Showing posts with label মুরগী পালন. Show all posts
Showing posts with label মুরগী পালন. Show all posts

লাভজনক উপায়ে দেশীয় মুরগি পালন কৌশল

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বর্ণনা :-
আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম । কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভ জনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে।

গবেষনায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সংঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শূরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় ।

শুরুতে মুরগি গুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়।

মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে । তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে । খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়।

ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সব চেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে । মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে ।

ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষন :-

আরেকটি প্রয়োজনীয় ̧গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সসংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীত কালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে।

দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহ :-

উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।

*** ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয়
নাই এমন ডিম ̧লো চেনা যাবে এবং বের করে অনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিম ̧লো

সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়।

*** প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাভে তাপ লাগার জন ̈ দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট
পালট করে দিতে হবে।
*** বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে
বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি স্প্রে
করে দিতে হবে।
*** ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা
শুকিয়ে ঝরঝরে হবে।

বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা :-

গরম কালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীত কালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্রুডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চা গুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে।

উপরোক্ত বর্নিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্রুডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে।

মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায় । তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না । আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না ।

প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে। দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় ।

ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে ।

* ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না । ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে । এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায় । এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।


তথ্য ও সূত্র : প্রাণিসম্পদ ম্যানুয়েল

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগি পালনে ফখরুল

অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন করে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া সাতকানিয়ার যুবক ফখরুল এখন স্বপ্ন দেখেন, অচিরেই তার অর্গানিক ডিম ও মুরগি ছড়িয়ে পড়বে দেশের আনাচে-কানাচে, সবার ঘরে ঘরে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ঠাঁই করে নেবে তার স্বপ্ন। আর এটি সফল করতে নিরন্তর পরিশ্রম ও গবেষণা করে যাচ্ছেন এই সফল খামারি।

১১ বছর আগে শুরু করা সাতকানিয়ার মাদার্শা গ্রামে নিজের বাড়িতে ফখরুলের অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন এখন তাকে লাভ দিতে শুরু করেছে। ওই গ্রাম ছাড়িয়ে তাই এটি আলোড়ন তুলেছে চট্টগ্রামের সর্বত্র। তার এ কাজ শুরুর দিনগুলোতে যারা এ নিয়ে সন্দেহ-সংশয় প্রকাশ ও হাসাহাসি করেছিলেন, তারাও এখন ফখরুলের পদ্ধতিতে মুরগি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।


সরেজমিনে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি হ্যাচারি ও পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন ফখরুল ইসলাম সিকদার। মাথায় কি ভুত চাপলো, হঠাৎ একদিন চাকরি ছেড়ে দিয়ে সাতকানিয়ার মাদার্শায় গ্রামে চলে যান ফখরুল। শুরু করেন অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগি পোষা। খাবার দেন হলুদ, আমলকি, ফল-ফলাদি, ঔষধি। নাম দেন, অর্গানিক পদ্ধতিতে মুরগি চাষ।

পাড়ার লোক, দশ গ্রামের মানুষ তার কাণ্ড দেখে হেসেই খুন! কি তাজ্জব! মুরগির খাবার নাকি আমলকি! কিন্তু দমবার পাত্র নন ফখরুল। দীর্ঘ সময়ের নিরন্তর সাধনার পর ২০১১ সালে ফখরুল যখন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার ব্যবসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
এর পরের ইতিহাস শুধুই এগিয়ে যাবার, শুধুই সেই পাগলাটে স্বভাবের ফখরুলের সাফল্যের। তার হলুদ, আমলকি খাওয়া মুরগির অর্গানিক ডিম এখন চট্টগ্রামের খুলশিমার্ট, মীনাবাজার, স্বপ্ন, কেয়ারফোর এবং নাইন-ইলেভেনের মত সুপার স্টোরগুলোতে বিক্রির জন্য রাখা অন্যতম পণ্য।

সাফল্যের পেছনের গল্প জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন ফখরুল। বলেন, ‘‘যে কোনো নতুন কিছু করতে গেলে মানুষ একটু আশ্চর্য্য হবেই। সবাই সহযোগিতার হাত নাও বাড়াতে পারেন। কিন্তু তাতে দমে গেলে চলবে না। লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে পারলে সাফল্য আসবেই।’’

১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন ফখরুল ইসলাম সিকদার। এর অনেক আগেই বাবাকে হারান। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে কখনো জমিতে লাঙল চালাতে হয়েছে, আবার কখনো মাঠে গরু চড়াতে হয়েছে। মুরগি পোষার শখও তখন থেকেই। স্নাতক পড়ার সময়ই নিজের বাড়ির রান্নাঘরে একশ মুরগি নিয়ে ছোট একটি ফার্ম গড়ে তুলেন।

১৯৯৫ সালের দিকে এম এম আগা লিমিটেডে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে চাকরি নিলেন ফখরুল। কিছুদিন পর দেখতে পান, তাদের হ্যাচারিতে গাম্বারো নামে এক ধরনের বিশেষ রোগে শুধু মুরগি মারা যাচ্ছে। মুরগি বাঁচাতে তার মালিক ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে আসেন। দেখতে পান, বিশেষজ্ঞ হলে কি হবে, তারা মুরগিকে দিচ্ছেন হোমিও এবং হারবাল চিকিৎসা।

মাথা ঘুরে যায় ফখরুলের। ইন্টারনেট ঘেঁটে, বইপত্র পড়ে রীতিমত গবেষণা শুরু করে দেন ফখরুল। মাথায় চিন্তা ঘোরে হলুদ, আমলকি আর অসুস্থ মুরগির চিকিৎসা। ভাবতে থাকেন, দেশি মুরগিকে তথাকথিত উন্নতমানের পোল্ট্রি ফিড না দেওয়ার পরও সেগুলো এতো সুস্থ সবল কিভাবে থাকে? ফখরুল পরামর্শ করেন কয়েকজন হোমিও চিকিৎসকের সঙ্গেও।

সবার সঙ্গে কথা বলে একদিন চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গিয়ে মুরগি পোষা শুরু করে দেন। সেই মুরগির খাবারের তালিকায় নেই পোল্ট্রি ফিড, অসুখ হলে চিকিৎসা হার্বাল আর হোমিও পদ্ধতিতে। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে পকেটের অবস্থা খারাপ। সংসার চালাতে আর মুলধন যোগাতে চাকুরি নেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। পাশাপাশি চলতে থাকে ভেষজ পদ্ধতি মেনে মুরগি পোষার সাধনা।

অবশেষে ২০০০ সালে ফখরুলের সাধনা তার স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে। সাতকানিয়ার মাদার্শা গ্রামে শুরু হয় ফখরুলের রহমানিয়া অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যানারে বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপান কার্যক্রম। এরও ১১ বছর পর যাত্রাপথের সব বিপত্তি এড়িয়ে ২০১১ সালের ১১ মার্চ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ফখরুল জানান দেন, তিনি আর পিছিয়ে নেই।

ফখরুল জানান, বর্তমানে মাদার্শায় এক একর জায়গার ওপর ৪টি শেডে তিনি দুহাজার মুরগি পালন করছেন। আরও তিন হাজার মুরগির শেড নির্মাণের কাজ চলছে। এসব মুরগি প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে প্রায় এক হাজার ৪০০টি করে।

তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সপ্তাহে তিনদিন চট্টগ্রাম নগরীতে ডিম সরবরাহ করা হয়। একশ মুরগি নিয়ে পথচলা শুরু করে তার ফার্মের মূলধন এখন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, বর্তমানে বাজারে যেসব ডিম ও মুরগি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি আছে। এসব মুরগি ও ডিমে আছে হরমোন, এন্টিবায়োটিক, টক্সিন ও পেস্টিসাইড। এসব ক্ষতিকর পদার্থ ফুডচেইনে প্রবেশ করে মানবদেহে অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব সহ বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে।

তার দাবি, কৃত্রিম প্রোটিন ছাড়া ফুলফ্যাট সয়ামিলের সঙ্গে হার্বাল পণ্য নাইজেলা, হলুদ ও আমলকি যুক্ত করে তৈরি খাদ্য পরিবেশনের কারণে তার মুরগি এবং ডিমে রোগ-বালাইয়ের কোনো ঝুঁকি নেই। খেতে প্রচলিত ফার্মের মুরগির চেয়েও সুস্বাদু।

ফখরুল প্রতি কেজি অর্গানিক মুরগি বিক্রি করেন দেড়শ টাকায়, ডিমের জোড়া ১৮ টাকা। ফখরুলের অর্গানিক ডিম ও মুরগি চট্টগ্রামের অভিজাত নামী-দামি সুপারস্টোর ছাড়াও এখন শোভা পাচ্ছে দেশের সচেতন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাসার রান্নার তালিকায়ও।

ফখরুল জানান, মুরগি এবং ডিমকে কোলেস্টেরলমুক্ত করার নতুন এক গবেষণা তিনি শুরু করেছেন। অচিরেই এতেও সাফল্য আসবে বলে আশা ফখরুলের।


তার স্বপ্ন, অচিরেই তার অর্গানিক ডিম, মুরগি ছড়িয়ে পড়বে দেশের আনাচে-কানাচে সবার ঘরে ঘরে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ঠাঁই করে নেবে ফখরুলের স্বপ্ন’।

স্বল্প পুঁজিতে গড়ে উঠতে পারে লাভজনক মুরগির খামার

কম সময়, কম পরিশ্রম আর স্বল্প পুঁজিতে মুরগির খামার করা যায়। ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েই শুরু করা যায় এ ব্যবসা। মাত্র দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে উঠে আসে আয়। মুরগির মাংস ও ডিমের পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে বিক্রি করা যায়। আর পরিবারের লোকজনের মাধ্যমেই পরিচালনা করা যায় মুরগির খামার।

নব্য ও সীমিত সাক্ষরদের জন্য জীবিকা দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক শিক্ষা উপকরণ ‘মুরগি পালন’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমনওয়েলথ অব লার্নিংয়ের সহায়তায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ এ শিক্ষা উপকরণ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে এ বুকলেটের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে অ্যানিমেশন ভিডিও। এতে মুরগির খামার তৈরির প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। বুকলেটটি সহজ ভাষায় লেখা। যে কেউ বইটি পড়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন। ‘কাজ করি জীবন গড়ি’ শিরোনামের এ প্রকাশনায় মুরগি খামারের গুরুত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। মুরগির মাংস আমাদের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। মুরগির বিষ্ঠা ও হাঁড়ের গুঁড়া জমিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাখনা দিয়ে ধুলাবালি ঝাড়ার ঝাড়ন তৈরি হয়। মুরগির নাড়িভুঁড়ি মাছের অতি পছন্দনীয় খাবার। লাভজনক বলে এখন গ্রাম ও শহরের অনেকেই মুরগির খামার করছেন। উদ্যোক্তা যে কেউ মুরগির খামারের ব্যবসায় নেমে পড়তে পারেন বলে বুকলেটে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ১০০ থেকে ১৫০টি মুরগি পালনের জন্য বাড়ির আশপাশে মাত্র ২০ ফুট লম্বা এবং ১০ ফুট চওড়া জায়গা হলেই যথেষ্ট। মুরগির খামারের জন্য স্থায়ী উপকরণ হিসেবে ঘর তৈরি, পানির ছোট পাত্র, কোদাল, লোহা বা তারের জাল, পলিথিন ইত্যাদি কিনতে প্রায় ১৮ হাজার টাকার প্রয়োজন। চলতি উপকরণ ঝুড়ি, ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, বৈদ্যুতিক বাল্ব, বৈদ্যুতিক তার, রশি ইত্যাদি কিনতে লাগবে প্রায় ১ হাজার টাকা।

বুকলেটে উল্লেখ রয়েছে- মুরগির খামারের জন্য ২০ ফুট লম্বা, ১০ ফুট চওড়া একটি ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের মেঝে বা পাটাতন মাটি থেকে দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু এবং সমান হতে হবে। বাঁশ, কাঠের তক্তা, মাটি বা ইটের দেয়াল দিয়ে ঘর তৈরি করা যায়। তবে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘর তৈরি করাই ভালো। কারণ এতে কম খরচ হয়। ঘরটি হতে হবে ৭ থেকে ৮ ফুট উঁচু। ঘর তৈরি শেষে দেড় থেকে তিন ফুট উঁচু মোটা তারের নেট দিয়ে ঘরটি ঘিরে দিতে হবে। ২০০ বর্গফুট জায়গায় ১৫০ থেকে ১৭০টি ব্রয়লার এবং ১২০ থেকে ১২৫টি লেয়ার মুরগি পালন করা যায়। বুকলেটে উল্লেখ করা হয়, মুরগির খামারে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি রাখা হয়। মাংসের জন্য ব্রয়লার এবং ডিমের জন্য লেয়ার মুরগি পালন করা হয়। ভালো জাতের মুরগি ছাড়া ব্যবসায় লাভ করা যায় না।

মাংসের জন্য ব্রয়লার মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা কিনতে হবে। ডিমের জন্য লেয়ার মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা কিনতে হবে। ভালো কোম্পানির কাছ থেকে বাচ্চা কিনতে হবে। কেনার আগে জেনে নিতে হবে বাচ্চার টিকা দেয়া আছে কিনা। একটি মুরগি প্রতিদিন গড়ে ১০০ গ্রাম খাবার খায়। খাবারের মধ্যে থাকে গম, ভুট্টা, চালের কনা, চালের কুড়া, গমের ভুসি, তিলের খৈল, শুঁটকি মাছের গুঁড়া, ঝিনুক ও শামুকের গুঁড়া।

মুরগি পালনের ক্ষেত্রে রোগবালাইয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হয়। রানীক্ষেত, বসন্ত, রক্ত আমাশয়, কলেরা, বার্ড-ফ্লু মুরগির প্রধান রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে মুরগি মারা যায়। এজন্য খুব সতর্ক থাকতে হয়। শীতের সময় মুরগি ও বাচ্চাকে ঠা-া থেকে রক্ষা করতে হবে। গরমের সময় মুরগির ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। মুরগিকে পচা ও বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না। পানির পাত্রে সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে। রোগে আক্রান্ত মুরগিকে টিকা দেয়া যাবে না। মুরগি মারা গেলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। মুরগির ঘরে বাইরের জুতা পরে ঢোকা যাবে না।

খামারে মুরগি পালনের পাশাপাশি এগুলো বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা বা উপজেলা শহর, ছোট-বড় বাজার, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় মুরগির প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। এসব স্থানে মুরগি ঝুড়িতে ভরে সরবরাহ করা যায়। ১০০টি ব্রয়লার মুরগি পালন করে দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। পুঁজি লাগবে প্রায় ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে লেয়ার মুরগি ২০ সপ্তাহ বা পাঁচ মাস বয়স থেকে ডিম পাড়া শুরু করে। এ মুরগি টানা এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ডিম দেয়। খরচ বাদে লেয়ার মুরগি পালনে দুই বছরে লাভ প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। শুরু করতে পুঁজি লাগবে ১ লাখ টাকার কিছু বেশি। মুরগি পালন বিষয়ক এ বুকলেটটি সংগ্রহের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা : ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, বাড়ি-১৯, রোড-১২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯। টেলিফোন-৮১১৫৯০৯, ৮১১৯৫২১-২২, ৯১২৩৪০২, ৯১২৩৪২০

দেশি জাতের ব্রয়লার মুরগি উদ্ভাবন

পোলট্রি শিল্পের মুমূর্ষু অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেশে এই প্রথম দেশি আবহাওয়া উপযোগী দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এ জাতটি অতিসত্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে, এতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী। 

পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের দুটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম দেশি মুরগির স্বাদ পাওয়া যাবে ব্রয়লার এই জাতের মুরগিতে।তিনি আরও বলেন, বিদেশি আবহাওয়া উপযোগী ব্রয়লার এ দেশে এনে বাজারজাত করায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। তার গবেষণার ফল পোলট্রি শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যার উত্তরণ সম্ভব। 

অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলী বলেন, বর্তমানে তার গবেষণায় প্রাপ্ত ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ৬ সপ্তাহে ওজন হচ্ছে ১১০০ গ্রাম। বাচ্চার ওজন আরও ২০০ গ্রাম বৃদ্ধি করা গেলেই নতুন জাতটি বাজারজাতের জন্য পাঠানো হবে।গবেষকরা আরও জানান, ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের নিজস্ব কোনো প্যারেন্ট স্টক না থাকায় বাইরের দেশ থেকে প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ৯০ কোটি টাকা। দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত নতুন ব্রয়লার দুটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলে আমদানি খরচ সাশ্রয় হবে।

এছাড়াও নতুন জাতগুলোর রোগবালাই ও মৃত্যুহার কম হওয়ায় দেশীয় লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় কম খরচে বিদেশে সিনথেটিক ব্রয়লারের মতোই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) এসপিজিআর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত ‘দেশে প্রাপ্ত মুরগির জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক উদ্ভাবন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চার বছর গবেষণা শেষে বাউ-ব্রো হোয়াইট ও বাউ-ব্রো কালার নামে ব্রয়লারের জাত দুটি উদ্ভাবনে সফলতা পান গবেষকরা।অপরদিকে মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং লালন-পালন ব্যবস্থাপনা প্রচলিত ব্রয়লারের চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী। ফলে উৎপাদনে লাভজনক।উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হয়। ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মধ্যে বিশেষ লালন-পালন ব্যবস্থাপনায় ওইসব প্যারেন্ট স্টককে লালন-পালন করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চার দাম তুলনামূলক বেশি। 

অপরদিকে ওইসব স্টকের রোগবালাই বেশি এবং বাইরে থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নতুন নতুন রোগের জীবাণু দেশে বহন করে নিয়ে আসে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জ (বার্ড ফ্লু)।অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত ওইসব ব্রয়লারের মাংস অত্যধিক নরম ও দেশীয় মুরগির মতো সুস্বাদু না হওয়ায় অনেকে পছন্দ করেন না। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের নিজস্ব ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চার বছর দেশীয় মুরগির জার্মপ্লাজম ও প্রচলিত উন্নত জাতের সিনথেটিক ব্রয়লারের মোরগ-মুরগি থেকে ক্রমান্বয়ে গুণগত বাছাই ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন দুটি ব্রয়লারের প্যারেন্ট স্টক অর্থাৎ জাত উদ্ভাবনে সফল হয়েছি। যার উৎপাদন ক্ষমতা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য উন্নতমানের ব্রয়লার প্যারেন্টের সমকক্ষ।তিনি আরও বলেন, ‘মজার বিষয় হলো উদ্ভাবিত প্যারেন্ট স্টকগুলো দেশে প্রচলিত মুরগির ঘরেই লালন-পালন করে কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া যাবে। কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ঘরের প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নেই কোনো ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচির। 

অন্যদিকে প্রচলিত ব্রয়লারের মতোই আমাদের উদ্ভাবিত ব্রয়লার ৫ সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে। তবে নতুন ব্রয়লারগুলোর মৃত্যু হার কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ড্রেসিং (জীবন্ত ওজন থেকে মাংসের শতাংশ) শতাংশ বেশি প্রচলিত ব্রয়লার থেকে।’গবেষণার সহযোগী গবেষক ড. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমাদের দেশে অধিকাংশ ভোক্তাই বাজারে গিয়ে রঙিন মুরগি অর্থাৎ দেশি মুরগি খুঁজে থাকেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দুই ধরনের মাংস উৎপাদনকারী (ব্রয়লার) মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছি। 

দেশীয় মুরগি ও বাজারে প্রচলিত উন্নতমানের সিনথেটিক ব্রয়লারের সঙ্গে মিল রেখেই জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বাউ-ব্রো কালার মুরগির মাংস অনেকটা দেশি মুরগির মতো শক্ত প্রকৃতির এবং স্বাদের। অন্যদিকে বাউ-ব্রো হোয়াইটেরও মাংস প্রচলিত ব্রয়লারের মাংস থেকে তুলনামূলক শক্ত এবং সুস্বাদু। তবে নতুন উদ্ভাবিত ব্রয়লার ও প্রচলিত ব্রয়লারের মাংসের পুষ্টিমানের কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে ব্রয়লারের জাত দুটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। বাজারে প্রচলিত ব্রয়লারের বাচ্চার চেয়ে কম দামে উদ্ভাবিত ব্রয়লারের বাচ্চা খামারিদের হাতে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।’ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদে ‘দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লার মুরগির উন্নত জাত উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে ওইসব কথা বলেন পোলট্রি বিশেষজ্ঞরা। 

দেশীয় জাতের ব্রয়লার উদ্ভাবনে এটিই প্রথম গবেষণা বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অর্থায়নে পরিচালিত দেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ব্রয়লারের উন্নত জাত উদ্ভাবন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ আলীর নেতৃত্বে একটি গবেষণা টিম কাজ করছেন। এ টিমে আরও গবেষণা করছেন প্রকল্পের সহযোগী গবেষক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রহমান মোল্লা এবং পিএইচডি ফেলো গোলাম আজম। বর্তমান সময়ে মানুষের আমিষের চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করে আসছে ব্রয়লারের মাংস। সহজলভ্য ও অন্য প্রাণিজ মাংসের তুলনায় দামে সস্তা হওয়ায় সব পেশার মানুষ ব্রয়লারের মাংস খেতে পাচ্ছেন। কিন্তু ব্রয়লার শিল্পে বাচ্চা থেকে শুরু করে খাবার পর্যন্ত, সবই আমদানিনির্ভর হওয়ায় দিন দিন এর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 


অন্যদিকে ওইসব আমদানি করা ব্রয়লারের বাচ্চা দেশের আবহাওয়ার উপযোগী না হওয়ায় মৃত্যুহারও বেশি। এসব দিক বিবেচনা করে আমাদের দেশীয় মাংস উৎপাদনকারী জাতগুলোকে ব্যবহার করে আমাদের আবহাওয়া উপযোগী মাংস উৎপাদনকারী ব্রয়লারের জাত উদ্ভাবন করতে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমদানিতে ব্যয়কৃত বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব। সেইসঙ্গে ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ কমিয়ে স্বল্প মূল্যে বাজারজাতের মাধ্যমে সব শ্রেণীর মানুষর সাধ্যের মধ্যে রেখে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

লেয়ার মুরগীর বিস্তারিত পরিপালন

লেয়ার মুরগি হলো ডিম উৎপাদনের জন্য বিশেষ ধরনের মুরগি যাদেরকে একদিন বয়স থেকে পালন করা হয়, যারা ১৮ থেকে ১৯ সপ্তাহ বয়সে ডিম দিতে শুরু করে এবং উৎপাদনকাল ৭২ থেকে ৭৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত স্হায়ী হয় ডিম উৎপাদনকালীন সময়ে এরা গড়ে প্রায় সোয়া দু'কেজি খাবার খেয়ে এক কেজি ডিম উৎপাদন করে


হাইব্রিড লেয়ার ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কাঙিখত বশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ধরনের মোরগ-মুরগির মিলন ঘটিয়ে ক্রমাগত ছাঁটাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ গবেষণার পর সৃষ্ট অধিক ডিম পাড়া মুরগিকে হাইব্রিড লেয়ার বলে

লেয়ার জাতের নাম

ডিমের প্রকৃতি বা রং অনুসারে লেয়ার মুরগি দুই ধরনের:
(
) সাদা ডিম উৎপাদনকারী:

এরা তুলনামূলক ভাবে আকারে ছোট। তুলনামূলকভাবে কম খাদ্য খায়, ডিমের খোসার রং সাদা। যেমন: ইসা হোয়াইট, লোহম্যান হোয়াইট, নিকচিক, ব্যবকক-বিভি-৩০০, হাবার্ড হোয়াইট, হাই সেক্স হোয়াইট, শেভার হোয়াইট, হাইলাইন হোয়াইট, বোভান্স হোয়াইট।

(
) বাদামী ডিম উৎপাদনকারী:
তুলনামূলকভাবে আকারে বড়, খাদ্য বেশি খায়, ডিমের আকার বড়, ডিমের খোসার রং বাদামী। যেমন: ইসা ব্রাউন, হাই সেক্স ব্রাউন, শেভার ৫৭৯, লোহম্যান ব্রাউন, হাই লাইন ব্রাউন, ব্যবকক-বিভি-৩৮০, গোল্ড লাইন, ব্যবলোনা টেট্রা, ব্যবালোনা হারকো, হাবার্ড ব্রাউন।

লেয়ার মুরগি নির্বাচন
. লেয়ারের জন্য সঠিকভাবে ভাল উৎপাদনশীল স্ট্রেইন নির্বাচন করতে হবে। কারণ সব মুরগি সমান ডিম দেয় না;
. গুণগতমানের লেয়ার বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে;
. কাঙিখত বৈশিষ্ট্যের সুনাম রয়েছে এমন বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে;
. সুনাম রয়েছে এমন হ্যাচারী থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে।

বাচ্চা খামারে আসার পরের কাজ
জন্মের প্রথম সপ্তাহে পরিবহনজনিত কারণে বাচ্চা পানি শূন্যতায় ক্লান্ত হয়। তাই এদের জন্য ব্রুডার ঘরে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্হা করতে হবে এবং দ্রুত পানি পান করা শেখাতে হবে পানির সাথে শতকরা ভাগ হারে গ্লুকোজ মিশিয়ে দিলে সহজে এরা সেখান থেকে শক্তি পেতে পারে। একইসাথে যে কোন উন্নমানের মাল্টিভিটামিন ইলেক্ট্রোলাইট প্রস্তুতকারী কোম্পানীর নির্দেশ মতো পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। দূরের হ্যাচারী বা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বাচ্চা পরিবহন করে খামারে আনলে মাল্টিভিটামিন ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হলে পরিবহনজনিত ক্লান্তি পানি শূণ্যতা দূর করে বাচ্চাকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলে।


টিকা প্রদান তার গুরুত্ব
টিকা প্রদান কর্মসূচি অনুসারে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান করলে
. শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি সৃষ্টি হয় এবং
. সংক্রামক রোগ হতে মুরগিকে রক্ষা করা যায়। টিকাদান ফলপ্রসূ হলে রোগের প্রাদুর্ভাব খুব কম হবে এবং মৃত্যুর হার সহনীয় পর্যায় রাখা যাবে।

লেয়ার মুরগির টিকা
মারেক্স, রাণীক্ষেত, গামবোরো, ব্রংকাইটিস, বসন্ত, সালমোনেলা, করাইজা


ব্রয়লার মুরগির টিকা
মারেক্স, রাণীক্ষেত, গামবোরো


টিকা প্রদানের পূর্বে সতর্কতা 
. মুরগি ধরার সময় যত্ন সহকারে ধরতে হবে;. মুরগির যে কোন ধরনের ধকল মুক্ত অবস্হায় টিকা প্রয়োগ করতে হবে;
. অসুস্হ মুরগিকে টিকা দেয়া যাবে না;
. টিকা প্রদান উপকরণ ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে;
. আবহাওয়া যখন ঠান্ডা সেসময়ে টিকা প্রদান করতে হবে।


টিকা ব্যবহারের সাধারণ নিয়মাবলী 
প্রতিষেধক টিকা সবসময়ই সুস্হ পাখিকে প্রয়োগ করতে হয়:

বাড়ন্ত লেয়ার বাচ্চা পালন পদ্ধতি
থেকে সপ্তাহ বয়স থেকে ডিম পাড়া শুরু করা পূর্ব পর্যন্ত বাড়ন্ত বাচ্চা হিসেবে ব্যবস্হাপনা করতে হয়;
ব্রুডিংয়ের পর খামারে মজুদের জন্য ভাল গুণাগুন সম্পন্ন পুলেট করা হয় যাতে ভবিষ্যতে বেশি ডিম পাওয়া যায়; ভাল ডিম উৎপাদনের জন্য পুলেট পালন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বাণিজ্যিক লেয়ার থেকে ডিম উৎপাদন 
শতকরা ভাগ ডিম: বাণিজ্যিক পুলেট সাধারণত: ২০ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে শতকরা ৫টি ডিম পাড়ে।
শতকরা ১০ ভাগ ডিম: ২১ সপ্তাহ বয়সে শতকরা ১০টি ডিম পাড়ে।


সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিম উৎপাদন: ২৬ সপ্তাহ থেকে ৩০ সপ্তাহের সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিম পাড়ে। অবশ্য বয়সের বিষয়টি ষ্ট্রেইন ভেদে তারতম্য হতে পারে। সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিম পাড়তে শুরু করার পর কিছুদিন স্হিতিশীল থাকে এবং পরবর্তী সময়ে ডিম উৎপাদনের হার খুবই আস্তে আস্তে কমতে থাকে।

ডিমের স্হিতিশীল পর্যায়: ডিম উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে ডিমের আকার বড় হতে থাকে এবং ৪০ সপ্তাহ বয়সের পর মুরগির ওজন বৃদ্ধি স্হিতিশীল হয় এবং ৫০ সপ্তাহ বয়সের পর ডিমের ওজন স্হিতিশীল পর্যায়ে আসে।

বাড়ন্ত মুরগি পালন পদ্ধতি এগুলোর সুবিধা-অসুবিধা


অল-ইন অল-আউট পদ্ধতি:

খামারে এক ব্যাচ বাচ্চা পালন করে ডিম উৎপাদন শুরু পর্যন্ত আর কোন বয়সের বাচ্চা পালন করা হয় না। প্রতি ব্যাচ বাচ্চা পালনের পর পরবর্তী ব্যাচ বাচ্চা পালনের পূর্বে হাতে অনেক সময় থাকে।

সুবিধা 
1.
ঘর পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত সংস্কার করা যায়
2.
খামারে একই সাথে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা না থাকায় পরষ্পরের মধ্যে রোগ বিস্তারের সম্ভাবনা থাকে না।

অসুবিধা
1.
ডিম উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায় না;
2.
স্হানের অপচয় হয়।

মালটিপল রিয়ারিং পদ্ধতি
খামারে একই সাথে বিভিন্ন শেডে বিভিন্ন বয়সের মুরগি পালন করা হয়। যেমন-
১) ব্রুডার শেডে বাচ্চা
২) গ্রোয়ার শেডে বাড়ন্ত বাচ্চা পুলেট
৩) লেয়ার শেডে ডিম পাড়া মুরগি

সুবিধা
1.
খামার সম্প্রসারণ ডিম উৎপাদনের ধারাবহিকতা বজায় থাকে:
2.
বিভিন্ন বয়সের মুরগি পালন করা যায়।


অসুবিধা
1.
বিভিন্ন বয়সের মুরগি থাকায় রোগ বিস্তারের সম্ভাবনা বেশি থাকে;
2.
প্রতি ব্যাচ মুরগি পালন শেষে শেড সম্পূর্ণরুপে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব হয় না।


আইসোলেশন রিয়ারিং পদ্ধতি
ব্রুডারে বাচ্চা প্রতিপালনের পর স্বতন্ত্র গ্রোয়ার শেডে স্হানান্তর করা হয়। 


সুবিধা
1.
রোগ-জীবাণুর বিস্তার কম হয়;
2.
স্বতন্ত্র ব্রুডার ঘর ব্যবহারের ফলে কম খরচে বাচ্চা ব্রুডিং করা যায়।

অসুবিধা
রোগ বিস্তারের সম্ভাবনা কম থাকলেও বাচ্চা স্হানান্তরের সময় কিছুটা ধকল সৃষ্টি হয়।


সিজনাল রিয়ারিং পদ্ধতি
সিজন বা মৌসুমের উপর নির্ভর করে বাচ্চা পালন করা হয়। সিজনাল বাচ্চা এমন সময় উৎপাদন করা হয় যেন বাড়ন্ত পুলেট পর্যাপ্ত আলো পেয়ে থাকে। সাধারণত: সপ্তাহ বয়স থেকে ১৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত পুলেটের ঘরে ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা আলো প্রয়োজন। সিজনাল রিয়ারিং এমন সময় করা হয় যেন বাচ্চার বাড়ন্ত বয়স ডিসেম্বর মাস হয়।ড়

সুবিধা
1.
সিজনাল বা মৌসুমী বাচ্চা অনেক বেশী উৎপাদনশীল থাকে;
2.
প্রাকৃতিক আলোর সাহায্যে বাচ্চা উৎপাদন করা হয় বলে উৎপাদন খরচ কম হয়।


অসুবিধা 
1.
বছরে পুলেট উৎপাদন মাত্র একবার করা যায়।


ঠোঁট কর্তনের গুরুত্ব পদ্ধতি

  • মুরগির ঠুকরা-ঠুকরি বন্ধ করা;
  • খাদ্য অপচয় রোধ করা;
  • বাচ্চা মুরগির থেকে ১০ দিন বয়সে ঠোঁট কর্তন করা;
  • বাড়ন্ত বাচ্চার থেকে ১২ সপ্তাহ বয়সে ঠোঁট কর্তন করা;
  • বাচ্চার নাকের . সেমি এবং বাড়ন্ত মুরগির .৪৫ সেমি সম্মুখে উপরে ঠোঁট কাটা;
  • উভয় ঠোঁট আলাদা কাটতে হয়;
  • ঠোঁট কাটার জন্য - ) ব্লক চিক ট্রিমিং মেশিন, ) হাই স্পিড ট্রিমিং মেশিন () ডিবিকার ব্যবহার করা হয়। 


কখন ঠোঁট কাটা উচিত নয়


  • ভ্যাকসিন প্রদানের দুই দিন আগে বা পরে বা ভ্যাকসিন প্রদানের দিন বা দিন
  • সালফার জাতীয় ঔষধ সেবনের দুই দিন আগে বা পরে;
  • মুরগির ধকল সৃষ্টি হলে;
  • আবহাওয়ার পরিবর্তন বেশি হলে;
  • মুরগি ডিম পাড়তে শুরু করলে।
  • ঠোঁট কাটার সময় সতর্কতা
  • ঠোঁট কাটার দুই থেকে তিন দিন পূর্ব থেকে পানিতে মিশিয়ে ভিটামিন 'কে' খাওয়ানো এবং কাটার পর অন্তত এক থেকে দুই দিন তা তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা
  • ঠোঁট কাটার যন্ত্র ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করা;
  • ব্লেডের ধার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা;
  • মুরগির চোখের এবং জিহ্বার যেন কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা;
  • দিনের মধ্যে ঠান্ডা সময়ে ঠোঁট কাটা;
  • অভিজ্ঞ টেশনিশিয়ান দিয়ে ঠোঁট কাটা। 

ঠোঁট কাটার পরবর্তী পরিচর্যা
  • গভীর পাত্রে পানি সরবরাহ করা;
  • খাদ্যের সাথে সামান্য অতিরিক্ত আমিষ ব্যবহার করা।

বাড়ন্ত মুরগির খাদ্য ব্যবস্হাপনা
  • ডিম উৎপাদন শুরু হওয়ার সপ্তাহ আগে থেকে খাদ্যের শতকরা ভাগ ক্যালশিয়াম ব্যবহার করা উচিত;
  • ওজন কাঙিখত না হলে সর্বাধিক সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত স্টার্টার রেশন প্রদান করা যায়;
  • পরবর্তীতে ১৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ধাপ বা ধাপে খাদ্য প্রদান;
  • ডিম উৎপাদন শুরুর পর থেকে দিন পর্যন্ত দ্রুত খাওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে
  • বয়সের পরিবর্তে ওজন অনুসারে খাদ্য প্রদান;
  • ডিম পাড়ার সময় ওজন বেশি হলেও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।


পানি ব্যবস্হাপনা
  • পানি খাওয়ার পরিমানের উপর মুরগির স্বাস্হ্য নির্ভর করে;
  • পানি বিশুদ্ধ করার জন্য প্রতি লিটার পানিতে . গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশাতে হয়;
  • পানির পাত্রের জন্য নির্ধারিত স্হান নির্বাচন করতে হয়;
  • গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমের সময় ঘন ঘন ঠান্ডা পানি সরবরাহ করতে হয়।

পুলেটের ওজন বৃদ্ধির কুফল
  • বাণিজ্যিক ভাল ব্যবস্হাপনায় মুরগি ১৮ থেকে ১৯ সপ্তাহ বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে;
  • ওজন বেশি হলে চর্বি জমে ডিম পাড়া কমে যেতে পারে;
  • ডিমের আকার ছোট হয়;
  • ফ্লকের মধ্যে সমতার অভাব হয়।

পুলেটের ওজন কমার কুফল 
  • নিদ্ধারিত সময়ের পরে ডিম পাড়ে;
  • মুরগি দূর্বল হয় মৃত্যুহার বেশি হয়;
  • ডিম উৎপাদন হার কম হয়;
  • বয়স অনুসারে ফ্লকের সমতা থাকে না। 


পুলেটের ওজন নিয়ন্ত্রণ
পুলেটের ওজন কম-বেশি হলে খাদ্যের পরিমাণ, খাদ্যে আমিষের হার কম-বেশি করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
  • পুলেটের আলোক ব্যবস্হাআলোর কাল তীব্রতা বেশি হলে
  • মুরগি কম বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে;
  • ডিম পাড়ার সময় বেশি হয় না;
  • ডিমের আকার ছোট হয়;
  • খোলা ঘরে বাড়ন্ত মুরগির ঘরে রাত্রিকালীন আলো প্রদান ক্ষতিকর এবং দিনের প্রাকৃতিক আলোই যথেষ্ট।


গুণগত মান সম্পন্ন পুলেটের বৈশিষ্ট্য
1. দেহ সুগঠিত
2.
পালকে পরিপূর্ণ
3.
সঠিক ওজন
4.
পারষ্পারিক দৈহিক সমতা বিশিষ্ট
5.
উজ্জ্বল ঝুটি
6.
উজ্জ্বল চক্ষু
7.
সাদা চঞ্চল


সঠিক ওজন বৃদ্ধি ব্যবস্হাপনা
১) বয়স জাত অনুসারে খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে সঠিক ওজন বৃদ্ধি করা যায়
২) খাদ্যে প্রয়োজনমতো ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন, এ্যামাইনো এসিড অন্যান্য খনিজ পদার্থ ব্যবহার করতে হবে;
. পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন ব্যবহার করতে হবে