Showing posts with label কবুতর পালন. Show all posts
Showing posts with label কবুতর পালন. Show all posts

গরুর চেয়ে কবুতর পালন লাভজনক

কবুতর খামার: স্বল্প পুঁজি, বড় সম্ভাবনা

শুরু

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার কবুতরের খামারি ডা. মাহবুব বলেন, “গরু পালনের চেয়ে কবুতর পালন অধিক লাভজনক।” শখের কবুতর পালন থেকে তিনি এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। তাকে দেখে উৎসাহ পেয়ে এলাকায় ছোট-বড় খামার বাড়ছে। স্বল্প পুঁজিতে প্রায় অর্ধশত যুবক কবুতর পালন করে মাসে ২০–৫০ হাজার টাকা আয় করছে।

প্রজাতি

এ সব খামারে দেশি-বিদেশি দুই শতাধিক প্রজাতির কবুতর রয়েছে।

দাম

জাতভেদে প্রতি জোড়া কবুতরের দাম ৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যেমন—

  • লাহর সিরাজী (রূপালী/লাল/কালো/হলুদ/চকলেট): ৫–৪০ হাজার

  • মৌক্ষি (বিভিন্ন রঙ): ৮–৮০ হাজার

  • আফ্রিকান কৌটারবল: ৫–১৫ হাজার

  • নান: ৬–১২ হাজার

  • কিং মার্কিন: ৮–৪০ হাজার

  • হাউস প্রিজন: ৪০–৮০ হাজার

  • রেন্ট: ৮–২০ হাজার

  • স্ট্রেচার: ১০–৩০ হাজার

  • ভুটান: ৬–১০ হাজার

  • হুমার: ৩–৬০ হাজার

  • দেশি গিরিবাজ/গিয়াচুল্লী/ছিলা জিরা গলা/সবুজ গলা/লাল: ৬০০–১২০০ টাকা

খাবার

খামারিরা সাধারণত ভুট্টা ভাঙা, খেসারি, গম, ছোলা, সরিষা মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ বার খাওয়ান।

বাজার

খামার বাড়ায় হাজীগঞ্জ বাজারে কবুতর পালনের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম নিয়ে ৩টি দোকান চালু হয়েছে।

সহায়তা

খামারিরা বলেন, রোগ-বালাই মোকাবিলায় সরকারি পরামর্শ ও সাহায্য আরও দরকার

খামারি

এ খামারিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
হাজী মো. হারুনুর রশিদ, ডা. মাহবুব, ডা. ওয়াসিক ফয়সাল, এমরান হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান সুজন, হেদায়েত উল্লাহ, পৌর এলাকার খোকন, শাহআলম মাস্টার, মাহবুবুর রহমান মিলন প্রমুখ।

আয়-ব্যয় (১)

হাজী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, শুরুতে শখের বশে পালন করলেও এখন ব্যবসায়িকভাবে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে ২৫–৩০ হাজার টাকা আয় করেন। সমস্যা—রোগে সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় না

রোগ

মোস্তাফিজুর রহমান সুজন বলেন, কবুতরের সবচেয়ে বড় রোগ রাণীক্ষেত। তিনি ২ মাস পরপর ভ্যাকসিন দেন এবং হোমিও পদ্ধতিতেও চিকিৎসা করেন।

আয়-ব্যয় (২)

সুজন জানান, তিনি মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন।

সরঞ্জাম

এনিমেল এগ্রোর মালিক একে আজাদ বলেন, খাঁচা, খাবার, ভ্যাকসিনসহ সরঞ্জাম বিক্রি করে তারাও লাভবান হচ্ছেন, কারণ খামারি বাড়ছে।

পুষ্টি

শাহ মিরান হাসপাতালের ডা. সুমন বলেন, কবুতরের মাংসও অন্যান্য মাংসের মতোই শরীরে প্রোটিন জোগায়।

সরকারি কথা

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুকবুল আহম্মদ বলেন, খামারিরা পরামর্শ নেন, তবে বিশেষ চিকিৎসা সেবার সরকারি ব্যবস্থা নেই। রাণীক্ষেতের ভ্যাকসিন হিসেবে হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনই কবুতরে দেওয়া হয়; ভ্যাকসিন সংকট নেই বলেও তিনি জানান।

কবুতরের কতিপয় রোগ ও এর প্রতিকার।

আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশের মানুষ গ্রামীণ পরিবেশে দু’চারটা করে দেশী কবুতর পালন করত। বিদেশী দামী কবুতরও গ্রামে ও শহরে দু’জায়গাতেই পালন করছে। শহরে শখের বশে দু’চারটা করে বিদেশী বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন করলেও আজকাল অর্থনৈতিক লাভের আশায় অনেকেই বেশ বড় করে কবুতরের খামার করে আসছে।
কবুতর একটি অতি সংবেদনশীল পাখি যা সহজেই বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। অতি সতর্কতার সাথে সঠিকভাবে যত্ন না করলে সাধারনতঃ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কবুতরের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সাধারনতঃ নিম্নলিখিত কারণে হয়ে থাকে-


ক) খাদ্যদূষণ জনিত কারণে
খ) পানিদূষণ জনিত কারণে
গ) বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে
ঘ) কোন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হলে
ঙ) শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বা নিঃসৃত পদার্থের কারণে ইত্যাদি। কবুতরের ভাইরাসজনিত রোগ নিম্নলিখিত  কারণে হয়ে থাকে-
ক) দুষিত পানি পান করলে 
খ) অসুস্থপাখির নাকের শ্লেষ্মা বা অন্যান্য বায়ুঘটিত (Airborne) জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে ইত্যাদি।
কবুতরের ফাংগাসজনিত (Fungus) রোগসমূহ নিম্নলিখিত  কারণে হয়ে থাকে।
ক) ভেঁজা, স্যাতস্যাতে জায়গায় বসবাস করলে
খ) দূষিত বায়ুপ্রবাহের কারণে
গ) দূষিত পানির মাধ্যমে

কবুতরের প্রোটোজোয়া (Protozoan) জনিত রোগ সাধারনতঃ কবুতরের মা-বাবা (Parent birds) হতে আসে। তাছাড়া মা কবুতর যখন মুখের মাধ্যমে সন্তানকে খাদ্য খাওয়ায় তখন প্রোটোজোয়াজনিত রোগ মা হতে সন্তানে চলে আসে।
কবুতরের পরজীবীজনিত (Parasitic) রোগ সমূহ সাধারনতঃ কৃমির ডিম বা লার্ভা বা পরজীবীর জীবনচক্রের কোন ধাপ (Stage) যদি কবুতর খেয়ে ফেলে তাহলে পরজীবীজনিত রোগ সমূহ হয়ে থাকে।
তাছাড়া কবুতরের কোন কোন সময় বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাবজনিত রোগ হতে পারে। যেমন: Plethora নামক রোগ কবুতরের হয়ে থাকে। কবুতরের রোগসমূহ ও এর প্রতিকার এবং চিকিৎসাঃ

১. ঠান্ডাজনিত রোগ (Colds)ঃ কবুতরের মানুষের মত ঠান্ডাজনিত রোগ হয়ে থাকে। সাধারনতঃ ভেজা বাসস্থান বা ভেজা আবহাওয়াজনিত কারণে (অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম) ঠান্ডাজনিত রোগ হয়ে থাকে। এসময় কবুতরের নাক দিয়ে তরল পদার্থ নিঃসৃত হয়। এ সময় এক্সপেকটোরেন্ট (Expectorant) জাতীয় সিরাপ খাওয়ালে সহজেই ঠান্ডাজনিত রোগ ভাল হয়ে যায়।
 
২. ডাইরিয়া (Diarrhoea)ঃ কবুতরের ডাইরিয়াজনিত রোগ সাধারনতঃ অম্লদূর্গন্ধযুক্ত, মল্ডি (Moldy) এবং অপরিনিত শস্য-দানা খেয়ে ডাইরিয়া দেখা দেয়। ডাইরিয়া হলে ওরস্যালাইন-এন জাতীয় খাবার স্যালাইন খেতে দিতে হবে। তবে সবধরনের শস্য দানা খাওয়া প্রতিদিনের খাদ্যে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। খাদ্যের শস্যদানা এবং ধান, গম প্রভৃতি শস্যদানা কবুতরের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল।

৩. গোয়িং লাইট (Going light)ঃ এই রোগে কবুতরের চামড়ার রং কাল হয়ে যায় যা দেখতে গরুর মাংসের মত। এ সময় কবুতর খুব অসুস্থ দেখতে লাগে এবং প্রায়শই ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়। যেহেতু এ সময় ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয় তাই অন্যান্য রোগ এ সময় কবুতরকে আক্রান্ত করতে পারে। তাই খাদ্যে ওরস্যালাইন এবং কুসুম কুসুম গরম দুধ ও রুটি কিছুক্ষণ পরপর দেওয়া যেতে পারে।
৪. ক্যাংকার (Canker)ঃ এটি একটি প্রোটোজোয়াজনিত রোগ যা সাধারনতঃ বয়স্ক কবুতরের দেখা যায়। মুখে বা গলায় (Throat) যদি হলুদাভ সাদা বস্তু (Substance) দেখা যায় তবে সহজেই এই রোগের সনাক্ত করা যায়। প্রোটোজোয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে এমন এন্টিপ্রোটোজোয়াল (Antiprotozoal) ঔষধ ক্যাংকার এ সেবন করা যেতে পারে।

৫. রোপ (Roup)ঃ শীতকালে যদি বিছানা ভেজা থাকে তবে প্রায়শঃই রোপ(Roup) নামের রোগটি কবুতরে দেখা যায়। এ রোগের লক্ষণ নিউমোনিয়া বা ঠান্ডাজনিত রোগের লক্ষণের মত। নাক দিয়ে শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থ বের হয়। এই সময় অসুস্থ কবুতরকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে বাসস্থান, খাবার পাত্র পানির পাত্র সহ সব যন্ত্রপাতি জীবাণূনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা উচিত।

৬. নিউমোনিয়াঃ যদি গলার মধ্যে বিশেষ করে থ্রট (Throat) এ কোন ধরনের গুটি দেখা যায় বা কফ জাতীয় কোন পদার্থ দেখা যায় এবং নাকের ছিদ্রে শ্লেষ্মাজাতীয় কোন পদার্থ দেখা যায় এবং যদি কবুতর এর শ্বাসকষ্ট দেখা যায় তবে বুঝতে হবে যে কবুতরটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এ সময় গা অনেক গরম হয় এবং কবুতরটি খুবই অসুস্থ দেখা যায়। তাই এ সময় তাকে শুষ্ক বিছানাসহ গরম খাবার প্রদান করা উচিত।

৭. এগ বাইন্ডিং (Egg binding)ঃ কোন কোন সময় কবুতর এর ডিম পারতে কষ্ট হয়। সাধারনতঃ কোন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত রোগ হলে বা খাদ্যে সুষম পুষ্টি সঠিকভাবে না পেলে এগ্ বাইন্ডিং রোগে আত্রান্ত হয়। এ সময় পায়ুপথ গরম পানি দিয়ে ধৌত করে বা পায়ুপথে অলিভ ওয়েল লাগায়ে সহজেই ডিম বের করে আনা যেতে পারে।

৮. ম্যালেরিয়াঃ ম্যালেরিয়া সাধারনতঃ এক ধরনের প্রোটোজোয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই জীবানু রক্তের লোহিত কনিকাকে ধ্বংস করে। ফলে কবুতরটি আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। হাটতে পারে না এমনকি দৃষ্টির অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যায়। ঘাড় বাঁকিয়ে চলাফেরা করে। এটিকে সহজেই এন্টি ম্যালেরিয়া জাতীয় ঔষধ যেমন- মেলানোসাইড দ্বারা সহজেই চিকিৎসা করা যেতে পারে। তাছাড়া এই রোগ থেকে মুক্ত রাখতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতে হবে। যে খাঁচায় পাখিকে রাখা হয় সে সব খাচা নিয়মিত জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৯. কক্সিডিওসিস (Coccidiosis)ঃ কক্সিডিওসিস রোগটি প্রায় সব সময় কবুতরে দেখা যায়। এটি একটি প্রোটোজোয়াজনিত রোগ। কম বয়সী কবুতর এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগটি হলে পায়খানার সাথে রক্ত বা সাদাচুনা দেখা দেয়। এ রোগে কবুতর ঠিকমত দাড়িয়ে থাকতে পারে না, ওজন হ্রাস পায় এবং কম খাদ্য খায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে কবুতর তাড়াতাড়ি মারা যায়। তাই আগে থেকেই প্রিভেনটিভ ডোজে কক্সিডিওসিস এর ঔষধ থাওয়ানো উচিত।

১০. পিজিয়ন পক্স (Pigeon Pox)ঃ এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা চামড়া ও মিউকাস মেমব্রেনকে আক্রান্ত করে। পিজিয়ন পক্স আক্রান্ত থেকে মুক্ত থাকতে হলে পিজিয়ন পক্স ভ্যাক্সিন দিতে হবে। যা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।

চিকিৎসাঃ
১. কবুতরকে সব সময় শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে এবং Cod Liver Oil খেতে দিতে হবে নিয়মিত
২. খাদ্য শুষ্ক হতে হবে এবং যাতে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা না হয় সে রকম খাবার দিতে হবে
৩. নিউমোনিয়া হলে এন্টিবায়োটিক দ্বারা (যেমন- এনরোফ্লক্সাসিন) চিকিৎসা করা যেতে পারে
৪. ডাইরিয়ার ক্ষেত্রে একটি dose Castor oil Salts বা Epsom খাওয়ানো যেতে পারে যাতে সহজেই পাখির Alimentary Tracty System পরিষ্কার হয়ে যায়।
৫. সব সময় একজন ভেটেরিনারিয়ান-এর সাথে পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে না বুঝে চিকিৎসা করা উচিত নয়।
প্রতিরোধ বা প্রতিকারঃ
১. কবুতর এর বিছানাপত্র পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকতে হবে
২. পরিষ্কার ও ফ্রেশ জীবাণুমুক্ত পানি ও খাদ্য সরবরাহ করতে হবে
৩. পিজিয়ন পক্স এর টিকা দিতে হবে
৪. কোথাও কেটে গেলে বা থেতলে গেলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করতে হবে
কিছু কিছু রোগ হতে মুক্ত থাকতে হলে প্রতিদিন কবুতরের কার্যাবলী দেখাশোনা করা উচিত। প্রতিদিন কবুতরের খাদ্য, পানি, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য দেখা উচিত। সঠিকভাবে যতœ নেওয়া এবং ভেটেরিনারিয়ান এর সাথে প্রতি তিন মাস পরপর পরামর্শ করা উচিত। তাহলে সহজেই কবুতর রোগমুক্ত ও কঠিনতম অধ্যায় (Troublesome experience) হতে মুক্ত থাকতে পারবেন।

কবুতর পালন করে কোটিপতি

আরিফুল আবেদীন টিটো
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের বেকার যুবক বাদশা আহমেদ ওরফে দুদু মিয়া (৩৫) বিদেশী জাতের কবুতর পালন করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। 

নানা রকম চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা বেকার দুদু মিয়া এলাকার অন্য বেকার যুবকদের কাছে আজ একজন আদর্শ কবুতর খামারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। 

প্রতিদিনই দেশের দুর দুরান্ত থেকে মানুষ আসছেন পারমথুরাপুর গ্রামে দুধু মিয়ার বিদেশী জাতের কবুতরের খামার দেখতে।

তবে এই খ্যাতি আর বিড়ম্বনা নিয়ে দুদুু মিয়ার মধ্যে কোন ক্ষোভ নেই। হাসিমুখে সবাইকে স্বাগত জানান তিনি।

দুদু মিয়া এলাকার অনেক বেকার যুবককে নিজে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করছেন কবুতর পালনে এগিয়ে আসার জন্য।

শুরুর দিকের কথা
হরিণাকুন্ডু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের এলাম মন্ডলের পুত্র দুদু মিয়া পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেণী পাশ করে পিতার আর্থিক দৈনদশার কারণে নবম শ্রেণীতে আর ভর্তি হতে পারেননি। সেটা ২১ বছর আগের কথা। তারপর তিনি পরিবারের আর্থিক দৈনদশা কাটাতে কাঁধে তুলে নেন নাঙ্গল আর জোয়াল। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তিনি শুরু করেন কৃষিকাজ।

কিন্ত সেময় চাষাবাদে ঠিকমত আর্থিক উন্নতি না ঘটায় শুরু করের মুরগীর ব্যবসা। নিজ গ্রামের বিভিন্ন বাড়ী থেকে মুরগী কিনে এনে তিনি ঝিনাইদহ শহরে মুরগী বিক্রি শুরু করেন। এই ব্যবসায় কিছুটা সফলতা আসায় তিনি ঝিনাইদহসহ অত্র এলাকার বিভিন্ন জেলার থেকে মুরগী কিনে এনে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় মুরগী সরবরাহ দিতে শুরু করেন।

একবার কুষ্টিয়ায় মুরগী কিনতে গিয়ে তিনি কুষ্টিয়া জেলখানা রোডের নাজমুল হোসেনের কাছে কিছু বিদেশী প্রজাতির কবুতর দেখতে পান। নাজমুল হোসেন সৌখিনতার কারণে বিদেশী কবুতর পুষতেন। সেই থেকে দুধু মিয়ার কবুতর চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মে।

বিগত ২০০৭ সালে তিনি বানিজ্যিকভাবে বিদেশী ময়ূরী ও সিরাজী জাতের তিন জোড়া কবুতর দিয়ে বানিজ্যিক চাষ শুরু করেন।

বর্তমান কথা
সরেজমিনে দুদু মিয়ার কবুতর খামার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ প্রজাতির বিদেশী কবুতর রয়েছে তার খামারে। আশ্বর্যজনক হলেও সত্যি এর মধ্যে আফ্রিকার ৪০ হাজার টাকা জোড়া মূল্যের কেরিয়ার হুমার, হল্যাল্ডের ৩০ হাজার টাকা মূল্যের লাল, কালো ও হলুদ কোটারবল, ১০ হাজার টাকা মূল্যের আফ্রিকার মডেনা, অষ্ট্রেলিয়ার কিং, ৫ হাজার টাকা মূল্যের পাকিস্তানী সিরাজী, পারভিন ও সিংহ, ৬ হাজার টাকা মূল্যের হল্যান্ডের বিউটি হুমার, ৮ হাজার টাকা মূল্যের পাকিস্তানী শ্যালো ও নান, ২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় বোম্বাই ও লোটন, ১০ হাজার টাকা মূল্যের হল্যান্ডের ব্লু কিং, ম্যাগপাই ও আওল, ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের পাকিস্তানী ব্লু সিরাজী, কালো কিং , লাল কিং, হলুদ কিং, হোয়াইট কিং, সাটিং ও হাইপিলার, ১ হাজার টাকা মূল্যের অষ্ট্রেলিয়ান সাদা ঘুঘু, ঘিয়ে ঘুঘু এবং দেশী সোয়াচন্দন প্রজাতির নামী দামী বিলুপ্ত প্রজাতির প্রায় ৫ শতাধিক বিদেশী কবুতর রয়েছে।

এছাড়া আমাদের দেশীয় নানা প্রজাতির প্রায় ৭ শতাধিক কবুতরের খামার গড়ে তুলেছেন দুদু মিয়া। তিনি জানালেন, তার সংগ্রহে থাকা বিদেশী কবুতর গুলোর বর্তমান বাজার মূল্যে ২০ লক্ষ টাকার উপরে। দুদু মিয়া কবুতরের ব্যবসা করে ইতিমধ্যে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। পারমথুরাপুর গ্রামে গ্রামে তৈরি করেছেন একতলা পাঁকা বাড়ি, মাঠে ৩ বিঘা জমি, ৪০টি ছাগল, ২ টি গরু, বাড়িতে পোষা শতাধিক মুরগী, নিজের মুরগী সরবরাহের ব্যবসা ও ব্যাকের কাছে গচ্ছিত টাকা সব মিলিয়ে তিনি বর্তমানে প্রায় কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

তার কাছ থেকে জানা গেল, তিনি এসব বিদেশী জাতের কবুতর নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, খুলনা, মেহেরপুর ও ঢাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন।

আর এসব বিদেশী কবুতর বাচ্চা দিলে তিনি জেলার বাইরের পাইকারদের কাছে এক হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা জোড়ায় এগুলো বিক্রি করে দেন।

পদক প্রাপ্তি
সফল কবুতর চাষী হিসেবে বাদশা আহমেদ ওরফে দুদু মিয়া গত ২০০৮ সালে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আবু সাইদ ফকির ও বর্তমান জেলা প্রশাসক রমারানী রায়’র নিকট থেকে চলতি বছর মোট দুই বার জেলার শ্রেষ্ট কবুতর চাষী হিসেবে নগদ ৮ হাজার টাকা ও সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।

এদিকে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মকরন্দ বিশ্বাস জানান, দুধু মিয়ার কবুতর পালনের এই সাফল্য দেশের বেকার যুবকদের জন্য একটি মাইলফলক।

দেশের বেকার যুবকদের কাছে দুদু মিয়া একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হতে পারেন। তবে তার দেখাদেখি দেশের অন্য বেকার যুবকরাও যদি ব্যতিক্রমি এই কবুতর পালনে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরো মজবুত হবে।

বসতবাড়িতে অল্প শ্রমে ও স্বল্প ব্যয়ে কবুতর পালন

আমাদের দেশে হাঁস-মুরগির মতো অনেক বাড়িতেই কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। এখনও পুরনো পদ্ধতিতে কবুতর পালন করা হচ্ছে। তবে ইদানীং জনসাধারণের মাঝে উন্নত পদ্ধতিতে কবুতর পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। বসতবাড়িতে অল্প শ্রমে ও স্বল্প ব্যয়ে অবসর সময়ে কবুতর পোষা যায়। কবুতর পুষে একদিকে পরিবারের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, অপরদিকে বাড়তি আয়েরও সুযোগ হয়। বাচ্চা কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও বলকারক হওয়ায় বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

জীবন চক্র : পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেঁধে একসঙ্গে বাস করে। এদের জীবনকাল ১২ বছর। স্ত্রী-পুরুষ উভয় মিলে খড়কুটা সংগ্রহ করে ছোট জায়গায় বাসা তৈরি করে। ডিম পাড়ার স্থান ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে স্ত্রী কবুতর ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ২৮ দিন অন্তর ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ (দুই)টি ডিম দেয় এবং পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত দেয়া ডিমে বাচ্চা উত্পাদান ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে বাচ্ছা ফুটতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। ডিমে তা দেয়ার ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরের খাদ্য থলিতে দুধ জাতীয় বস্তু তৈরি হয় যা খেয়ে বাচ্চারা ৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়েই ১০ দিন পর্যন্ত এদের বাচ্চাকে ঠোঁট দিয়ে খাওয়ায়, এরপর বাচ্চারা দানাদার খাদ্য খেতে আরম্ভ করে।

কবুতরের জাত : পৃথিবীতে প্রায় দুশ’ থেকে তিনশ’ জাতের কবুতর আছে। মাংস উত্পাদনের জন্য সিলভারকিং, হামকাচ্চা, ডাউকা, কাউরা, গোলা, গোলী, পক্কা, লক্ষা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। চিত্তবিনোদনের জন্য ময়ুরপঙ্খী, সিরাজী, লাহোরী, ফ্যানটেইল, জেকোডিন, মুক, গিরিবাজ, টেম্পলারলোটন—এসব জাতের কবুতর রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশে উল্লেযোগ্য কবুতরের একটি জাত হচ্ছে ‘জালালী কবুতর’। এ নামটি হজরত শাহ্জালাল (রহ.) এর পুণ্য স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।

পালনের সুবিধা : কবুতর পালন আনন্দদায়ক। কবুতরের গোশত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রতিমাসে গড়ে ২টি বাচ্চা পাওয়া যায় এবং ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। তাদের রোগবালাই কম। খাবার করচ কম এবং থাকার ঘর তৈরি করতে খরচ কম লাগে। স্বল্প পুঁজি ও শ্রমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। 

কবুতরের বাসস্থান : কবুতরের থাকার ঘরটি উঁচু করে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখিদের নাগালের বাইরে থাকে। ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। হালকা কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের ঘর বানানো যায়। প্রতিজোড়া কবুতরের জন্য ৩০ সেমি. চওড়ার এবং উচ্চতায় ৩০ সেমি. মাপের খোঁপ বানাতে হবে। কবুতরের ঘর পাশাপাশি বা কয়েকতলা বিশিষ্ট করা যেতে পারে। প্রতিটি খোপের জন্য একটি করে দরজা থাকবে। অধিক কবুতর পুষলে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকটি খোপ বেশি রাখতে হবে। প্রতিমাসে ১-২ বার করে ঘরে কবুতরের বিষ্টা পরিষ্কার করতে হবে এবং যাতে কবুতরের ঘর পরিষ্কার ও শুকনো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবার ও পানির পাত্র কবুতরের ঘরের কাছেই রাখতে হবে। এছাড়াও কবুতরের গোসলের জন্য পানি ও ধূলি এবং বাসা বানানোর জন্য খড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

খাদ্য : কবুতর সাধারণত গম, মটর, খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কলাই, ধান, চাল, কাউন, জোয়ার—এসব শস্যদানা খেয়ে থাকে। এরা মুক্ত আকাশে বিচরণ করে এবং পছন্দমত স্থান থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষা, দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির জন্য এদের খাবারের শতকরা ১৫ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ আমিষ থাকা প্রয়োজন। তবে মুরগির জন্য নির্ধারিত তৈরি সুষম খাবার খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি কবুতর দৈনিক গড়ে ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে। কবুতর ছানার দ্রুত বৃদ্ধি, হাড়শক্ত ও পুষ্টি এবং বয়স্ক কবুতরে সুস্বাস্থ্য এবং ডিমের খোসা শক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের চূর্ণ, চুনাপাথর, শক্ত কাঠকয়লার চূর্ণ, হাড়ের গুঁড়ো, লবণ এসব মিশিয়ে ‘গ্রিট মিকচার’ তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতিদিন কিছু কিছু কাঁচা শাক-সবজি কবুতরকে খেতে দেয়া ভালো। 

খরচ : ১০ জোড়া কবুতরের জন্য ১টি ঘর বানাতে (খাবারের পাত্র, পানির পাত্রসহ) আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জোড়া কবুতরের ক্রয়মূল্য প্রায় ১০০০ টাকা এবং ১০ জোড়া থেকে মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে। এগুলো বিক্রি করে মাসে গড়ে ৬০০ টাকা আয় করা যাবে।

পাবনায় রয়েছে সৌখিন কবুতরের বিশাল বাজার

এক জোড়া কবুতরের বাচ্চার দাম ৭০,০০০ টাকা!! এরকম আরো অনেক প্রজাতির সৌখিন কবুতর পালন করছেন পাবনার অনেক খামারী। আর জাত ভেদে এদের এক এক জোড়া বাচ্চার দাম ১,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত। সিরাজী, লাক্ষা, পোটার, র‌্যান, ষ্ট্রেচার, ব্লু-হেনা এরকম আরো নানা প্রজাতির কবুতর রয়েছে। এর মধ্যে এক জোড়া হলুদ-হেনা কবুতরের বাচ্চার দাম-ই ৭০,০০০ টাকা। আমি এরকম বিভিন্ন কবুতরের খামার থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছি আজ সেসবই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
বিভিন্ন প্রকারের কবুতর:
ম্যাগপাই কবুতর


নীল হেনা
হলুদ হেনা

পোটার
নীচে কয়েকজন খামারীর কবুতর পালনের তথ্য তুলে ধরা হলোঃ
ক্রমিক নংখামারীর নাম ও ঠিকানাগ্রাম/ইউঃ/পৌরজাতবাচ্চার দাম(প্রতি জোড়া)সংখ্যামোবাইল নং
০১.হুমাযুন কবির রিপন,পিত-নজরুল ইসলামবিসিকগেটছাতিয়ানী,পাবনাসিরাজীহলুদ৪০০০,লাল ৩০০০,কাল ২০০০,সিলভার -৭০০০৫০ জোড়া০১৭১১১২৬৫৪৭
০২.নজরুল ইসলাম (মনি)পিতা-মোজাহারুল ইসলামগোপাল পুর,পাবনালাক্ষাহলুদ-১৫.০০০,সাদা ৪০০০,কাল -২৫০০৫৫ জোড়া০১৭১৫০০২৩৭২
০৩.মাহামাদুল হাসান হীরা পিতা-ইমদাদ হোসেনকালাচাঁদ পাড়া, পাবনাপোটারহলুদ১৮০০,লাল -১০০০০,কাল -৬০০০৫০ জোড়া০১৭১১৯৪০০৬২
০৪.মিজানুর রহমান,পিতা-মোঃ-বাদশা মিয়াপৈলানপুর,পাবনার‌্যানসাদা ১৬,০০০,লাল ৪০০০,হলুদ-৪০০০২০ জোড়া০১৭১৬২৫১২৮৫
০৫.মহিউল ইসলাম,পিতা-কুদরত-ই-খোদাপৈলানপুর,পাবনাষ্ট্রেচারহলুদ-৫০০০০,নীল-২০০০০,লাল -১০০০০২৪ জোড়া০১৭১৬৬২৬৫৫৪
০৬.মঞ্জিল হোসেনকৃষ্ণপুর, পাবনাকাল হেনাকাল  হেনা-২৫০০০,স্পেশাল কাল  হেনা-৩০০০০৫৫ জোড়া০১৭১৪২৫৫৪৫৫
০৭.ইসমাইল হোসেন ইকবলশালগাড়িয়া.পাবনাবোখারীবোখারী হলুদ ৫০০০০,সাদা বোখারী -৭০০০৫৫ জোড়া০১৭২৯১১২১৫৫
০৮.মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)তালতলা,পাবনাব্লু­-হেনানীল-৬০০০০,হলুদ হেনা-৭০০০০৫৫ জোড়া০১৭১৬৭৩৩৫৭৮
০৯.শ্রী সুভাশথানা পাড়া, পাবনাম্যাগপাইহলুদ-২০০০০,লাল -১৫০০০,কাল -৩০০০৫৫ জোড়া০১৭১৫৮৪৫০৪২
১০.মোঃ রুমোন ফরহাদপাথরতলা,পাবনাকিংহলুদ-১২০০০,সাদা ৯০০০,লাল -৭০০০,কাল -১০০০,৫৫ জোড়া০১৭১১৪৫০৯৪০
১১.শামীম হোসেনকৃষ্ণপুর, পাবনাসটফেসহলুদ-২০০০,লাল ১৫০০,কাল -১০০০৫৫ জোড়া০১৭২৫৩২৬৩৮৬
১২.উজ্জল দওকালাচাঁদ পাড়া, পাবনা পোটার হলুদ-১৮০০০,লাল -১০০০০,কাল -৬০০০৫০ জোড়া০১৭৫১৬৫৯০০০

লাক্কা কবুতর পরিপালন ও ব্যাবসায়িক দিক

লাক্কা কবুতর দেখতে সাদা ও লেজটি ময়ূরের মত দেখতে । এই কবুতর সৌখীন লোকেরা তাদের বাসায় সুন্দর বৃদ্ধির জন্য লালন পালন করে ।
এই জাতের কবুতর পালনের জন্য খুব বেশী জায়গার প্রয়োজন হয় না । প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যার ।মাত্র ২.৫ফুট / ৩ ফুট / ২.৫ মাপের একটি খাচায় পালন করা যায় ।

মাত্র  ১০ ফুট/৩ ফুট/৭.৫ ফুট মাপের একটি খাচায়  ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালন করা যাবে  খুব সহজেই ।

ব্যয় এবং লাভের দিক :
ব্যয় :
  • ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালনের জন্য ১০/৩/৭.৫ ফুট মাপের একটি ভালো লোহার খাচা বানাতে খরচ পরবে আনুমানিক ১০,০০০/ টাকা।
  • এক জোড়া লাক্কা কবুতর ( ২ মাস বয়সী ) এর দাম  = ২৫০০ টাকা ।
  • ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের দাম পরবে = ৩০,০০০/ টাকা
  • ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের খাবার বাবদ প্রতি মাসে আনুমানিক = ৩,০০০/ টাকা ।
  • ৬ মাস খাবার বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ১৮,০০০ টাকা ।
  • ৬ মাসে ভেক্সিন বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ২,০০০/ টাকা ।
  • ৬ মাস পর্যন্ত আনুমানিক খরচ = ( ১+২+৩+৪ ) = ৬০,০০০/ টাকা ।


(উল্লেখ্য যে, এই ব্যায় শুধু নিজের বসত বা ফ্লাটের একটি রুমে করলে,
  একটি ১২/১০ ফুট রুমে উপরের মাপের ৩ টি খাচা রাখা যাবে । )

লাভের দিক :
  • লাক্কা কবুতরের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন থেকেই ডিম দেয়া শুরু করবে ।
  • অর্থাৎ কবুতর কিনে এনে খাচায় পরিপালনের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন ১২ জোড়া কবুতর থেকে ১২ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে ।
  • ২ মাস বয়সী প্রতি জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে = ১৫০০/ টাকা করে ।
  • ১২ জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে =  ১৮,০০০/ টাকা ।



এই হিসাবে মোট ব্যায় তোলে আনতে সময় লাগবে আনুমানিক ৪+৪ = ৮  মাস ।
প্রতি মাসে খাবার ব্যায় বাদ দিয়ে মাসে ১৫,০০০/ আয় করা যায় খুব সহজেই ।

যদি একটি রুমে ৩ টি খাচায় ৩৬ জোড়া কবুতর পরিপালন করা যায়।
ব্যয় হবে ( ৬ মাসের খাবার ও ভ্যাক্সিন সহ ) আনুমানিক ১,৮০,০০০/ টাকা ।
মোট প্রাক্কলিত ব্যয় উঠে আসতে সময় লাগবে মাত্র ৪+৪ = ৮ মাস ।
এর পর থেকে প্রতি মাসে খাবার ও ভ্যাক্সিন বাবদ ব্যয় হবে = ৯০০০/ টাকা ।

লাভ হবে প্রতি মাসে নীট = ৪৫,০০০/ টাকা ।

কবুতরের বিরাট হাট!

‘যাও পাখি বলো তারে সে যেন ভোলে না মোরে’র মতো হাজারো গান আর ছন্দের মাধ্যমে বাঙালি জীবনের সাথে পাখির ভূমিকা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কেবল গান বা শিল্প-সাহিত্যে নয়, প্রাচীনকালের রাজা-বাদশাদের আমলে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করত কবুতর। আধুনিক ডাকব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কবুতর সুদীর্ঘকাল রাজত্ব করেছে। 

সময়ের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও বাঙালির জীবনের সাথে কবুতরের সম্পর্ক আজও গভীর। কবুতর পোষা এখনো অনেকেরই প্রিয় শখ। তাই দেখা যায় ৯ থেকে ৯০ বছরের শৌখিন পাখিপ্রেমীরা কবুতর পালন করছেন মনের আনন্দে, ভালোবাসার টানে। নিজেদের ভালোবাসাকে একে অপরের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সপ্তাহে একদিন তারা একত্র হচ্ছেন কবুতরের হাটে। রাজধানীর বিভিন্ন বিখ্যাত বাজার, শৌখিন মার্কেটে কবুতর থাকলেও সেখানে যেন নেই ভালোবাসার টান, নেই প্রাণের সম্মিলন। শৌখিন কবুতরপ্রেমীরা তাই প্রতি শুক্রবার সারা দিনের জন্য একত্র হচ্ছেন গুলিস্থানের কবুতর হাটে।

হোমা, লাখা, গ্রীবাজ, মিহিরবাজ, সিরাজী, গিয়াছুল্লী, শাটিং, কিং, শর্ট এঞ্জেল, গররা, পোয়ার্টার, রেসার, কিলা, র্যাগস, বার্মিজ, বোম্বে এগুলো এলোমেলো কোনও নাম নয়। এগুলো বিভিন্ন জাতের কবুতর। কোনও কবুতর দেখতে বড়, কোনওটি দেখতে সুন্দর আবার কোনওটি উড়তে পারে না, কোনও কবুতর আকাশে খেলা করতে পারে ভালো। এক এক জাত এক এক গুণে গুণান্বিত। তবে বাজারে সবচে দামি ‘হোমা’ জাতের কবুতর। এক জোড়া কবুতরের দাম লাখ টাকারও বেশি। এ কবুতরের বিশেষত্ব, অনেক সময় ধরে উড়তে পারে। এছাড়া যত দূর থেকেই এই কবুতরকে ছেড়ে দেওয়া হোক না কেন, নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরে আসবে বলে জানান মুগদার কবুতর ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘কবুতরের দামের কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। চোখে যদি ভালো লাগে, তাহলে ক্রেতারা দামের দিকে তাকান না।’

বাজারে সবচে বেশি দেখা যায় ‘গ্রীবাজ’ শ্রেণীর কবুতর। এই শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে ৫০ ধরনের জাত। সবচে ভালো  সবুজ গলা ও লাল গলা গ্রীবাজ। এরা আকাশে অনেক ধরনের খেলা দেখাতে পারে। কবুতরপ্রেমী থেকে শুরু করে সবাই এই কবুতর পছন্দ করে। জোড়ার দাম ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বড় আকারের কবুতর কিং জাত বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়, তীè ও জোরালো ডাকের র্যাগস জাত বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়, মিহিরবাজ জাত বিক্রি হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়, ময়ূরী জাত ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়, সিরাজী জাত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়, শাটিং জাত ২ হাজার টাকা জোড়ায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান পুরান ঢাকার কবুতরপ্রেমী আরমান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাজারে সাধারণত কম দামের কবুতর বিক্রি হয় আর এলাকায় বিক্রি হয় বেশি দামের কবুতর।’

হাট থেকে কবুতর কেনার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি আছে অনেক সমস্যা। সময়টা শীত হওয়ায় সমস্যাগুলো সম্পর্কে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হয়। আমেরিকাফেরত কবুতরপ্রেমী জাকির হোসেনের সঙ্গে আলাপ হয়। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘শীতের সময় রোগবালাই বেশি হয়। তাই কবুতরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন।’

হাট থেকে কবুতর কেনার সময় চোখ, ঠোঁট, গলা, ডানার নিচ ভালো করে দেখে কেনার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বাসায় নিয়েই গোসল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

কবুতর পালনে যেমন শখ পূরণ হয়, তেমনি এ খাত থেকে আসতে পারে কিছু বাড়তি আয়। বাংলানিউজকে তেমনটাই বলছিলেন সদ্য ডিপ্লোমা শেষ করা পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার মিঠু। তিনি বলেন, ‘আমি ১০ বছর বয়স থেকে কবুতর পালন করি। কিং, র্যাগসের মতো যেসব কবুতর কম উড়ে, সেসব কবুতর আমি খাঁচায় পুষি । মাস শেষে আমার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়।’

গাড়ি, মোটর সাইকেল, বাসে করে ঢাকার আশপাশের নানা ধরনের ক্রেতা আসেন এই কবুতরের হাটে। কেউ আসেন বাড়তি কিছু কবুতর কিনে সংগ্রহশালা বৃদ্ধি করতে, কেউ আসেন নতুন কবুতর কিনে জোড় পূরণ করতে। আবার কেউ আসেন বাড়তি কবুতর বিক্রি করে খাবার সংগ্রহ করতে। তাই প্রতি শুক্রবার গুলিস্তানের এই হাটে জমে উঠে বেচাকেনা। কবুতরের খাবার ও পালনের খাঁচাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসারও সমাবেশ ঘটে এখানে। 

কবুতর পালন করে মাসে আয় ২৫ হাজার টাকা

প্রথমে গ্রামের বসতবাড়িতে শখ করে দেশি প্রজাতির কবুতর পোষা। তারপর ডিম থেকে ছানা ফুটিয়ে কবুতরের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি। হাটে নিয়ে বিক্রি এবং আয় হতে থাকা। অবশেষে কবুতর পালনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ। এই খাত থেকে এখন মাসিক আয় অন্তত ২৫ হাজার টাকা।
এসএসসি পাসের পর নানা সংকটে তারেককে পড়াশোনায় ইস্তফা দিতে হয়। অল্প পড়ালেখার কারণে চাকরির চেষ্টা করেননি। বড় ব্যবসা করার পুঁজি ছিল না তাঁর। আয়-রোজগারের চিন্তা করতে গিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কবুতর নিয়ে ভাবনার নেশাকে পেশায় পরিণত করেন তারেক। দেড় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন কবুতরের বাণিজ্য। উপজেলা সদরে দোকান ভাড়া নিয়ে কবুতরের দোকান গড়ে তোলেন। এখন দেশি কবুতরের পাশাপাশি বিদেশি নামি-দামি কবুতরে সাজানো তাঁর দোকান। দুই হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা জোড়া দামের কবুতর পাওয়া যায় তাঁর দোকানে। শখে যাঁরা কবুতর পোষেণ, তাঁদের নামি-দামি কবুতরের জন্য তারেকের কাছে আসতে হয়। উপজেলা শহরে কবুতরের এমন ব্যতিক্রমী দোকান গড়ে ওঠার কারণে এলাকার অনেকেই এখন নামি-দামি কবুতর শখ করে পালনের দিকে ঝুঁকছেন। আর তারেক কবুতরের ব্যবসায় প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন। শখে কবুতর পোষেণ এমন লোকজনই তাঁর কবুতরের দোকানের প্রধান ক্রেতা। নামি-দামি কবুতরের পাশাপাশি দেশি প্রজাতির কবুতরও বিক্রয় করেন তিনি।

মঠবাড়িয়া শহরের তুষখালী সড়কের আহম্মেদ মার্কেটে তারেকের দোকানে দেশি কবুতরের পাশাপাশি বিদেশি নামি-দামি অন্তত ১০ প্রজাতির কবুতর পাওয়া যায়। এর মধ্যে ময়ূরপঙ্খী, র‌্যাং, গিরিবাজ, সিরাজি, বল, কগা, হোমার, জালালি ও কাপ্তান উল্লেখযোগ্য। এক জোড়া ময়ূরপঙ্খী পাঁচ থেকে সাত হাজার, র‌্যাং ১০ থেকে ১২ হাজার, গিরিবাজ ৫০০ থেকে ৭০০, সিরাজি চার হাজার, বল ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার, কগা এক থেকে দেড় হাজার, হোমার দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার, জালালি এক হাজার থেকে দেড় হাজার ও কাপ্তান দুই-তিন হাজার টাকায় বিক্রয় হয়।
তারেক জানান, কবুতরের তেমন রোগ-ব্যাধি না থাকায় ঝুঁকি কম। কবুতর খুবই নিরীহ প্রজাতির পাখি। লালন-পালন করাও সহজ। নামি প্রজাতির কবুতর তিনি খুলনা, যশোর ও বরিশাল থেকে পাইকারি কিনে নিজের দোকানে প্রতিপালন করে বিক্রয় করেন। তাঁর ইচ্ছা উন্নত প্রজাতি ও দামি সব কবুতরের একটি খামার গড়ে তোলা।


তারেক এই প্রতিবেদকের সঙ্গে বলেন, কবুতরের ব্যবসার শুরুতে অনেক ঝুঁকি মনে করেছিলাম; কিন্তু এখন তা মনে হচ্ছে না। যেকোনাে যুবক এ ব্যবসা করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন। তবে ব্যবসায় অন্তত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পুঁজির প্রয়োজন পড়বে। সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালনে ঋণসহায়তা পেলে যেকোনো বেকার যুবক এ লাভজনক ব্যবসা করতে পারেন।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যুবক তারেক কবুতরের দোকান করে তাঁর বেকারত্ব দূর করেছেন। এটি আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে যেকোনো বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণ দেওয়া হয়। তবে কবুতর পালনের জন্য কোনো ঋণ নেই। তবে বেকার যুবকদের কবুতর পালন প্রকল্পে ঋণ পেতে হলে প্রশিক্ষণের আওতায় আসতে হবে।

কবুতর পালনের আদ্যপান্ত

কবুতর পালন: শখ, সৌন্দর্য আর লাভজনক খামার—একই সাথে

১) কেন কবুতর এত জনপ্রিয়?

আমাদের দেশে গৃহপালিত পাখিদের মধ্যে কবুতর খুব পরিচিত ও জনপ্রিয়। অনেকেই কবুতর পালন করেন এর বাহ্যিক সৌন্দর্য, শান্তির প্রতীক হিসেবে মূল্য এবং শখ/বিনোদন–এর কারণে। ইতিহাসে কবুতর ব্যবহার হতো দূর-দূরান্তে বার্তা পাঠানোর কাজে—প্রাচীনকালেই রাজা-বাদশাদের বার্তা পৌঁছাতে কবুতরের ভূমিকা ছিল বলে শোনা যায়। এখনো নানা অনুষ্ঠান/উদ্বোধনে “শান্তির দূত” হিসেবে কবুতর উড়িয়ে দেওয়ার চল আছে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—কবুতর পালনে সাধারণত অতিরিক্ত বড় খরচ বা বড় জায়গা লাগে না। বাড়ির আঙিনা, বারান্দা, ছাদ, কার্নিশ—এমনকি ঝুলন্ত ঝুড়িতেও কবুতর রাখা যায়। তাই শহর-গ্রাম—দুই জায়গাতেই অনেক বাড়িতে কবুতর দেখা যায়।


২) কবুতর পালনের লাভ ও সুবিধা

কবুতর পালনে অসুবিধার তুলনায় সুবিধাই বেশি। যেমন—

  1. দ্রুত বংশ বৃদ্ধি

  • ভালো জোড়া হলে বছরে প্রায় ১০–১২ বার বাচ্চা/ডিম চক্র দেখা যায় (পরিচর্যা ও পরিবেশভেদে কম-বেশি হতে পারে)।

  • ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে সাধারণত ১৬–১৮ দিন লাগে।

  1. অল্প জায়গায় পালন সম্ভব

  • ছোট খোপ/ঝুড়ি/ছাদে খাঁচা—অল্প জায়গায়ই কাজ চলে।

  1. খরচ তুলনামূলক কম

  • অনেক সময় কবুতর কিছু খাবার নিজেই খুঁজে খায় (খোলা পরিবেশে থাকলে)।

  • খাবার ও ঘর বানানোর খরচ সাধারণত কম।

  1. মাংসের চাহিদা ও বাজার

  • কবুতরের মাংস অনেকের কাছে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে জনপ্রিয়।

  • ঠিকভাবে পালন করলে এটাকে ছোট পরিসরে লাভজনক ব্যবসা হিসেবেও দাঁড় করানো যায়।


৩) কবুতরের স্বভাব, জোড়া বাঁধা ও আয়ু

  • কবুতর সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় থাকে: এক জোড়ায় ১টি পুরুষ + ১টি স্ত্রী।

  • জোড়া ভেঙে গেলে নতুন জোড়া তৈরি করতে সময় লাগে। অনেক সময় কিছুদিন একসাথে আলাদা খোপে রাখলে তারা জোড়া বাঁধে।

  • কবুতর সাধারণত দীর্ঘদিন বাঁচে (পরিবেশ/খাদ্য/রোগভেদে পার্থক্য হয়) এবং জীবদ্দশায় ডিম-বাচ্চার মাধ্যমে প্রজনন করে।


৪) প্রজনন ও বাচ্চা বড় হওয়ার টাইমলাইন

ডিম ও তা দেওয়া:

  • সাধারণত স্ত্রী কবুতর ২টি ডিম দেয়।

  • ডিম পাড়ার পর স্ত্রী-পুরুষ পালা করে তা দেয় (দিনের ভাগে এক জন, রাতে অন্য জন—এভাবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়)।

ডিম পরীক্ষা (উর্বর/অনুর্বর):

  • ডিমে তা দেওয়ার কয়েকদিন পর আলোতে ধরলে উর্বর ডিমে ভেতরে রক্তনালীর মতো রেখা দেখা যেতে পারে, অনুর্বরে তুলনামূলক স্বচ্ছ লাগে।

বাচ্চার বৃদ্ধি (সংক্ষেপ):

  • জন্মের কয়েকদিন পর চোখ খোলে।

  • ২–৩ সপ্তাহে পালক গজানো স্পষ্ট হয়।

  • প্রায় ২৬–২৮ দিন বয়সে বাচ্চা বেশ “বাজার/খাবার উপযোগী” আকারে পৌঁছায় (খামার ভেদে সময় ভিন্ন হতে পারে)।


৫) “পিজিয়ন মিল্ক” (কবুতরের দুধ) কী?

কবুতরের বাবা-মা দুজনেরই খাদ্যথলিতে একধরনের পুষ্টিকর নিঃসরণ তৈরি হয়—এটাই পরিচিত পিজিয়ন মিল্ক নামে।

  • বাচ্চা জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন বাচ্চার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ খাবার।

  • তাই ছোট ছানার শুরুতে আলাদা করে জটিল খাবার দিতে হয় না—বাবা-মাই খাইয়ে দেয়।


কবুতরের খামার/খোপ ব্যবস্থাপনা

৬) ঘর/খোপের স্থান নির্বাচন

ভালো খামারের জন্য যা খেয়াল রাখবে—

  • উঁচু ও শুকনা জায়গা (পানি জমে থাকে এমন জায়গা নয়)

  • রোদ-বাতাস আসে এমন পরিবেশ

  • শিকারি প্রাণী/বিড়াল/ইঁদুর/বেজি ইত্যাদি থেকে নিরাপদ ব্যবস্থা

  • পরিষ্কার করা সহজ এমন ডিজাইন

৭) ঘরের কাঠামো (সহজ ও কার্যকর নিয়ম)

  • প্রতি ১ জোড়া = ১ খোপ রাখাই ভালো (জোড়া যেন শান্তিতে থাকে)।

  • খোপ এমন হবে যাতে:

    • সহজে পরিষ্কার করা যায়

    • ভেতরে আলো-বাতাস ঢোকে

    • পানি/খাবারের পাত্র রাখা যায়

  • গ্রামে বাঁশ-কাঠ দিয়ে খোপ বানানো যায়, শহরে কাঠ/প্লাই/জাল দিয়ে ছাদে সুন্দর সেটআপ করা যায়।


খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা

৮) কবুতরের দৈনিক খাবার

  • কবুতর সাধারণত শস্যদানা জাতীয় খাবার খায়: গম, ভুট্টা, মটর, কলাই/খেসারি, সরিষা, ধান/চাল ইত্যাদি।

  • গড়ে প্রতিটি কবুতর দৈনিক আনুমানিক ৩০–৫০ গ্রাম খাবার খেতে পারে (জাত/বয়স/মৌসুমভেদে কম-বেশি হবে)।

  • সবসময় পরিষ্কার পানি রাখতে হবে।

৯) উদাহরণ খাদ্য মিশ্রণ (বাণিজ্যিক খামারের জন্য)

নিচের মিশ্রণটা অনেক খামারে ব্যবহার হয়—তুমি চাইলে লোকাল শস্য অনুযায়ী সামান্য এদিক-ওদিক করতে পারবে:

খাদ্য উপাদানপরিমাণ (%)
ভুট্টা35
মটর20
গম30
ঝিনুকের গুঁড়া/চুনাপাথর চূর্ণ/অস্থিচূর্ণ (ক্যালসিয়াম উৎস)7
ভিটামিন/অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রিমিক্স7
লবণ1
মোট100

নোট: প্রিমিক্স/ভিটামিন ও খনিজ ব্যবস্থায় স্থানীয় ভেটেরিনারি/অভিজ্ঞ খামারির পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভালো।


আমাদের দেশে দেখা যায় এমন কয়েকটি জনপ্রিয় জাত

১০) পরিচিত কয়েকটি জাত (সংক্ষেপে)

  • গোলা: উপমহাদেশে পরিচিত; মাংসের জন্য জনপ্রিয়।

  • গোলী: দেহগঠন/লেজের পালকে কিছু পার্থক্য থাকে; রঙে ছোপ দেখা যায়।

  • টাম্বলার (গিরিবাজ): আকাশে ডিগবাজি/খেলাধুলার জন্য কদর।

  • লোটান (রোলিং): মাটির কাছাকাছি রোলিং/ডিগবাজির জন্য পরিচিত।

  • লাহোরী (শিরাজী নামে পরিচিত): দেহের বড় অংশ সাদা, পাখা/মাথায় রঙ।

  • কিং (হোয়াইট/সিলভার কিংসহ): প্রদর্শনী ও স্কোয়াব উৎপাদনে ব্যবহৃত।

  • ফ্যানটেল: লেজ পাখার মতো মেলে ধরে; প্রদর্শনীতে জনপ্রিয়।

  • জ্যাকোবিন: মাথা-ঘাড়ের পালকে বিশেষ আবরণ তৈরি হয়।

  • মুকি: গলা বাঁকানো/কম্পমান ভঙ্গি; কিছু বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতা আছে।


স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সাধারণ রোগ প্রতিরোধ (সহজভাবে)

১১) রোগ প্রতিরোধে ৭টি কাজ (সবচেয়ে জরুরি)

  1. খোপ নিয়মিত পরিষ্কার, শুকনো রাখা

  2. পানি প্রতিদিন বদলানো

  3. নতুন কবুতর আনলে ১০–১৪ দিন আলাদা রাখা (কোয়ারেন্টাইন)

  4. অসুস্থ কবুতর দ্রুত আলাদা করা

  5. ভিড় কম রাখা (অতিরিক্ত ঘনত্ব নয়)

  6. ইঁদুর/পোকা নিয়ন্ত্রণ

  7. প্রয়োজনে ভেটেরিনারির সাথে কথা বলে টিকা/চিকিৎসা পরিকল্পনা করা

১২) সাধারণভাবে দেখা যায় এমন কিছু রোগ (লক্ষণ—খেয়াল রাখবে)

  • ডায়রিয়া, সবুজ পায়খানা, দুর্বলতা

  • শ্বাসকষ্ট, হাঁচি/সর্দি, চোখ-নাক দিয়ে পানি/ঘন স্রাব

  • ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা/ঘাড় বেঁকে যাওয়া

  • মুখ/ঠোঁট/চোখের আশপাশে গুটি/ক্ষত

  • খাবার কম খাওয়া, দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ কথা: এসব লক্ষণ থাকলে ঘরোয়া “এন্টিবায়োটিক ট্রায়াল” না করে আগে ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নাও—কারণ ভুল ওষুধে রোগ বাড়তে পারে এবং রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়।


তোমার জন্য দ্রুত অপশন

তুমি চাইলে আমি এটাকে—

  1. গুগল পেজ/ব্লগের HTML ফরম্যাটে (Heading + bullet + table ঠিক রেখে)

  2. বা একদম “শর্ট পোস্ট” ভার্সন (১ পেজে)
    —দুইভাবেই বানিয়ে দিতে পারি।

বললেই আমি তোমার পছন্দের ফরম্যাটে সাজিয়ে দেব।

কবুতর পালন : কম সময়ে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ

আমাদের দেশে হাঁস-মুরগির মতো অনেক বাড়িতেই কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। এখনও পুরনো পদ্ধতিতে কবুতর পালন করা হচ্ছে। তবে ইদানীং জনসাধারণের মাঝে উন্নত পদ্ধতিতে কবুতর পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। বসতবাড়িতে অল্প শ্রমে ও স্বল্প ব্যয়ে অবসর সময়ে কবুতর পোষা যায়। কবুতর পুষে একদিকে পরিবারের আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, অপরদিকে বাড়তি আয়েরও সুযোগ হয়। বাচ্চা কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও বলকারক হওয়ায় বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

জীবন চক্র
পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়া বেঁধে একসঙ্গে বাস করে। এদের জীবনকাল ১২ বছর। স্ত্রী-পুরুষ উভয় মিলে খড়কুটা সংগ্রহ করে ছোট জায়গায় বাসা তৈরি করে। ডিম পাড়ার স্থান ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে স্ত্রী কবুতর ডিম পাড়া শুরু করে। এরা ২৮ দিন অন্তর ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ (দুই)টি ডিম দেয় এবং পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত দেয়া ডিমে বাচ্চা উত্পাদান ক্ষমতা সক্রিয় থাকে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে বাচ্ছা ফুটতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। ডিমে তা দেয়ার ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরের খাদ্য থলিতে দুধ জাতীয় বস্তু তৈরি হয় যা খেয়ে বাচ্চারা ৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়েই ১০ দিন পর্যন্ত এদের বাচ্চাকে ঠোঁট দিয়ে খাওয়ায়, এরপর বাচ্চারা দানাদার খাদ্য খেতে আরম্ভ করে।

কবুতরের জাত
পৃথিবীতে প্রায় দুশ’ থেকে তিনশ’ জাতের কবুতর আছে। মাংস উত্পাদনের জন্য সিলভারকিং, হামকাচ্চা, ডাউকা, কাউরা, গোলা, গোলী, পক্কা, লক্ষা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। চিত্তবিনোদনের জন্য ময়ুরপঙ্খী, সিরাজী, লাহোরী, ফ্যানটেইল, জেকোডিন, মুক, গিরিবাজ, টেম্পলারলোটন—এসব জাতের কবুতর রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশে উল্লেযোগ্য কবুতরের একটি জাত হচ্ছে ‘জালালী কবুতর’। 
এ নামটি হজরত শাহ্জালাল (রহ.) এর পুণ্য স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।

পালনের সুবিধা
কবুতর পালন আনন্দদায়ক। কবুতরের গোশত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রতিমাসে গড়ে ২টি বাচ্চা পাওয়া যায় এবং ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা খাওয়ার উপযোগী হয়। তাদের রোগবালাই কম। খাবার করচ কম এবং থাকার ঘর তৈরি করতে খরচ কম লাগে। স্বল্প পুঁজি ও শ্রমে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। 

কবুতরের বাসস্থান
কবুতরের থাকার ঘরটি উঁচু করে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখিদের নাগালের বাইরে থাকে। ঘরে প্রচুর আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। হালকা কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের ঘর বানানো যায়। প্রতিজোড়া কবুতরের জন্য ৩০ সেমি. চওড়ার এবং উচ্চতায় ৩০ সেমি. মাপের খোঁপ বানাতে হবে। কবুতরের ঘর পাশাপাশি বা কয়েকতলা বিশিষ্ট করা যেতে পারে। প্রতিটি খোপের জন্য একটি করে দরজা থাকবে। অধিক কবুতর পুষলে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকটি খোপ বেশি রাখতে হবে। প্রতিমাসে ১-২ বার করে ঘরে কবুতরের বিষ্টা পরিষ্কার করতে হবে এবং যাতে কবুতরের ঘর পরিষ্কার ও শুকনো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবার ও পানির পাত্র কবুতরের ঘরের কাছেই রাখতে হবে। এছাড়াও কবুতরের গোসলের জন্য পানি ও ধূলি এবং বাসা বানানোর জন্য খড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

খাদ্য 
কবুতর সাধারণত গম, মটর, খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কলাই, ধান, চাল, কাউন, জোয়ার—এসব শস্যদানা খেয়ে থাকে। এরা মুক্ত আকাশে বিচরণ করে এবং পছন্দমত স্থান থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষা, দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির জন্য এদের খাবারের শতকরা ১৫ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ আমিষ থাকা প্রয়োজন। তবে মুরগির জন্য নির্ধারিত তৈরি সুষম খাবার খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি কবুতর দৈনিক গড়ে ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে। কবুতর ছানার দ্রুত বৃদ্ধি, হাড়শক্ত ও পুষ্টি এবং বয়স্ক কবুতরে সুস্বাস্থ্য এবং ডিমের খোসা শক্ত হওয়ার জন্য ঝিনুকের চূর্ণ, চুনাপাথর, শক্ত কাঠকয়লার চূর্ণ, হাড়ের গুঁড়ো, লবণ এসব মিশিয়ে ‘গ্রিট মিকচার’ তৈরি করে খাওয়ানো প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতিদিন কিছু কিছু কাঁচা শাক-সবজি কবুতরকে খেতে দেয়া ভালো। 

খরচ 
১০ জোড়া কবুতরের জন্য ১টি ঘর বানাতে (খাবারের পাত্র, পানির পাত্রসহ) আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জোড়া কবুতরের ক্রয়মূল্য প্রায় ১০০০ টাকা এবং ১০ জোড়া থেকে মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে। এগুলো বিক্রি করে মাসে গড়ে ৬০০ টাকা আয় করা যাবে।

সাভারে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন

সাভারে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে এলাকার তরুণ-যুবকসহ সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। মাত্র হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দু’তিন জোড়া কবুতর পালন শুরু করলেও অল্প দিনের ব্যবধানে অনেকেই গড়ে তুলেছেন লাখ টাকার খামার। বেকারত্ব ঘুচাতে অনেকেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতরের খামার স্থাপন করে স্বাবলম্বী। ম্যাগপাই, বুডারবল, কৃষ্ণা, লক্ষ্যা, জগভিন, নান, বাগদাদী, রেইন, লালসিরাজী, সিলভার সিরাজী, জেকভিন, সাটিং, গ্রীবাজ, হোমাসহ নানা রং আর জাতের মূল্যবান কবুতর কেনা-বেচায় সপ্তাহে দু’দিন সাভার বাজারে বসে কবুতরের হাট। হাটে কবুতর খামারীদের বেশ সমাগম হয়। আর লেনদেন হয় বেশ কয়েক লাখ টাকার। সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জয়নাবাড়ী মহল্লায় স্বচ্ছল ব্যক্তি জয়নাল আবেদীন। মত্স্য চাষ ও নার্সারির পাশাপাশি তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করছেন কবুতর। বাড়ীর চার তলার ছাদে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তিনি গড়ে তুলেছেন কবুতর খামার। তার খামারে রয়েছে ম্যাগপাই, বুডারবল, কৃষ্ণা, লক্ষ্যা, জগভিন, নান, বাগদাদী, রেইন, লালসিরাজী, সিলভার সিরাজী, জেকভিন, সাটিং, গ্রীবাজ, হোমাসহ নানা রং আর জাতের কবুতর। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনি কবুতর সংগ্রহ করেছেন। 

নিজ বাড়ীর ছাদে তার প্রতি জোড়া কবুতর প্রকার ভেদে ৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যমানের। চার তলার ছাদে এবং পাঁচ তলায় আরামিটের টিন দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তিনি সুদৃশ্য খাঁচায় কবুতর পালন করছেন। তার খামারে রয়েছে প্রায় ২০০ জোড়া কবুতর। তিনি জানান, কবুতর পালন আশানুরূপ লাভজনক ব্যবসা। সাভার পৌর শহরের শাহীবাগ এলাকার এক তরুণের নাম আসিফ। আসিফ ৯ বছর আগে কিশোর বয়সেই শখের বশবতী হয়ে কবুতর পালন শুরু করে। শখ পূরণের স্বপ্ন থেকে আসিফ এখন অন্যদের স্বপ্ন দেখানোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নয় বছর আগে দু’জোড়া কবুতর থেকে এখন প্রায় ৩শ’ জোড়া কবুতরে পরিণত হয়েছে। একসময় আসিফ খোপে (বাক্সে) কবুতর পালন করলেও এখন তা আধুনিক রূপ পেয়েছে। খোপ পরিণত হয়েছে বড় বড় শেডে। শেডগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে পৃথক আধুনিক কেইজ (খাঁচা)। বর্তমানে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট্ট উঠানেই অনেকগুলো শেড তৈরি করে তাতে মাঁচা করে কবুতর পালন করছে আসিফ। সে জানায়, কবুতর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে প্রতি হাটেই কবুতর বিক্রি করতে হয়। কবুতর পালন করে প্রতিবছর খরচ বাদে প্রায় তিন লাখ টাকা সঞ্চয় করে আসিফ। সাভার বাসস্ট্যান্ডে উত্সব প্লাজার মালিক উদীয়মান ব্যবসায়ী ওবায়দুর রহমান অভি। তিনি নিজ মার্কেটের ছাদে গড়ে তুলেছেন পরিচ্ছন্ন কবুতর খামার। তার খামারে প্রায় ২০০ জোড়া কবুতর আছে। কবুতরগুলোর যত্ন করতে তিনি একজন কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন। রাজানশন জলপাই বাগান মহল্লায় কবুতর পালন করছেন বেশ কয়েক যুবক। তাদেরই একজন জয়। জয়ের খামারে কবুতর দিন দিন বেড়ে চলেছে। দু’জোড়া দিয়ে কবুতর পালন শুরু করলেও এখন তার খামারে কবুতরের সংখ্যা শতাধিক। 

সাভার উপজেলা পশুসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. ফরহাদুল আলম জানালেন, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অল্পদিনের ব্যবধানে অনেক তরুণ যুবক কবুতরের খামার করে স্বাবলম্বী। তবে এ ব্যাপারে সঠিক প্রশিক্ষণ না নিয়েই তারা কবুতরের খামার স্থাপন করায় শঙ্কার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, অনেক খামারিই কবুতরের রানিক্ষেত রোগ সম্পর্কে অবগত না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কবুতর খামার গড়তে উদ্যোগীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করতে পরামর্শ দেন তিনি।

কবুতর পালনের প্রাথমিক ধারণা

ভূমিকা:

পৃথিবীতে প্রায় ১২০ জাতের কবুতর পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় ২০ প্রকার কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের সর্বত্র এসকল কবুতর রয়েছে। বাংলাদেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শষ্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পূর্বে কবুতরকে সংবাদ বাহক, খেলার পাখি হিসাবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, সমৃদ্ধি, শোভাবর্ধনকারী এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হচেছ। এদের সুষ্ট পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়।

কবুতরের জাতঃ

মাংশ উৎপাদনকারী
রেসিং
ফ্লাইং
শোভাবর্ধনকারী
দেশী
ক) কিং- সাদা, কালো,
সিলভার, হলুদ ও নীল
ক) রেসিং
হামার
ক) বার্মিংহাম রোলারক) মালটেজক) সিরাজী
খ) কারনিউখ) হর্স ম্যান খ) ফ্লাইং টিপলার/ ফ্লাইং হোমারখ) ক্যারিয়ার খ) জালালী
গ) মনডেইন- সুইস, ফ্রেন্সগ)থাম্বলারগ) হোয়াইট ফাউন্টেলগ) বাংলা
ঘ) আমেরিকান জায়ান্ট হোমারঘ) কিউমুলেটঘ)টিম্বালারঘ) গিরিবাজ
ঙ) রান্ট ঙ) হর্স ম্যানঙ) পোটারস্‌ঙ) লোটন
 চ) নান্সচ) বোম্বাইছ) গোবিন্দ
দেশী এবং মাংশ উৎপাদনকারী কবুতর বাংলাদেশের সর্বত্র পালন হয়ে থাকে যা পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ করে তবে রেসিং, ফ্লাইং এবং শোভাবর্ধনকারী কবুতর শখের বসে বা বানিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করে থাকে।

কবুতর পালনের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীঃ

প্রাপ্ত বয়ষ্ক কবুতরের দৈহিক ওজন (জাতভেদে) ২৫০-৮০০ গ্রাম, প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার সময়কাল ৫-৬ মাস, কবুতর প্রতিবার ১ জোড়া ডিম দেয় (প্রথম ডিম দেয়ার প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর দ্বিতীয় ডিম দেয়), বাচ্চা উৎপাদনের বয়সকাল ৫-৬ বৎসর, ৪-৫ দিনে বাচ্চার চোখ ফোটে, ১৭-১৯ দিন বাচ্চা ফোটার জন্য ডিমে তা দেয়, ১০-১২ দিনে পালক গজায়, ২৮-৩০ দিন বাজারজাতকরণের বয়স, জীবনকাল ১৫-২০ বৎসর।

কবুতর পালনের সুবিধাঃ

  • বিনিয়োগ কম, প্রতিপালন অত্যন্ত সহজ এবং সংক্ষিপ্ত প্রজননকাল
  • বেকার যুবক এবং দুঃস্থ মহিলাদের আয় বর্ধনের উৎস হতে পারে
  • অল্প জায়গায় এবং অল্প খাদ্যে পালন করা যায় এবং রোগ বালাই কম
  • মাংস মুস্বাদু পুষ্টিকর, সহজে পাচ্য এবং প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পুরণের উৎস
  • মল জৈবসার হিসাবে ব্যবহার করা যায়

কবুতর পালন


কবুতরের বাসস্থানঃ

উত্তম নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং বায়ুচলাচল আছে এরূপ উঁচু এবং বালুময় মাটিতে কবুতরের ঘর করতে হবে, যা খামারীর আবাসস্থল থেকে ২০০-৩০০ ফুট দুরে এবং দক্ষিণমূখী হওয়া উচিত। মাটি থেকে ঘরের উচ্চতা ২০-২৪ ফুট এবং খাচার উচ্চতা ৮-১০ফুট হওয়া ভাল। একটি খামারের জন্য ৩০-৪০ জোড়া কবুতর আদর্শ। এরূপ ঘরের মাপ হবে ৯ ফুট ৮.৫ ফুট। কবুতরের খোপ ২-৩ তলা বিশিষ্ট করা যায়। এরূপ খোপের আয়তন প্রতিজোড়া ছোট আকারের কবুতরের জন্য ৩০ সে. মি.x ৩০ সে.মি.x ২০ সে.মি. এবং বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০ সে. মি.x ৫৫ সে.মি. x৩০ সে.মি.। ঘর স্বল্প খরচে সহজে তৈরী এবং স্থানান্তরযোগ্য যা কাঠ, টিন, বাঁশ, খড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা যায়। খামারের ভিতরে নরম, শুষ্ক খড়-কুটা রেখে দিলে তারা ঠোঁটে করে নিয়ে নিজেরাই বাসা তৈরী করে নেয়। ডিম পাড়ার বাসা তৈরীর জন্য ধানের খড়, শুকনো ঘাস, কচি ঘাসের ডগাজাতীয় দ্রব্যাদি উত্তম। খোপের ভিতর মাটির সরা বসিয়ে রাখলে কবুতর সরাতে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটায়।

খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ

বাচ্চা ফোটার ৪-৫ দিন পর কবুতরের বাচ্চার চোখ ফোটে। ফলে বাচ্চাগুলো কোন দানাদার খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনা। এসময় স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর তাদের পাকস্থলী (ক্রপ) থেকে ঘন ক্রীম বা দধির মত নিঃসরণ করে যাকে কবুতরের দুধ বলে। এ দুধ অধিক আমিষ, চর্বি এবং খনিজ লবণ সমৃদ্ধ যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে পারে। বাচ্চাগুলো নিজে খাদ্য গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর উভয়ে দানাদার খাদ্যের সাথে দুধ মিশিয়ে ঠোঁট দিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ায়।
  • কবুতরের জন্য তৈরীকৃত খাদ্য শর্করা, আমিষ, খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, চর্বি এবং খনিজ লবণ সমপন্ন সুষম খাদ্য হতে হবে। কবুতর ম্যাশ বা পাউডার খাদ্যের তুলনায় দানাদার জাতীয় খাদ্য বেশি পছন্দ করে।
  • ছোট আকারের কবুতরের জন্য ২০-৩০ গ্রাম, মাঝারী আকারের জন্য ৩৫-৫০ গ্রাম এবং বড় আকারের জন্য ৫০-৬০ গ্রাম খাদ্য প্রতিদিন দিতে হবে। দানাদার জাতীয় খাদ্যের মধ্যে গম, ধান, ভূট্টা, সরগম, ওট শতকরা ৬০ ভাগ এবং লেগুমিনাস বা ডাল জাতীয় খাদ্যের মধ্যে সরিষা, খেসারী, মাটিকলাই শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ সরবরাহ করতে হবে।
  • কবুতরের ভিটামিন সররাহের জন্য বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন ছাড়া সবুজ শাকসবজি, কচি ঘাস সরবরাহ করা প্রয়োজন।
  • প্রতিদিন ২ বার খাদ্য সরবরাহ করা ভাল। মাঝে মাঝে পাথর, ইটের কণা (গ্রিট) এবং কাঁচা হলুদের টুকরা দেয়া উচিৎ কারণ এ গ্রিট পাকস্থলীতে খাবার ভাঙতে এবং হলুদ পাকস্থলী পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
  • কবুতরের ডিম দেয়ার সময় গ্রিট মিশ্রণ বা খনিজ মিশ্রণ, ডিম এবং ডিমের খোসা তৈরী এবং ভাল হ্যাচাবিলিটির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এই খনিজ মিশ্রণ বোন মিল (সিদ্ধ) ৫%, ঝিনুক ৪০%, লাইম স্টোন ৩৫%, গ্রাউন্ড লাইম স্টোন ৫%, লবণ ৪%, চারকোল ১০% এবং শিয়ান রেড ১% তৈরী করতে হবে  ।

পানি সরবরাহঃ

প্রতিদিন গভীর বা খাদ জাতীয় পানির পাত্র ভালভাবে পরিষ্কার করে ৩ বার পরিষ্কার পরিচছন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা উচিত। দুই সপ্তাহ পর পর পটাশ মিশ্রিত পানি সরবরাহ করলে পাকস্থলী বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাঃ
খামার হতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার এবং রোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ন।
১। কবুতর উঠানোর আগে খামারসহ ব্যবহার্য্য সকল যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রথমে পানি দিয়ে পানির সাথে কার্যকরী জীবানুনাশক (০.২-০.৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড বা আয়োডিন দ্রবণ) মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
২। সুস্থ্য সবল কবুতর সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে বাহ্যিক পরজীবি নিধনের জন্য ০.৫% ম্যালাথিয়ন দ্রবণে কবুতরকে গোসল করিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কবুতরের মুখ এই দ্রবণে ডুবানো যাবে না। হাত দিয়ে মাথায় লাগিয়ে দিতে হবে। অন্তঃপরজীবি প্রতিরোধের জন্য কৃমিনাশক ঔষধ সেবন করাতে হবে।
৩। কবুতরের খোপ, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ সরবরাহের পাত্র, পানির পাত্র ও গোসল করার পাত্র এবং কবুতর বসার স্ট্যান্ড নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। জীবাণুমুক্ত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
৪। খামারে মানুষের এবং বন্য পাখি ও ইঁদুর জাতীয় প্রাণী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিবার খামারে প্রবেশ করার পূর্বে এবং খামার হতে বাহির হওয়ার সময় হাত ও পা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৫। কোন কবুতর অসুস্থ হলে দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে। অসুস্থ বা মৃত কবুতর এর রোগের কারণ জেনে অন্যান্য জীবিত কবুতরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
টিকা প্রদানঃ
খামারে রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কবুতরের প্রজননকালীন সময়ে প্যারেন্ট কবুতর গুলোকে রাণীক্ষেত রোগের মৃত টিকা প্রয়োগ করা উত্তম। টিকা প্রয়োগের কমপক্ষে ৩ সপ্তাহ পর বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিম সংগ্রহ করতে হবে। তবে বাচ্চা কবুতর উড়তে শেখার সাথে সাথেও টিকা প্রয়োগ করা যায়। জীবিত বা মৃত উভয় টিকাই প্রয়োগ করা যায়। জীবিত টিকা চোখে এবং মৃত টিকা চামড়ার নীচে বা মাংসপেশীতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম টিকা (জীবিত) প্রয়োগের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় বা বুস্টার ডোজ দিতে হবে।


কবুতরের রোগ বালাইঃ

বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু দ্বারা কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত খাদ্য এবং পানির মাধ্যমে জীবাণু কবুতরের দেহে প্রবেশ করে। তাছাড়া অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডাজনিত পীড়নের কারণেও অনেক সময় কবুতর দূর্বল ও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। কবুতরের সংক্রামক রোগ এবং ছত্রাকজনিত রোগ এছাড়া ভিটামিন বা খনিজ লবণের অভাব জনিত রোগ, বদহজম জনিত সমস্যা, গেঁটেবাত, অন্তঃপরজীবি যেমন কৃমি এবং বাহ্যিক পরজীবি যেমনঃ মাছি, উকুন ইত্যাদি দ্বারাও কবুতর আক্রান্ত হতে পারে।
রাণীক্ষেতঃ এ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কবুতর থেকে সুস্থ কবুতরে এ রোগের জীবাণুর বিস্তার ঘটে। এ রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ১০ ভাগ। সবুজ ডায়রিয়া এবং প্যারালাইসিস ইত্যাদি এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। কবুতরকে জীবিত বা মৃত টিকা প্রয়োগ এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
ইনক্লুশন বডি হেপাটাইটিসঅসুস্থ কবুতরের বমির সাহায্যে এ সংক্রামক রোগ খামারের অন্যান্য সুস্থ কবুতরে বিস্তার লাভ করে। এ রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৪০-১০০ ভাগ। দূর্গন্ধযুক্ত বাদামী বা সবুজ ডায়রিয়া, ঝিমানো, খাবারে অনীহা, শুকিয়ে যাওয়া, বমি করা এবং হঠাৎ মারা যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এ রোগের কোন চিকিৎসা না থাকার দরুণ আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে ফেলাই রোগের বিস্তার রোধ এবং প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
বসন্তঃ সাধারণত শরীরের পালকবিহীন অংশ যেমন- চোখ বা মুখের চারিদিক, পা ইত্যাদি জায়গায় এ রোগের ফোষ্কা বা গুটি দেখা যায়। আক্রান্ত কবুতরের চোখের পাতা ও চোখ ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়, (conjunctivitis) এবং পানি পড়ে। আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে উৎপনড়ব হওয়া ফোষ্কা বা গুটিগুলোকে প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার করে আয়োডিন যৌগ যেমনপভিতে সপ বা আয়োসান দিয়ে মুছে দিতে হবে। কোন চিকিৎসা না থাকার দরুণ খামারের জৈবনিরাপত্তা রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
সালমোনেলোসিসঃ আক্রান্ত পিতামাতা থেকে ডিমের মাধ্যমে এবং খাবার, পানি, খামারে ব্যবহৃত বিভিনড়ব যন্ত্রপাতি, কর্মরত শ্রমিক ও আগত অন্যান্য লোকজন, খাদ্য সরবরাহের গাড়ি, বন্যপ্রাণী যেমন ইদুঁর ইত্যাদির মাধ্যমে খামারে এ সংক্রমক রোগের প্রাদূর্ভাব ঘটে। শতকরা ৫-৫০ বা তারও বেশী কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত কবুতরের ডায়রিয়া, শুকিয়ে যাওয়া, পা এবং পাখায় প্যারালাইসিস এবং ডিম পাড়ার সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্ত কবুতর খামার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এসপারজিলোসিসঃ আক্রান্ত কবুতর থেকে শ্বাস প্রশ্বাস মাধ্যমে সুস্থ কবুতর আক্রান্ত হতে পারে। এ ছত্রাকজনিত রোগে মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। শ্বাস কষ্ট, ঝিমানো, শুকিয়ে যাওয়া, খাবারের প্রতি অনীহা, ওজন কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন পিপাসা পাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। কার্যকরী ছত্রাক বিরোধী ঔষধ যেমন Amphotericine দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। রোগ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত কবুতর খামার থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং খামারের জৈবনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
রক্ত আমাশয়ঃ বিভিন্ন প্রজাতির প্রটোজোয়া দ্বারা এ রোগ হতে পারে। সংক্রামিত খাবার, পানি বা লিটার থেকে মুখের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। রক্ত মিশ্রিত ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্ধা এবং ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের প্রধান লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত কবুতর কার্যকরী জীবাণুনাশক দিয়ে শেড ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং কঠোর জৈবনিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।
ক্যাঙ্কারঃ আক্রান্ত বয়ষ্ক পিতামাতা কবুতর থেকে দুধের মাধ্যমে বাচ্চায় প্রটোজোয়া এ রোগের সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্ত জীবিত কবুতর সারাজীবন এ রোগের জীবাণু বহন করে। মৃত্যুহার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। আক্রান্ত  কবুতর অস্থির থাকে, পাখা উশকু-খুশকু হয়ে যায়, খাদ্য গ্রহণ কমে যায় এবং ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়। আক্রান্ত কবুতরের মুখের চারিদিকে সবুজাভ বা হলুদ লালা লেগে থাকে। আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। এই রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
কবুতর পালনে আর্থিক লাভঃ
৩০ জোড়া উন্নত বা সৌখিন জাতের কবুতর পালনে প্রাথমিকভাবে ১,৯৫,২০০ /- টাকা বিনিয়োগ করে এক বৎসরে ১,০৫,৩০০ /- টাকা লাভ করা যায়। তবে ৩০ জোড়া দেশী জাতের কবুতরের পালনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫,৪০০ /- টাকা বিনিয়োগ করে এক বৎসরে ৪,৬০০/- টাকা লাভ করা যায়। পরবর্তীতে স্থায়ী খরচের (ঘর, পানি পাত্র, বালতি, মগ, কবুতরের খোপ, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ সরবরাহের পাত্র, ও গোসল করার পাত্র এবং কবুতর বসার স্ট্যান্ড) দরকার হয় না । ফলে পরবর্তীতে লাভ বেশী হয়।
পোস্টটির মূল অংশ এখান থেকে নেয়া।