ইনগ্রিডিয়েনডস
  • পাস্তুরাইজেশন
  • হোমোজেনাইজেশন
  • এইজিং দ্যা মিক্স
  • এডিং লিকুইড ফ্লেভার , কালার
  • ফ্রিজিং
  • হার্ডেনিং
  • কোয়ালিটি টেস্টটিং
  • প্যাকেজিং

ব্লেনডিং অব দ্যা মিক্স ইনগ্রিডিয়েনডস
প্রথমেই স্কিম মিল্ক / পাউডার মিল্ক , ইমালসিফায়ার , নন ফ্যাট, একএে ব্লেনডিং মেশিনেমেশানো হয় – – একে বলে ব্লেনডিং । অনেক সময় সলিড উপকরণগুলো কে লিকুইড উপকরণের সাথে মেশানো পূর্বে একবার ব্লেনড করে নেয়া হয় ।

পাস্তুরাইজেশন
পরবর্তীতে ব্লেনডিং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত মিশ্রণ যাকে বলে আইসক্রিম মিক্স কে পাস্তুরীকরণ করা হয় । আইসক্রিমকে ১৫৫ ডিগ্রী ফারেনহাইড / ৬৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এ পাস্তুরীকরণ করা হয় এবং প্রায় ৩০ মিনিট পাস্তুরীকরণ করা হয় । ফ্যাক্ট্যরীতে দুই ধরনের পাস্তুরাইজার বেশি ব্যবহার করা হয় ব্যাচ পাস্তুরাইজার এবং ভ্যাট পাস্তুরাইজার ।

হোমোজেনাইজেশন
পরবর্তী ধাপে আইসক্রিম মিক্সকে হোমোজেনাইজেশন করা হয় ( ২৫০০-৩০০০পিএসআই)। ,হোমোজেনাইজেশন হলো কেনো মিশ্রণের উপাদান কে সমরূপে মিশ্রিত করা , এর ফলে মিশ্রণ মসৃণ এবং ক্রীমি হয় , ইমালসিফায়ার ও এবং স্ট্যাটাবলাইজার আরো ভালভাবে মিশ্রিত হয় । হোমোজেনাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যার উপর আইসক্রীমের মান অনেকখানি নির্ভরশীল ।

এইজিং দ্যা মিক্স
পরবর্তীতে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে প্রায় ৪ ঘন্টা বা সারারাত হোমোজেনাইজড মিক্সড কে এইজিং করা হয় । এইজিং এর ফলে মিল্ক ফ্যাটগুলো ভেঙ্গে আংশিক দানাদার হয় ।
এডিং লিকুইড ফ্লেভার , কালার : এই পর্যায়ে লিকুইড ফ্লেভার এবং কালার যোগ করা হয় ।

ফ্রিজিং
এরপর মিশ্রণকে ফ্রিজারে রেখে দেয়া হয় , ভিতরের তাপমাএা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে রাখা হয় এবং ফ্রিজিং এজেন্ট হিসেবে তরল এমোনিয়া ব্যাবহার করা হয় । যদি সিঙ্গেল ব্যাচ ইলেক্ট্রফ্রিজার ব্যাবহার করা হয় তবে ১৫-২০ মিনিটেই ফ্রিজিং হয়ে যায় ।

হার্ডেনিং
এই ধাপে আইসক্রিম কণ্টেইনারে রাখা হয় । ফ্যাক্টরী মেশিনগুলো তা সরাসরি কার্টনে ভরে দেয় অথবা বিভিন্ন আকার প্রদান করা হয় । মেশিনগুলো থেকে  আইসক্রিম বের করে ২০ডিগ্রী ফারেনহাইড ফ্রিজারে রাখা হয় যাতে শক্ত আকার ধারন করে ।

কোয়ালিটি টেস্টিং
এই ধাপে আইসক্রীমের মান যাচাই করা হয় ।

প্যাকেজিং
সবশেষে অটোমেটিক মেশিনে এ প্যাকেজ করে ফ্রিজে সংরক্ষন করা হয়। একেক ফ্যাক্টরীর তৈরী আইসক্রিম এর ফ্রিজিংপয়েন্ট একেক একেক রকম , তাই যে কোম্পানি আইসক্রিম তৈরি করে তারাই সেই আইসক্রিম এর জন্য রেফ্রিজারেটর দিয়ে থাকে ।





হার্ড পেপারে বাক্স তৈরী

হার্ড পেপারে বাক্স তৈরীর ব্যবসা অল্প পুঁজিতে ঘরে বসেই করা যায়। এ ব্যবসা ঝুঁকিহীন ও লাভজনক ব্যবসা। ৪০০০০ থেকে ৬০০০০ টাকার মধ্যে এ ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
সাধারণত একটি গয়নার বাক্স তৈরিতে কাঁচামাল ও শ্রমসহ খরচ হয় ২৫-৩০ টাকা। বাক্সের বিক্রয় মূল্য ৪০-৫০ টাকা। প্রতি পিস গয়নার বাক্সে লাভ থাকে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সে ক্ষেত্রে লাভ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।
এ ব্যবসা আরাম্ভ কারার আগে বাক্স তৈরীর কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। যেমন হার্ড পেপার, ব্রাউন পেপার, আইকা ও প্লাস্টিক রং ইত্যাদি।

এরপর, প্রথমে হার্ড পেপার একটা নির্দিষ্ট মাপে মেশিনে দিয়ে কেটে নিতে হবে। কাটা হার্ড পেপারে আইকা আঠা দিয়ে ব্রাউন পেপার লাগাতে হবে। এরপর ব্রাউন পেপারের ওপর নকশা এঁকে তাতে তুলি দিয়ে প্লাস্টিক রং লাগাতে হবে। সবশেষে হার্ড পেপারের আলাদা টুকরাগুলো আইকা দিয়ে জোড়া লাগাতে হবে। বাক্সের চারদিকে চার টুকরা এবং ওপর-নিচে দুই টুকরাসহ মোট ছয় টুকরা হার্ড পেপার জোড়া দিয়ে স্কয়ার বাক্স তৈরি করা যাবে।
এর চাহিদা এখন আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড় বড় গিফট শপের হ্যান্ডিক্র্যাফটের দোকান বা গয়নার দোকানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পণ্যের মান ও নতুনত্ব দেখাতে পারলে নির্দিষ্টভাবেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে রেগুলার পণ্য বিক্রি করা যায়।
এ ব্যবসা সৃজনশীল যেকোনো মানুষ করতে পারেন। তবে যারা ভালো আঁকাতে পারে তাঁরা এটা আরো ভালো করতে পারবেন।

কম খরচে শুঁটকি তৈরির বক্স টানেল

বাংলাদেশে শুঁটকিমাছ জনপ্রিয় সুস্বাদু খাবার। শুঁটকিতে প্রায় ৬০-৬৫ শতাংশ শরীর আমিষ এবং ৭-২০ ভাগ রোগনিরাময়ী স্নেহপদার্থ রয়েছে। সামুদ্রিক মাছের শুঁটকির স্নেহপদার্থ হৃদরোগ উপশমে বিশেষ কার্যকর। 
শুঁটকি তৈরির প্রচলিত পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য যন্ত্রপাতিনির্ভর ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। মাছের পরিচর্যার উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে, সংক্রমণ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং প্যাকেজিং পদ্ধতির আধুনিকীকরণের মাধ্যমে অতি সহজেই উন্নতমানের বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি এবং দীর্ঘ দিন ধরে সংরণ ও বাজারজাতকরণ করা যায়। 
কীটনাশক পরিহার করে অরগানিক শুঁটকি তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম সহজলভ্য ও সস্তা উপাদান ব্যবহার করে ঝুলন্ত বক্স টানেল তৈরি করেছেন, যা মাঠপর্যায়ে উন্নতমানের নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদনে খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পদ্ধতির উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. নওশাদ বলেন, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পোকামাকড়ের আক্রমণ। সাধারণত দুই ধরনের পোকা শুঁটকিকে আক্রমণ করেÑ মাছি ও মাছির লার্ভা এবং বিটল বা কাইস্সা পোকা। শুঁটকি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে আর্দ্রমাছের গায়ে মাছিরা ডিম পাড়ে। মাছ তাড়াতাড়ি না শুকালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বা শুককীট জন্ম নেয়। এ ছাড়া ঘরের আনাচে-কানাচে, অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বিস্তর দেখা যায় বিটল পোকা। হাজার প্রজাতির বিটলের মধ্যে শুধু ডারমাসটিস বিটলরাই মাছের শুঁটকিকে আক্রমণ করে। 
উভয় ধরনের পোকার আক্রমণে শুঁটকি উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই মারাত্মক তির সম্মুখীন হন। এসব পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদিত বেশির ভাগ শুটকিতে বিভিন্ন তিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়। 
আজকাল বাজারে এমন শুঁটকি খুব কমই পাওয়া যাবে যেখানে তিকর ওষুধ মেশানো হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে এসব শুঁটকি খেলে মানুষের কিডনি ও লিভার পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে শুঁটকি তৈরির জন্য আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
তাজা মাছ থেকে তৈরি শুঁটকির রঙ হবে চকচকে, দেহ ও পেটের চামড়া হবে উজ্জ্বল বা মসৃণ, সামান্য একটু জিভে ছোঁয়ালে স্বাদহীন বা হালকা লবণাক্ত স্বাদ পাওয়া যাবে। 
শুটকির গন্ধ হবে চমৎকার সুন্দর, আর আকৃতি হবে কুঁচকানো। অর্থাৎ শুকানোর পর কুঁচকে গিয়ে মূল দৈর্ঘ্যরে চেয়ে মাছ ছোট হয়ে যাবে। 
উন্নত মানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য হাতের কাছের জিনিসপত্র দিয়ে স্বল্প ব্যয়বহুল ও সহজে পরিচালনযোগ্য বক্স টানেল তৈরি করে নেয়া যায়। তিন সুতার রড দিয়ে দৈর্ঘ্যে ৪২ ইঞ্চি, প্রস্থে ৩০ ইঞ্চি উচ্চতায় ৩৬ ইঞ্চি আকারের একটি বক্স ফ্রেম তৈরি করতে হবে। শুঁটকি করার জন্য কাঁচা মাছ ঝুলিয়ে দিতে বাক্সটির উপরিতলে ২ সুতার রড লম্বালম্বিভাবে ২ ইঞ্চি পরপর বসিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। ওই মাচার নিচে ১২-১৫ ইঞ্চি পরপর একইভাবে আরো দুই-তিনটি মাচা তৈরি করতে হবে। সবার ওপরের মাচাটি টানেলের উপরিতল থেকে এক ইঞ্চি নিচে বসালে মাছ ও মশারি জালের মধ্যে কিছুটা ফাঁক থাকবে। 
শুঁটকিতে মাছি ও কাইস্সা পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য এমন সব বিধিসম্মত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হয় যাতে পোকারা শুঁটকির সংস্পর্শে আসতে না পারে। 
প্রক্রিয়াজাতকরণকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করলে পোকার আক্রমণ ঘটবে না। 
অত্যন্ত কম খরচে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত বক্স টানেল ব্যবহার করে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি অনুকরণের মাধ্যমে সহজেই বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি করা যায়। ।
লেখক : বাকৃবি সংবাদদাতা
সূত্র: নয়াদিগন্ত

গোবর থেকে সিএনজি

খোকনের বিস্ময়কর বায়োগ্যাস
লেখক: শাহ্ দিদার আলম নবেল (সিলেট)

গবাদি পশুর গোবর ও মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে এতদিন শুধু বায়োগ্যাসই উৎপাদিত হতো। এখন উৎপাদিত হচ্ছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)। আর এটা হয়েছে সিলেট শহরতলির বালুচরে। এ কাজটি করছেন খোকন দাস নামের এক যুবক। স্থানীয় টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মছবি্বরের মালিকানাধীন একটি বায়োগ্যাস প্লান্টকে তিনি সিএনজি পাম্পে পরিণত করেছেন।

খোকন দাসের এই বিরল উদ্ভাবনের কথা লোকমুখে প্রচার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন দেখতে আসছেন প্লান্টটি। অনেকে নিজেদের এলাকায় বায়োগ্যাস থেকে সিএনজি প্লান্ট করতে খোকন দাসের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা চাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হলে দেশের সিএনজি গ্যাসের চাহিদা অনেকটা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন খোকন দাস।

বর্তমানে বালুচরের যে প্লান্টে তিনি কাজ করছেন ওই প্লান্টের মালিক আবদুল মছবি্বরের খামারে ১৩২টি গরু রয়েছে। ওই গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ২৬০০ কেজি গোবর ও মূত্র পাওয়া যায়। এই গোবর ও মূত্র দিয়ে তিনি প্রথমে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে কমপ্রেসারের মাধ্যমে বড় ট্যাংকের মধ্যে রিজার্ভ করেন। পরবর্তীতে রিজার্ভ ট্যাংক হতে কয়েক রকমের ফিল্টার ও কমপ্রেসারের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে বায়োগ্যাসকে সিএনজিতে রূপান্তর করেন।

খোকন দাস জানান, খামারের পাওয়া ওই গোবর ও মূত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩৬ কিউবেক মিটার সিএনজি উৎপাদিত হয়। এ গ্যাস দিয়ে আট ঘণ্টা প্লান্ট চালু রেখে প্রায় ৭০টি সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা যায়। আরও এক হাজার কেজি গোবরের ব্যবস্থা করা গেলে প্লান্টটি ১২ ঘণ্টা চালু রাখার পাশাপাশি ৫০০ কিউবেক মিটার সিএনজি উৎপাদন সম্ভব হতো।

সিএনজি প্লান্টের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মছবি্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্লান্টের প্রযুক্তিগত কিছু কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু ইউসূফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বায়োগ্যাসের মধ্যে ৪০ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ৬০ ভাগ মিথেন থাকে। মিথেনই হচ্ছে সিএনজির মূল উপাদান। হাই কমপ্রেসারের মাধ্যমে বায়োগ্যাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা গেলে সিএনজি উৎপাদন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস থেকে সিএনজি উৎপাদন করা হলে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপর চাপ কমবে। সম্ভাবনাময় এই খাতের বিকাশে সবার আগে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্ভাবনের গোড়ার কথা

খোকন দাসের জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামে। জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম ছেড়ে বান্দরবন চলে যান। সেখানে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিজের তৈরি ডায়াবেটিস রোগের আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করতেন। ওষুধ বিক্রির টাকা দিয়ে দুই বন্ধু মিলে সেখানে প্রথমে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন। তাদের প্লান্টের বিদ্যুতে আলোকিত হয় বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালগ বাজার।

হঠাৎ একদিন খোকনের মাথায় বায়োগ্যাসের বদলে সিএনজি উৎপাদনের চিন্তা আসে। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাহস করে একদিন বায়োগ্যাস থেকে উৎপাদিত সিএনজি একটি অটোরিকশায় ভরান। ওই গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে কিছু সমস্যা হয়। পরে ফিল্টারের পরিমাণ বাড়িয়ে বায়োগ্যাসকে আরও পরিশোধন করে গাড়ির জ্বালানির উপযোগী করে তোলেন।

২০১০ সালের শুরুতে বান্দরবানে তার প্লান্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে সিএনজি বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু কাঁচামাল সংকটসহ নানা জটিলতায় পড়ে এক সময় খোকন দাসকে বন্ধ করে দিতে হয় ওই প্লান্ট। মাস চারেক আগে সিলেটের বালুচরের আবদুল মছবি্বর তার বায়োগ্যাস প্লান্টকে সিএনজিতে রূপান্তরের জন্য বান্দরবান থেকে নিয়ে আসেন খোকন দাসকে। তারপর থেকেই নতুন অধ্যায়ের শুরু।

ঠোঙ্গার কারখানা

ঠোঙ্গা বানানোর পদ্ধতি
ভাঙ্গারির দোকান থেকে কাগজ কিনতে পারেন। পঞ্চাশ কেজি ঠোঙ্গা বানাতে লাগবে তিন কেজি আটার সঙ্গে পানি মিশিয়ে আগুনে তাপ দিয়ে বানানো আঠা। দুই কেজি, দেড় কেজি, আধা কেজি ও পোয়া কেজি এই চার সাইজের ঠোঙ্গা বেশি চলে। তাই কাগজ কিনে যে ঠোঙ্গা বানাবেন তা মাপমতো কেটে নিতে হবে। আকার ঠিক রাখতে প্রয়োজনে বাজার থেকে নির্দিষ্ট মাপের একটা করে ঠোঙ্গা সংগ্রহে রাখতে পারেন। ঠোঙ্গার তলায় দেওয়ার জন্য সাইজমতো চারকোনা কাগজ কেটে নিতে হবে। একপাশে ঠোঙ্গার ও তলার কাগজ অন্যপাশে আঠা নিয়ে বসে যেতে হবে। সাইজ করা কাগজগুলো গোল করে দুই মাথা আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। অনেকটা পাইপের মতো দেখাবে। চাপ দিয়ে ভাঁজ করে ওজনদার কিছু দিয়ে চেপে রাখতে হবে। চেপে রাখা কাগজের ভাঁজ পড়া দুই পাশ আঙুলে চাপ দিয়ে পাইপের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে। এখন আড়াআড়ি দুই পাশ ভেতরের দিকে আর দুই পাশ বাইরের দিকে থাকবে। চারকোনা করে কেটে রাখা একটা কাগজ ভেতরের ভাঁজের ওপরে রেখে বাইরের দিকে থাকা কাগজ দুটি দিয়ে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। হয়ে গেল কাগজের ঠোঙ্গা। এক শ করে ঠোঙ্গা বেঁধে ফেললেই বিক্রি উপযোগী হয়ে যাবে।

প্রয়োজন পুঁজি
প্রথম দিকে শুরু করতে এক হাজার টাকা পুঁজি হলেই চলবে। ৫০ কেজি কাগজ কিনতে লাগবে ১৮ টাকা করে ৯০০ টাকা। আঠা তৈরি করার জন্য তিন কেজি আটা ২৮ টাকা করে ৮৪ টাকা। দরকার পড়বে বানানোর পদ্ধতি শেখা। এ জন্য ঢাকার গোপীবাগ, যাত্রাবাড়ী, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচরের কারখানাগুলোতে
খোঁজ নিতে পারেন।

কাঁচামাল সংগ্রহ ও লাভ
ভাঙ্গারির দোকানে ব্যবহৃত কাগজ ১৮ টাকা কেজি দরে কেনা যাবে। ৫০ কেজি কাগজে চার সাইজের ঠোঙ্গা হবে ১০ হাজারের মতো। আঠা লাগানোর ফলে ৫০ কেজি ওজনের কাগজের ঠোঙ্গার ওজন একটু বেশিই হয়। চাইলে বিদেশি ম্যাগাজিনের ঠোঙ্গাও বানানো যায়। সে ক্ষেত্রে কাগজ কেনার দামও বেশি পড়বে। দিনে ২৫ কেজি কাগজের ঠোঙ্গা বানানো সম্ভব। বাজারে এক কেজি ঠোঙ্গার পাইকারি মূল্য ৪০ টাকা। সেই হিসাবে ৫০ কেজি ঠোঙ্গার পাইকারি বিক্রয় মূল্য দুই হাজার টাকা। দুই দিনে ৫০ কেজি কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়ে এক হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। দোকানে গিয়ে বিক্রি করলে দামটা আরো বেশি পাওয়া যাবে

প্লাস্টিক পণ্যে স্বনির্ভরতায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ



প্লাস্টিক পণ্য বর্তমান সভ্য জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রে অতীব প্রয়োজনীয়। মানুষের হৃৎপিণ্ড থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী অনেক জিনিসই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে এ শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকে। এ শিল্প বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও এ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সভ্যতা ও বিজ্ঞান জগতের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক শিল্পেরও দ্রুত বিকাশ ঘটছে। এই বিকাশ ও গ্রহণযোগ্যতার মূল কারণ হলো বিভিন্ন ধাতব ও উদ্ভিদজাত দ্রব্যের চেয়ে বহুল সাশ্রয়ী, টেকসই ও আকর্ষণীয় দ্রব্য হিসাবে প্লাস্টিকের আবির্ভাব। প্লাস্টিক খাত বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্লাস্টিক দ্রব্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করে প্রতিবছর প্রায় ৮শ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা অর্জন করে রপ্তানি পণ্যে ১২তম স্থানে অবস্থান করছে। দেশী বাজারে প্রতিবছর প্রায় ৯শ কোটি টাকার প্লাস্টিক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। শিল্পায়ন এবং রপ্তানি মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। তবে দক্ষ প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী ও বৈষম্যমূলক নীতির ফলে এই শিল্পের অবস্থান দেশী ও বিদেশী বাজারে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্ব জুড়ে ইস্পাত ও বস্ত্রশিল্পের মতো প্লাস্টিকও একটি উল্লেখযোগ্য শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ উন্নত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু প্লাষ্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ১২০ কেজি। মজবুত, টেকসই, আকর্ষণীয় এবং দামে সাশ্রয়ী প্লাষ্টিক পণ্যের ব্যবহার বেশি হওয়ার কথা সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ খুব কম। মাথাপিছু দেড় থেকে দুই কেজি মাত্র। শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্লাষ্টিকের বার্ষিক উৎপাদন নিম্নরূপ ভিয়েতনাম ৭,৫০,০০০ মেট্রিক টন থাইল্যান্ড ২০,৪০,০০০ মেট্রিক টন মালয়েশিয়া ১০,০৬,০০০ মেট্রিক টন সিঙ্গাপুর ১,১৯,০০০ মেট্রিক টন জাপান ৬০,৪৭,০০০ মেট্রিক টন চীন ১,১৫,০০০ মেট্রিক টন ভারত ৩১,৫৭,০০০ মেট্রিক টন বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের পলি প্রোপাইলিন, পলি ইথাইলিন, এইচএপিএফ, জিপিপিএস ইত্যাদি কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু এসব কাঁচামাল দেশেই উৎপাদন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ প্রযুক্তিবিদ যোগান দিতে পারলে প্লাস্টিকর বিশ্ববাজার দখল আলৌকিক কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশেগুলোই বাংলাদেশে উৎপাদিত প্লাষ্টিক পণ্যের প্রধান ক্রেতা। পলিব্যাগ, হ্যাঙ্গার, ওভেনসেফ ব্যাগ, হাউসহোল্ড আইটেম, ফার্নিচার, বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও শোপিসই হলো ওই সকল দেশে রপ্তানির আইটেম। এ ছাড়া গৃহনির্মাণ সামগ্রী জানালা ও দরজা, চিকিৎসা উপকরণসহ ওষুধকনটেইনার, রক্তের ব্যাগ, ইনজেকশন, স্যালাইন, ব্যাগ, কৃষি খাতের জন্য প্লাস্টিক পাইপ, বড় চৌবাচ্চা, গাড়ি ও সাইকেলের যন্ত্রাংশের মধ্যে বাম্পার, হাতলের কভার, ব্যাকলাইট, স্পোক লাইট, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতের পট, জার, মাছের জাল, বল, মাছ ও ডিম রাখার ঝুড়ি, ভিডিও অডিও ক্যাসেট, কম্পিউটারের উপকরণসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। প্লাস্টিক বার বার ব্যবহার করা যায়। ব্যবহৃত প্লাস্টিক যদি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওয়েস্ট প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্টর মাধ্যমে রিসাইক্লিং করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী কাচাঁমালে পরিণত করা যায়, তাহলে পরিবেশ সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্লাস্টিক কাচাঁমাল আমদানির পরিমাণ শতকর ৫০ ভাগ হ্রাস পাবে। অথচ আমাদের দেশে প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের দেশে আলাদা কোন প্লাষ্টিক শিল্পনগরী নেই। নেই এই শিল্পের প্রশিক্ষিত জনবল। বিদেশী ক্রেতাদের আসার মতো কোন পরিবেশ নেই। তাঁরা এলেও একসঙ্গে প্লাষ্টিক সামগ্রী উৎপাদনকারী কারখানা, যন্ত্রপাতি দেখতে পারছে না। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে যেখানে প্লাষ্টিক শিল্পের জন্য আলাদা নগরী রয়েছে। ক্রেতাগণ সেখানে গেলে একসঙ্গে অনেক ফ্যাক্টারি পরিদর্শন, যন্ত্রাংশ দেখতে পায়। পণ্যের গুণাগুণও খুঁজে বের করতে পারে। দেশের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬৫ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ১০ শতাংশ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো খুলনা, কুমিল্লা, বগুড়া, বরিশাল ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ জড়িত রয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গনাইজেশন (আই.এল.ও)র নির্দেশনামতে প্লাস্টিক একটি শ্রমঘন শিল্প। নিজে বাঁচ অন্যকে বাচঁতে সাহায্য কর (Safety First) নীতি অনুসরণ করে ডিপ্লোমা ইন প্লাস্টিক প্রযুক্তিবিদ নিয়োগে বাধ্যবাদকতা রয়েছে। বাংলাদেশে ৪ হাজার ইন্ডস্ট্রিতে ২০ লক্ষ কর্মকর্তা, কর্মচারিদের কারোর প্লাষ্টিক প্রযুক্তিবিদ্যায় ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণবিহীন জনবলের কারণে প্রতিবছর গড়ে ৬৭১২ টি ছোট, বড়, মাঝারি দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাণ হারায় অনেক শ্রমিক, আহত হয় হাজার হাজার। মালিকদের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয় শতশত কোটি টাকার। শিল্প দুর্ঘটনার হার মাপকাঠিতে বাংলাদেশ বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আমাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ দৈণ্যতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। উদীয়মান এই শিল্পে, ডিপ্লোমা ইন প্লাস্টিক প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ দিলে স্বল্প ব্যয়ে, অল্প সময়ে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন হতো। ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হলে প্লাস্টিকশিল্প গ্রাম-ইউনিয়নে প্রসারিত হতো। উচ্চ বেতনে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির পথ উম্মুক্ত হতো। প্লাষ্টিক পণ্যে বাংলাদেশ হতো স্বনির্ভর। মোঃ আবুল হাসান, সভাপতি খন রঞ্জন রায়, মহা সচিব ডিপ্লোমা প্রযুক্তি শিক্ষা গবেষণা, বাংলাদেশ, ৪৭ মতি টাওয়ার, চকবাজার, চট্টগ্রাম