ছোটখাট জুস বার থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায়
নিজেই দিয়ে দিন আইসক্রীম ফ্যাক্টরী
- হাইড্রোজেনেড কোকোনাট অয়েল /পাম কারনাল অয়েলীন ।
- মিল্ক পাউডার (ফুলক্রীম )
- ইমালসিফায়ার এবং স্ট্যাটাবলাইজার
- ফুড কালারিং
- ফ্লেভারস : ভ্যানিলা , স্ট্রবেরী, অরেঞ্জ, কফি ইত্যাদি।
- গ্লুকোজ
- কুয়ার গাম
- কোকোয়া পাউডার
- আইসক্রিম ক্টিক
- ব্লেনডিং অব দ্যা মিক্স ইনগ্রিডিয়েনডস
- পাস্তুরাইজেশন
- হোমোজেনাইজেশন
- এইজিং দ্যা মিক্স
- এডিং লিকুইড ফ্লেভার , কালার
- ফ্রিজিং
- হার্ডেনিং
- কোয়ালিটি টেস্টটিং
- প্যাকেজিং
হার্ড পেপারে বাক্স তৈরী
কম খরচে শুঁটকি তৈরির বক্স টানেল
শুঁটকি তৈরির প্রচলিত পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য যন্ত্রপাতিনির্ভর ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। মাছের পরিচর্যার উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে, সংক্রমণ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং প্যাকেজিং পদ্ধতির আধুনিকীকরণের মাধ্যমে অতি সহজেই উন্নতমানের বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি এবং দীর্ঘ দিন ধরে সংরণ ও বাজারজাতকরণ করা যায়।
কীটনাশক পরিহার করে অরগানিক শুঁটকি তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম সহজলভ্য ও সস্তা উপাদান ব্যবহার করে ঝুলন্ত বক্স টানেল তৈরি করেছেন, যা মাঠপর্যায়ে উন্নতমানের নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদনে খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
পদ্ধতির উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. নওশাদ বলেন, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রধান সমস্যা হচ্ছে পোকামাকড়ের আক্রমণ। সাধারণত দুই ধরনের পোকা শুঁটকিকে আক্রমণ করেÑ মাছি ও মাছির লার্ভা এবং বিটল বা কাইস্সা পোকা। শুঁটকি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে আর্দ্রমাছের গায়ে মাছিরা ডিম পাড়ে। মাছ তাড়াতাড়ি না শুকালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বা শুককীট জন্ম নেয়। এ ছাড়া ঘরের আনাচে-কানাচে, অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বিস্তর দেখা যায় বিটল পোকা। হাজার প্রজাতির বিটলের মধ্যে শুধু ডারমাসটিস বিটলরাই মাছের শুঁটকিকে আক্রমণ করে।
উভয় ধরনের পোকার আক্রমণে শুঁটকি উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই মারাত্মক তির সম্মুখীন হন। এসব পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদিত বেশির ভাগ শুটকিতে বিভিন্ন তিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
আজকাল বাজারে এমন শুঁটকি খুব কমই পাওয়া যাবে যেখানে তিকর ওষুধ মেশানো হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে এসব শুঁটকি খেলে মানুষের কিডনি ও লিভার পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে শুঁটকি তৈরির জন্য আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
তাজা মাছ থেকে তৈরি শুঁটকির রঙ হবে চকচকে, দেহ ও পেটের চামড়া হবে উজ্জ্বল বা মসৃণ, সামান্য একটু জিভে ছোঁয়ালে স্বাদহীন বা হালকা লবণাক্ত স্বাদ পাওয়া যাবে।
শুটকির গন্ধ হবে চমৎকার সুন্দর, আর আকৃতি হবে কুঁচকানো। অর্থাৎ শুকানোর পর কুঁচকে গিয়ে মূল দৈর্ঘ্যরে চেয়ে মাছ ছোট হয়ে যাবে।
উন্নত মানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য হাতের কাছের জিনিসপত্র দিয়ে স্বল্প ব্যয়বহুল ও সহজে পরিচালনযোগ্য বক্স টানেল তৈরি করে নেয়া যায়। তিন সুতার রড দিয়ে দৈর্ঘ্যে ৪২ ইঞ্চি, প্রস্থে ৩০ ইঞ্চি উচ্চতায় ৩৬ ইঞ্চি আকারের একটি বক্স ফ্রেম তৈরি করতে হবে। শুঁটকি করার জন্য কাঁচা মাছ ঝুলিয়ে দিতে বাক্সটির উপরিতলে ২ সুতার রড লম্বালম্বিভাবে ২ ইঞ্চি পরপর বসিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। ওই মাচার নিচে ১২-১৫ ইঞ্চি পরপর একইভাবে আরো দুই-তিনটি মাচা তৈরি করতে হবে। সবার ওপরের মাচাটি টানেলের উপরিতল থেকে এক ইঞ্চি নিচে বসালে মাছ ও মশারি জালের মধ্যে কিছুটা ফাঁক থাকবে।
শুঁটকিতে মাছি ও কাইস্সা পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য এমন সব বিধিসম্মত ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হয় যাতে পোকারা শুঁটকির সংস্পর্শে আসতে না পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করলে পোকার আক্রমণ ঘটবে না।
অত্যন্ত কম খরচে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত বক্স টানেল ব্যবহার করে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি অনুকরণের মাধ্যমে সহজেই বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি করা যায়। ।
লেখক : বাকৃবি সংবাদদাতা
সূত্র: নয়াদিগন্ত
গোবর থেকে সিএনজি
খোকনের বিস্ময়কর বায়োগ্যাস
লেখক: শাহ্ দিদার আলম নবেল (সিলেট)
গবাদি পশুর গোবর ও মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে এতদিন শুধু বায়োগ্যাসই উৎপাদিত হতো। এখন উৎপাদিত হচ্ছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি)। আর এটা হয়েছে সিলেট শহরতলির বালুচরে। এ কাজটি করছেন খোকন দাস নামের এক যুবক। স্থানীয় টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মছবি্বরের মালিকানাধীন একটি বায়োগ্যাস প্লান্টকে তিনি সিএনজি পাম্পে পরিণত করেছেন।
খোকন দাসের এই বিরল উদ্ভাবনের কথা লোকমুখে প্রচার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন দেখতে আসছেন প্লান্টটি। অনেকে নিজেদের এলাকায় বায়োগ্যাস থেকে সিএনজি প্লান্ট করতে খোকন দাসের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা চাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হলে দেশের সিএনজি গ্যাসের চাহিদা অনেকটা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন খোকন দাস।
বর্তমানে বালুচরের যে প্লান্টে তিনি কাজ করছেন ওই প্লান্টের মালিক আবদুল মছবি্বরের খামারে ১৩২টি গরু রয়েছে। ওই গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ২৬০০ কেজি গোবর ও মূত্র পাওয়া যায়। এই গোবর ও মূত্র দিয়ে তিনি প্রথমে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে কমপ্রেসারের মাধ্যমে বড় ট্যাংকের মধ্যে রিজার্ভ করেন। পরবর্তীতে রিজার্ভ ট্যাংক হতে কয়েক রকমের ফিল্টার ও কমপ্রেসারের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে বায়োগ্যাসকে সিএনজিতে রূপান্তর করেন।
খোকন দাস জানান, খামারের পাওয়া ওই গোবর ও মূত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৩৬ কিউবেক মিটার সিএনজি উৎপাদিত হয়। এ গ্যাস দিয়ে আট ঘণ্টা প্লান্ট চালু রেখে প্রায় ৭০টি সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করা যায়। আরও এক হাজার কেজি গোবরের ব্যবস্থা করা গেলে প্লান্টটি ১২ ঘণ্টা চালু রাখার পাশাপাশি ৫০০ কিউবেক মিটার সিএনজি উৎপাদন সম্ভব হতো।
সিএনজি প্লান্টের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মছবি্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্লান্টের প্রযুক্তিগত কিছু কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে।
এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু ইউসূফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বায়োগ্যাসের মধ্যে ৪০ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ৬০ ভাগ মিথেন থাকে। মিথেনই হচ্ছে সিএনজির মূল উপাদান। হাই কমপ্রেসারের মাধ্যমে বায়োগ্যাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা গেলে সিএনজি উৎপাদন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস থেকে সিএনজি উৎপাদন করা হলে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপর চাপ কমবে। সম্ভাবনাময় এই খাতের বিকাশে সবার আগে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
উদ্ভাবনের গোড়ার কথা
খোকন দাসের জন্ম চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামে। জীবিকার তাগিদে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম ছেড়ে বান্দরবন চলে যান। সেখানে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিজের তৈরি ডায়াবেটিস রোগের আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করতেন। ওষুধ বিক্রির টাকা দিয়ে দুই বন্ধু মিলে সেখানে প্রথমে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন। তাদের প্লান্টের বিদ্যুতে আলোকিত হয় বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালগ বাজার।
হঠাৎ একদিন খোকনের মাথায় বায়োগ্যাসের বদলে সিএনজি উৎপাদনের চিন্তা আসে। যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু করেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সাহস করে একদিন বায়োগ্যাস থেকে উৎপাদিত সিএনজি একটি অটোরিকশায় ভরান। ওই গ্যাস নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে কিছু সমস্যা হয়। পরে ফিল্টারের পরিমাণ বাড়িয়ে বায়োগ্যাসকে আরও পরিশোধন করে গাড়ির জ্বালানির উপযোগী করে তোলেন।
২০১০ সালের শুরুতে বান্দরবানে তার প্লান্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে সিএনজি বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু কাঁচামাল সংকটসহ নানা জটিলতায় পড়ে এক সময় খোকন দাসকে বন্ধ করে দিতে হয় ওই প্লান্ট। মাস চারেক আগে সিলেটের বালুচরের আবদুল মছবি্বর তার বায়োগ্যাস প্লান্টকে সিএনজিতে রূপান্তরের জন্য বান্দরবান থেকে নিয়ে আসেন খোকন দাসকে। তারপর থেকেই নতুন অধ্যায়ের শুরু।













